একই নামের অন্য জলিলকে গ্রেপ্তার, ১৮ দিন পর জামিন, ওসি বললেন ‘ভুল হয়েছে’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বরিশাল

অভিযুক্ত আসামী মো. জলিল হাওলাদার(ডানে) ও নির্দোষ মো. জলিল হাওলাদার(বামে) । স্ট্রিম গ্রাফিক
অভিযুক্ত আসামী মো. জলিল হাওলাদার(ডানে) ও নির্দোষ মো. জলিল হাওলাদার(বামে) । স্ট্রিম গ্রাফিক

অর্থ প্রতারণা মামলার প্রকৃত আসামির বদলে একই নামের অন্য ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে মহিপুর থানা-পুলিশের বিরুদ্ধে। ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ১৮ দিন কারাভোগের পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালীর আদালত মো. জলিল হাওলাদারকে জামিন দিয়েছেন।

জলিল হাওলাদার (৪৭) মহিপুর থানার কলাপাড়ার বিপিনপুর-শিববাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় জেলে। তাঁর বাবার নাম আবদুল মালেক হাওলাদার ও মায়ের নাম হালিমা খাতুন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর বয়স ৪৭ বছর। গত ১৯ আগস্ট শিববাড়িয়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে একই গ্রামের আবদুল মালেক হাওলাদারের ছেলে মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ২৩ মে অর্থ প্রতারণার মামলা করেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার সেহাকাঠির বাসিন্দা আলমগীর হোসেন। মামলায় ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি ওই জলিলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার প্রকৃত আসামির বয়স ৩৫ বছর এবং তাঁর মায়ের নাম মাজেদা বেগম। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও আলাদা। পরিবারের দাবি, তিনি ২০২৩ সালে সৌদি আরবে যাওয়ার পর আর দেশে ফেরেননি। তবে নাম, বাবার নাম ও গ্রামের মিল থাকায় গত ১৯ আগস্ট পুলিশ অন্য জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার হওয়া জলিলের মেয়ে জেসমিন আক্তারের অভিযোগ, তাঁর বাবার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই সেটি গ্রেপ্তারের সময় পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। স্থানীয় লোকজনও পুলিশকে ভুলের বিষয়ে অবহিত করেছিলেন। তবে তাদের আপত্তি আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জলিলের আইনজীবী হুমায়ুন কবীর বাদশা বলেন, মামলার প্রকৃত আসামি প্রবাসে রয়েছেন। নাম, বাবার নাম ও গ্রামের মিল থাকায় ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সোমবার আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে জলিলকে জামিন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মহিপুর থানার ওসিকে পরবর্তী ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ‘জলিল হাওলাদার নামে এক হাজতি আজ বিকেলে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।’

পুলিশের ভুলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন মহিপুর থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘নাম, বাবার নাম ও গ্রামের মিল থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর জলিলের জামিনের জন্য আইনজীবী নিয়োগসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত