জুলাই গণঅভ্যুত্থান
তৌফিক হাসান

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে সামনের কাতারে ছিলেন নারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের তালা ভাঙা থেকে শুরু করে তৎকালীন ছাত্রলীগের নৃশংস হামলার শিকার হওয়া—সব ক্ষেত্রেই তাঁদের অবস্থান ছিল শীর্ষে। এখন অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বৈষম্যেও শীর্ষে রয়েছেন এই নারীরা।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন নারী আন্দোলনকারীর সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। নারী আন্দোলনকারীদের মতে, অভ্যুত্থানের পরে যখন ক্ষমতার প্রশ্ন সামনে এল, তখনই নারীদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করা হলো।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনের মতে, রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের ভূমিকা রাখার মতো অবস্থান অত্যন্ত সীমিত। তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে নারীদের ছাড়া আন্দোলন সর্বজনীন চেহারা পেত না। তাদের কারণে সব শ্রেণিপেশার মানুষ আন্দোলনের ওপর ভরসা-বিশ্বাস করতে পেরেছে। তবে অভ্যুত্থানের পরে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের ভূমিকার ব্যাপারে সচেতন হওয়ার দরকার ছিল।’
কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের এজিএস শিমু আক্তারের মতে, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নারীদের যে স্বপ্ন পূরণ হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীরা ছিল সম্মুখ সারিতে এবং বৈষম্যবিরোধী নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়েই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু গত দুই বছরে নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণের ব্যাপারে কাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তি আসেনি।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরাই বেশি মাঠে ছিল। এটা একটা বিশাল ব্যাপার। কিন্তু ওদের ভেতর যে স্পিরিটটা ছিল, সেই স্পিরিটটা এই সমাজের কারণে দমে গেছে।’
২০২৪ সালের ১৪ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ উক্তি ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওই রাতে হল গেটের তালা ভেঙে মিছিলে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের নারী শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে হাসিনা সরকারের পতন পর্যন্ত সামনে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে গেছেন নারী শিক্ষার্থীরা। তবে সরকারের পতনের পর যখন ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্ন আসে, তখন থেকেই আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীরা বৈষম্যের সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এরকম কয়েকজন নারী আন্দোলনকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনলাইনে সাইবার হ্যারাসমেন্ট, বুলি কিংবা অফলাইনে নানাভাবে হেনস্থা করার মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থানের পর থেকেই নারীদের পিছিয়ে রাখা হচ্ছিল; যা এখনো চলছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমাও মনে করেন, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নারী নেত্রীদের পরিকল্পিতভাবেই দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তা করা হয়েছে ক্ষমতার প্রশ্নকে সামনে রেখেই।
উমামা বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে নারীরা অনেক সংগঠিত শক্তি আকারে সামনে ছিল। পরে খুব পরিকল্পিতভাবে তাদের দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতারা মনে করেছিলেন যে, নারীরা কথা বলা ছাড়া আর বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখে না। এজন্য নারীদের নানারকমভাবে কোণঠাসা করে ফেলা হয়েছে।’
এই অভিযোগের সঙ্গে সামান্তা শারমিনও একমত। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে নিষ্পেষণটা নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ওপর ছিল। তাই তাদের অংশগ্রহণটাও বেশি ছিল এই অভ্যুত্থানের সময়। কিন্তু নারী-পুরুষকে আমরা সমাজে কীভাবে দেখতে চাই, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা নারীদের ব্যাকডেটেড জায়গা থেকে ভাবে। তাই নারীদের কথা বলার স্পেসটা অনেক সংকুচিত হয়ে যায়।’
জুলাইয়ের সম্মুখ সারির নারীরা কী করে পরবর্তীতে দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গেল? কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের এজিএস শিমু আক্তার মনে করেন, এর অন্যতম হলো ‘নারীদের হেনস্থা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশভীতি ও পারিবারিক চাপ।’
জুলাই আন্দোলনের পর নারীদের প্রতি বৈষম্য কমেনি। সেই হতাশা থেকে অনেক নারী আন্দোলনকারী এ নিয়ে কথা বলতেও অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
২০২৪ সালের ১৫ জুলাই আন্দোলনে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সিনথিয়া মেহরিন সকাল। এখন তিনি রোকেয়া হল সংসদের জিএসের দায়িত্ব পালন করছেন।
সিনথিয়া মেহরিন সকাল স্ট্রিমকে বলেন, ‘জুলাই নিয়ে কথা বলতে আমি আর ইন্টারেস্টেড না। এই বিষয়ে যারাই কথা বলতে এসেছেন, আমি সবাইকে না করে দিয়েছি। আমার জুলাই নিয়ে আর কোনো কিছু বলার নাই।’
কেন বলার নেই জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমনিতে আমার এগুলা নিয়ে আর কথা বলতে ভালো লাগে না। অন্য কোনো কারণ নাই, এমনিতে আমার ভালো লাগে না।’
একই কথা জানান সেদিন রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে ছাত্রলীগের লাঠিপেটার শিকার হওয়া সানজিদা আহমেদ তন্বি। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী নই। আমার পরীক্ষা আছে, ব্যস্ততাও আছে।’
তবে উমামা ফাতেমার মতে, হতাশা নয় সংঘবদ্ধ হয়েই নারীদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এখানে যেহেতু সংঘবদ্ধ শক্তি ছাড়া কোনো ধরনের অধিকার আদায় করা সম্ভব হয় না, তো নারীরা যদি নিজেদের মধ্যে সংঘবদ্ধ না থাকে, নিজেদের ফোর্সগুলো অ্যাপ্লাই না করে, তাহলে সামাজিক পরিসর ও রাজনৈতিক পরিসরেও নারীদের অবস্থানটা দুর্বল হবে।’
শারমীন এস মুরশিদ বলেন, ‘মেয়েদের এখন যেটা করতে হবে, সেটা হচ্ছে অভিমানের জায়গাটা ভাঙতে হবে। এখানে অভিমানের জায়গা নেই। তাদের নিজেদের জায়গাটা নিজেদের তৈরি করতে হবে। আর মেয়েরা সংযুক্ত না হলে নতুন বন্দোবস্ত কোনো দিন তৈরি হবে না। সেটার জন্য এখন প্রস্তুতি নিতে হবে। আগামী আন্দোলন সেদিকেই যাবে।’
তবে সামান্তা শারমিনের মতে, শুধু অভ্যুত্থান নয়, সব জায়গা থেকে চাপ সৃষ্টি করে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় না যে অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই শুধু এটা সমাধান হয়েছে বা হবে। এটা নিয়ে নানা জায়গা থেকে আমাদেরকে প্রেশার করতে হবে এবং সামাজিক যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে বা ফোরামগুলো আছে, তাদেরকেও এগুলো নিয়ে সোচ্চার হতে হবে।’

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে সামনের কাতারে ছিলেন নারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের তালা ভাঙা থেকে শুরু করে তৎকালীন ছাত্রলীগের নৃশংস হামলার শিকার হওয়া—সব ক্ষেত্রেই তাঁদের অবস্থান ছিল শীর্ষে। এখন অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বৈষম্যেও শীর্ষে রয়েছেন এই নারীরা।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন নারী আন্দোলনকারীর সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। নারী আন্দোলনকারীদের মতে, অভ্যুত্থানের পরে যখন ক্ষমতার প্রশ্ন সামনে এল, তখনই নারীদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করা হলো।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনের মতে, রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের ভূমিকা রাখার মতো অবস্থান অত্যন্ত সীমিত। তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে নারীদের ছাড়া আন্দোলন সর্বজনীন চেহারা পেত না। তাদের কারণে সব শ্রেণিপেশার মানুষ আন্দোলনের ওপর ভরসা-বিশ্বাস করতে পেরেছে। তবে অভ্যুত্থানের পরে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের ভূমিকার ব্যাপারে সচেতন হওয়ার দরকার ছিল।’
কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের এজিএস শিমু আক্তারের মতে, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নারীদের যে স্বপ্ন পূরণ হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীরা ছিল সম্মুখ সারিতে এবং বৈষম্যবিরোধী নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়েই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু গত দুই বছরে নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণের ব্যাপারে কাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তি আসেনি।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরাই বেশি মাঠে ছিল। এটা একটা বিশাল ব্যাপার। কিন্তু ওদের ভেতর যে স্পিরিটটা ছিল, সেই স্পিরিটটা এই সমাজের কারণে দমে গেছে।’
