মায়ের প্রতি অবহেলা: যুগ্ম-সচিবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে মন্ত্রণালয়

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

আইন অনুযায়ী যুগ্ম-সচিব ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। স্ট্রিম গ্রাফিক

রাজধানীর মিরপুরে এক বৃদ্ধার গলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর যুগ্ম-সচিব ছেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পিতামাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

আজ বুধবার (৩ জুন) তিনি বলেন, 'পিতামাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩ অনুযায়ী ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আমরা বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছি।'

গত রোববার রাতে (৩১ মে) মিরপুর-১১ নম্বরের একটি বাসা থেকে নূরজাহান বেগমের (৭২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নূরজাহান বেগমের এক ছেলে যুগ্ম-সচিব এবং অন্যজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। তবে তাঁরা কেউ মায়ের সঙ্গে থাকতেন না। বৃদ্ধা থাকতেন তাঁর মেয়ের বাসায়, যিনি স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক। ফ্ল্যাটের এক কক্ষে মেয়ে এবং অন্যটিতে মা থাকতেন। তবে পাশের কক্ষে থাকলেও মায়ের মৃত্যুর খবর টের পাননি মেয়ে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, বৃদ্ধার কক্ষটি ছিল বসবাসের অযোগ্য এবং চারদিকে ময়লা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। দীর্ঘ দিন ধরে কক্ষটি পরিষ্কার করা হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো ঘরজুড়ে ময়লা-আবর্জনা ও ছত্রাক জন্মেছিল। বিছানার ওপরই পড়ে ছিল বৃদ্ধার মরদেহ।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, মরদেহটিতে পচন ধরে মাংস খুলে পড়ছিল এবং পোকা ধরে গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

উচ্চপদস্থ ও প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও ছেলেরা মায়ের খোঁজ রাখতেন না বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন। পরে মায়ের প্রতি সন্তানদের অবহেলার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

ভরণপোষণ আইনে কী আছে

বাংলাদেশের আইনে বৃদ্ধ মা-বাবার খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বসবাসের সুবিধা এবং সঙ্গ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ‘পিতামাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩’-এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক সন্তানকে তাঁর মা-বাবার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং একাধিক সন্তান থাকলে প্রত্যেকে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে এটি নিশ্চিত করবে।’

আইনে আরও বলা হয়, 'ভরণপোষণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে পিতামাতার সঙ্গে একই স্থানে বসবাস করতে হবে।'

বৃদ্ধাশ্রম প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, 'কোনো সন্তান তাঁর পিতামাতাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করতে পারবে না। প্রত্যেক সন্তান পিতামাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা করবে।'

আলাদা বসবাসের ক্ষেত্রে সন্তানকে নিয়মিত মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে হবে এবং নিয়মিত অর্থ প্রদান করতে হবে।

আইন না মানলে সাজা

আইন অনুযায়ী মা-বাবার ভরণপোষণ না দেওয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই অপরাধের বিচার করতে পারেন। আইনের ৫ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ৩ ও ৪ ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা অনাদায়ে অনূর্ধ্ব ৩ মাস কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত