ফারুক ওয়াসিফের লেখা/বদরুদ্দীন উমর, তাঁর গণঅভ্যুত্থানবাদ এবং আহমদ ছফা যাঁকে পেয়েও হারান

যে রাষ্ট্রের শাসকশ্রেণি শক্তিশালী, সেই রাষ্ট্রের ইতিহাস-লিখনও শক্তিশালীই হয়। তারা সেই ইতিহাসের ঘেরাটোপের মধ্যে কেবল নিজ রাষ্ট্রের আওতার মানুষদেরই যদি আটকে রাখত, তবে নিম্ন-মধ্য ক্ষমতার রাষ্ট্র বাংলাদেশের বিশেষ সমস্যা ছিল না। মুশকিল হলো, বৃহৎ ভারতীয় মতাদর্শের ইতিহাসের তালুকদারি সেই রাষ্ট্রের বাইরেও প্রসারিত। বাংলাদেশের বাঙালি জাতীয়তাবাদ জন্মাবধি সেই বৃহৎ ভারতীয় জাতীয়তাবাদী ইতিহাসের বয়ানকেই মান্য করে গেছে। এটাই বাংলাদেশের ইতিহাস রচনার মৌলিক এক ব্যাধি।
রাজনৈতিক তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমরের আজীবনের সাধনা ছিল বাংলাদেশ তো বটেই, উপমহাদেশের মানুষের সংগ্রামের ইতিহাসকে ভারতীয় রাষ্ট্রবাদী ইতিহাসের খপ্পর থেকে বের করে আনা। তাঁর শতাধিক গ্রন্থ এই লড়াইয়ে সামিল। আর ব্যক্তি উমর তো আমৃত্যু বৃহৎ ভারতীয় মতাদর্শে মজে থাকা বুদ্ধিজীবীদের দুধে-ভাতে উৎপাত শুধু না, রীতিমতো বঙ্গোপসাগরীয় ঘূর্ণিঝড় চালিয়ে গিয়েছেন। আর এই কাজ করতে গিয়ে নিজের শ্রেণি সংগ্রামী, মার্কসবাদী এবং অসাম্প্রদায়িক মতাদর্শের সঙ্গে আপস করতে হয়নি। চিন্তা, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনে উমরকে স্ববিরোধিতায় পড়তে হয়নি। তাঁর পথ তাই সরল পথ।
বদরুদ্দীন উমরকে বলা যায় আওয়ামী-ভারতীয় মতাদর্শের অ্যান্টিথিসিস। এ প্রস্তাবের পক্ষে দুটি প্রমাণ দেব। এক. উমরের গণঅভ্যুত্থান তত্ত্বই ফলে গেল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে। উমর বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় গণঅভ্যুত্থানে গণবিরোধীদের পরাস্ত না করে কোনো নির্বাচন সুফল দেবে না। প্রমাণ ১৯৬৯ ও ১৯৯১। প্রতিবিপ্লবী ১/১১ সরকারের দেওয়া নির্বাচনে গণতন্ত্র ফেরেনি, বরং ফ্যাসিবাদেরই গোড়াপত্তন হয়েছিল।
বিএনপি যে ২০১৪ ও ২০২৪ এর ভোট বর্জন করেছিল, সেটাও হয়তো ওই লাইনেরই চিন্তার ফল। কিন্তু উমর আরও এগিয়ে বলেছিলেন, কেবল তত্ত্বাবধায়ক সরকার বানালেই নির্বাচন সুফল দেবে না। তার আগে দরকার হবে গণঅভ্যুত্থান। এ বিষয়ে তাঁর ‘নির্বাচন না গণঅভ্যুত্থান’ বইয়ে বিস্তারিত আছে।
দ্বিতীয় প্রমাণ: আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদ হিসেবে প্রথম উমরই চিহ্নিত করেন এবং সেই চোখেই তিনি গত ৪ যুগ ধরে তাদের বিচার করে গেছেন। আওয়ামী লীগের বাঙালি জাতীয়তাবাদের খণ্ডন উমর করে গেছেন সারা জীবনের কাজে। ভাষা আন্দোলনের নেতা হিসেবে শেখ মুজিবকে বসানো যায়নি, উমরের অকাট্য গবেষণা পুস্তক ও লেখালেখির জন্য। আওয়ামী লীগের বাঙালি জাতীয়তাবাদ যে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের অধীনস্ত সেই ভাবনাটাও তাঁরই। দেশভাগের দায় যে মুসলমানদের না, বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি (১৯৭৩) বইয়ে তা দেখান—জয়া চ্যাটার্জির এ বিষয়ে গবেষণা প্রকাশেরও অনেক আগে।
মুক্তিযুদ্ধের নির্ভরযোগ্য ইতিহাস রচনা ( ইমারজেন্স অব বাংলাদেশ দুই খণ্ড ২০০৪ ও ২০০৬) তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা কাজ। ৭ মার্চে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, ২৫ মার্চে মুজিব আত্মসমর্পণ করেছেন, আওয়ামী লীগের বড় অংশই মুক্তিযুদ্ধে অনুপস্থিত, আওয়ামী লীগ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বাহন, এসব উমর ৭২ সাল থেকেই বলে আসছেন। ভারত প্রশ্ন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করে বাংলাদেশ যে আগাতে পারবে না, এ ব্যাপারে উমর কট্টর ছিলেন (দেখুন তাঁর বই ‘ভারত প্রশ্ন প্রসঙ্গে)। উমর মনে করেন বাংলাদশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নেই, তবে তাঁর ভাষায় শক্তিশালী ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীলতা আছে।
২০২৪ এর জুলাইয়ের আন্দোলন যে গণঅভ্যুত্থান এবং এটা যে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান কেন উপমহাদেশের সকল গণঅভ্যুত্থানের চেয়ে বড় ঐতিহাসিক ঘটনা, এই জ্ঞান তিনিই প্রথম বণিক বার্তায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন ২৮ জুলাই, প্রকাশ ২৯ জুলাই। এরপরে ৩ আগস্টেও এই লেখককে দেওয়া সমকালের সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার পরিণতি নিয়ে যা বলেন, তা দুদিন পরে তা সঠিক প্রমাণিত হয়।
তবে উমরের স্বপ্নের কৃষক-শ্রমিকের গণঅভ্যুত্থান এটা নয়। এই গণঅভ্যুত্থান ছিল উঠতি মধ্যবিত্তের তরুণদের সঙ্গে শহুরে শ্রমজীবিদের মিলিত সংগ্রাম। উমরের তত্ত্বকাঠামোয় যে মধ্যবিত্তকে পেটি-বুর্জোয়া সুবিধাবাদী বলে দেখা যায়, তারাই কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল কর্তাশক্তি। আবার অবিকশিত দশার কারণে এই নেতৃত্ব দ্রুতই পুরনো বন্দোবস্তের সঙ্গে আপসে নেমে পড়লে উমর তাদের কঠোর সমালোচনা করার দায়িত্বটা পালন করেন।
২.
পশ্চিম বাংলা থেকে কৃষক সংগ্রাম, দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তর–একাত্তর পেরিয়ে বাংলাদেশ অবধি হেঁটেছেন উমর। তিনি এদিক থেকে একমাত্র যে, ডান–বাম সবাই তাঁর চিন্তা দিয়ে কমবেশি প্রভাবিত হলেও তিনি এদের কারোরেই পুরোটা মনঃপূত নন। ঊনিশ শতকে কলকাতা যে ধরনের স্বাধীন মনীষা জন্ম দিতে গিয়েও পারেনি, স্বাধীন বাংলাদেশে উমর সেটাই হয়ে উঠেছেন।
অথচ সমালোচকেরা এখনো তাঁর বিপুল রচনাবলীর সঙ্গে ফয়সালা করে উঠতে পারেননি। কেউ উপেক্ষা করেছেন, কেউ করেছেন ভিত্তিহীন সন্দেহ। এজন্যই তাঁকে ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদী বদনামও শুনতে হয়েছে। বড় অদ্ভূত কথা তো! ১৯৭২ সালে তিনি নিবন্ধ লেখেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি’। তখনো বিএনপি জন্মাবে, এমন কল্পনাও কারও ছিল না। এই লেখায় তিনি বাংলাদেশের বাঙালি জাতীয়তাবাদকে বাঙালি মুসলিম জাতীয়তাবাদ বলে চিনিয়ে দেন। বলেন, এটা আসলে নতুন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। বাংলাদেশে যদি কোনো জাতীয় সংহতির চেতনা থেকে থাকে, সেটা যে এই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, উমর সবার আগে তা শনাক্ত করেন ওই প্রবন্ধে। একইসঙ্গে সমালোচনাও করেন। তাঁকে তাই বাঙালিবাদী বলা অন্যায়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ একাত্তরে যা ছিল, আর ভারতপন্থী বুদ্ধিজীবীদের হাতে তার যে অন্তিম দশা হয়েছে, উমর দুটোরই ঘোরতর বিরোধী।
যে তাত্ত্বিক তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে মুসলিম জাতীয়তাবাদ, হিন্দু জাতীয়তাবাদ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের একরোখা সমালোচনা করে গেছেন, তিনি জাতীয়তাবাদী হবেন কী করে? শ্রেণি প্রশ্নে যিনি মারাত্মকরকম অনাপসী, মুক্তিযুদ্ধকে যিনি শ্রেণির নিরিখে বিচার করেন, আওয়ামী জাতীয়তাবাদী দাবি ও তার ইতিহাসকে যিনি সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে গেছেন, তাঁকে জাতীয়তাবাদী বলা আসলে উমরকে পাঠ না করার সমস্যা।
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে তিনি জাতীয়তাবাদীদের সর্বগ্রাসী থাবা থেকে বাঁচিয়েছেন তাঁর তিন খণ্ড বই দিয়ে। বাংলাদেশের অবাঙালী জাতিগুলির পক্ষে থেকেছেন লেখায় ও আন্দোলনে। চর্চা করে গেছেন সাম্যবাদী আন্তর্জাতিকতাবাদের। তাঁকে জাতীয়তাবাদী ঠাউরানো আর লর্ড ক্লাইভকে বাংলাপ্রেমিক বলা সমান হয়ে যায়।
সাম্প্রদায়িকতার বুঝ তৈরি করা কিংবা রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের সমালোচনা করা মানে তো জাতীয়তাবাদী না। বাকশালকে যিনি ফ্যাসিবাদী বলে থাকেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় কমিটি যিনি গঠন করেন, তাঁকে চিনতে পারা তো কঠিন হবার কথা ছিল না।
আরেকটা কথা শোনা যায়, উমর নাকি দেশভাগের জন্য কেবল মুসলিম লীগকে দায়ী করেছেন। জয়া চ্যাটার্জির বইয়েরও বহু আগে লেখা হয় তাঁর ‘বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ (১৯৭৩)। সেখানে তিনি কংগ্রেস ও হিন্দু ভদ্রলোকদের রাজনীতিকেই বঙ্গভঙ্গের জন্য দায়ী বলে দেখান। তাঁর ‘ভারতীয় জাতীয় আন্দোলন’ (১৯৮৪) বইটাও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের উপযুক্ত ক্রিটিক। আরও পরে এ বিষয়ে লিখবেন ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ পেরি অ্যান্ডারসনের দি ইনডিয়ান আইডিওলজি। যাহোক, আমরা উপেক্ষা করতে পারি তাঁকে, কিন্তু বদনাম দিতে পারি না।
একদিকে আওয়ামী জাতীয়তাবাদী ও মুসলিম জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবিতা আরেকদিকে একা তিনি।
বদরুদ্দীন উমর একাই বৃহৎ ভারতীয় জাতীয়তাবাদ, বাঙালী জাতীয়তাবাদ ও ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক ব্যাধির প্রতিষেধক। আমাদের ঢাকার ষাটের রেনেঁসার প্রতিভূ পুরুষ, আজীবন সংগ্রামী, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের শীর্ষ বিশ্লেষক বদরুদ্দীন উমর। সমগ্র সুবিধাবাদী–পরজীবী প্রগতিশীলতার বিষের প্রতিষেধক তাঁর লেখনী। এজন্যই আর কারও স্বীকৃতি উমরের দরকার হয় না।
৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্পাদনা করছেন প্রবন্ধ পত্রিকা মাসিক ‘সংস্কৃতি’। বাংলা রাজনৈতিক গদ্যে উমরের তুলনা সমকক্ষ বাংলা ভাষায় বিরল। এই গদ্য বাদামের মতো শুকনা এবং আচারের মতো চমকপ্রদ। তাঁর ভাষার খোঁচা ও কৌতুক এক উপভোগ্য ব্যাপার। তাঁর সমাজতাত্ত্বিক চিন্তা ইতালিয় মার্কসবাদী, সাবঅল্টার্ন তত্ত্বের জনক আন্তোনিও গ্রামসির ধারার। ঊনিশ শতকে কলকাতা যে ধরনের স্বাধীন মনীষা জন্ম দিতে গিয়েও পারেনি, স্বাধীন বাংলাদেশে উমর সেটাই হয়ে উঠেছেন। তাঁর চিন্তাধারা থেকেই ইলিয়াস ও ছফার রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশ। দুজন যদিও পরে পুরোটা উমরের ধারায় থাকেননি, তবে উমরীয় সাংস্কৃতিক বীক্ষা এঁদের বুদ্ধিবৃত্তির মজ্জায় রস দিয়েছিল।
উমর অসন্তুষ্ট, রাগী, নিরাপসী ও অসম্ভব মর্যাদা নিয়ে সৎ। তিনি শুধু বাংলা একাডেমী পুরস্কারই প্রত্যাখ্যান করেননি, আইয়ূব খানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা ছেড়ে বিপ্লবে নেমে পড়েছিলেন। একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে আওয়ামী–ভারতীয় চিন্তার বাইরে বাংলাদেশপন্থী জনগণতান্ত্রিক চিন্তাটা তাঁরই। তাঁর মতো জেদি মানুষের রাজনৈতিক নেতা হওয়ার দরকার ছিল না, সাঁত্রে বা চমস্কির মতো তিনি একাই একটি প্রতিষ্ঠান।
বদরুদ্দীন উমরের চিন্তার শিরদাঁড়া এত যে সবল ও সরল তার কারণ জন্মেছে তাঁর মুক্তিকামী বিপ্লবী রাজনীতির মধ্যে, যুবক বয়সে নেওয়া অঙ্গীকার থেকে না সরার জিদের মধ্যে। বহু সাথি ও অনুসারি তাঁর কক্ষপথ থেকে খসে গেছেন, কিন্তু নক্ষত্রের মতোই তিনি সকল গ্রহ-উপগ্রহের টান এড়িয়ে নিজের রচিত পথেই থেকেছেন।
আহমদ ছফা সরু চোখে দেখতে গিয়ে ‘বাঙালী মুসলমানের মন’ প্রবন্ধে স্বজাতির মধ্যে কেবল হীনম্ম্যন্যতাই দেখেছেন। খোলা চোখে দেখলে যা দেখতে পেতেন তার দেখা উমর পেয়েছিলেন। উমর এই পূর্ব বাংলার জনগণের উপনিবেশ ও জমিদার বিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে ৫২-৬৯-৯০-২৪ এর গণসংগ্রামের মধ্যে এই দেশের সাধারণ মানুষের যুগান্তকারী ইতিহাস নির্মাণের মাইলফলক দেখেছেন। তাদের জয়-পরাজয়ের সমব্যথী থেকেছেন। ছফা ঊনিশ শতকের কলোনিয়াল কলকাতার মতো ব্যক্তিপুরুষ খুঁজেছেন, উমর সেইসব ব্যক্তিপুরুষদের মহিমা খুলে ফেলে তাঁদের সীমাটা দেখিয়ে দিয়েছেন। দেখে দেখে শেষে মহাপুরুষদের ছেড়ে জনগণকেই তাঁর ইতিহাসের নায়ক বানিয়েছেন। আহমদ ছফা তাঁর দৃষ্টি যদি আরেকটু কাছে ফেলতেন, তাহলে হয়তো তাঁর গুরু বদরুদ্দীন উমরের মধ্যে সেই কাঙ্খিত মুক্তিকামী ‘মহাপুরুষের’ দেখা পেতেন।
বালক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কলোনিয়াল কলকাতামুখী মাইলফলক দেখে দেখে গুণতে শিখেছিলেন, আমাদের কাজ হলো উমরের স্থাপন করা ঐতিহাসিক মাইলফলকগুলো বুঝে বুঝে নতুন ইতিহাস রচনা করা এবং তাঁকেও ছাপিয়ে যাওয়া। বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে এই বাসনাই রাখি।
- ফারুক ওয়াসিফ: কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক
.png)