২০২৪ সালের ১৪ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ উক্তি ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওই রাতে হল গেটের তালা ভেঙে মিছিলে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের নারী শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে হাসিনা সরকারের পতন পর্যন্ত সামনে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে গেছেন নারী শিক্ষার্থীরা। তবে সরকারের পতনের পর যখন ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্ন আসে, তখন থেকেই আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীরা বৈষম্যের সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এরকম কয়েকজন নারী আন্দোলনকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনলাইনে সাইবার হ্যারাসমেন্ট, বুলি কিংবা অফলাইনে নানাভাবে হেনস্থা করার মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থানের পর থেকেই নারীদের পিছিয়ে রাখা হচ্ছিল; যা এখনো চলছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমাও মনে করেন, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নারী নেত্রীদের পরিকল্পিতভাবেই দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তা করা হয়েছে ক্ষমতার প্রশ্নকে সামনে রেখেই।
উমামা বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে নারীরা অনেক সংগঠিত শক্তি আকারে সামনে ছিল। পরে খুব পরিকল্পিতভাবে তাদের দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতারা মনে করেছিলেন যে, নারীরা কথা বলা ছাড়া আর বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখে না। এজন্য নারীদের নানারকমভাবে কোণঠাসা করে ফেলা হয়েছে।’
এই অভিযোগের সঙ্গে সামান্তা শারমিনও একমত। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে নিষ্পেষণটা নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ওপর ছিল। তাই তাদের অংশগ্রহণটাও বেশি ছিল এই অভ্যুত্থানের সময়। কিন্তু নারী-পুরুষকে আমরা সমাজে কীভাবে দেখতে চাই, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা নারীদের ব্যাকডেটেড জায়গা থেকে ভাবে। তাই নারীদের কথা বলার স্পেসটা অনেক সংকুচিত হয়ে যায়।’
জুলাইয়ের সম্মুখ সারির নারীরা কী করে পরবর্তীতে দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গেল? কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের এজিএস শিমু আক্তার মনে করেন, এর অন্যতম হলো ‘নারীদের হেনস্থা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশভীতি ও পারিবারিক চাপ।’
জুলাই আন্দোলনের পর নারীদের প্রতি বৈষম্য কমেনি। সেই হতাশা থেকে অনেক নারী আন্দোলনকারী এ নিয়ে কথা বলতেও অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
২০২৪ সালের ১৫ জুলাই আন্দোলনে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সিনথিয়া মেহরিন সকাল। এখন তিনি রোকেয়া হল সংসদের জিএসের দায়িত্ব পালন করছেন।
সিনথিয়া মেহরিন সকাল স্ট্রিমকে বলেন, ‘জুলাই নিয়ে কথা বলতে আমি আর ইন্টারেস্টেড না। এই বিষয়ে যারাই কথা বলতে এসেছেন, আমি সবাইকে না করে দিয়েছি। আমার জুলাই নিয়ে আর কোনো কিছু বলার নাই।’
কেন বলার নেই জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমনিতে আমার এগুলা নিয়ে আর কথা বলতে ভালো লাগে না। অন্য কোনো কারণ নাই, এমনিতে আমার ভালো লাগে না।’
একই কথা জানান সেদিন রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে ছাত্রলীগের লাঠিপেটার শিকার হওয়া সানজিদা আহমেদ তন্বি। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী নই। আমার পরীক্ষা আছে, ব্যস্ততাও আছে।’
তবে উমামা ফাতেমার মতে, হতাশা নয় সংঘবদ্ধ হয়েই নারীদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এখানে যেহেতু সংঘবদ্ধ শক্তি ছাড়া কোনো ধরনের অধিকার আদায় করা সম্ভব হয় না, তো নারীরা যদি নিজেদের মধ্যে সংঘবদ্ধ না থাকে, নিজেদের ফোর্সগুলো অ্যাপ্লাই না করে, তাহলে সামাজিক পরিসর ও রাজনৈতিক পরিসরেও নারীদের অবস্থানটা দুর্বল হবে।’
শারমীন এস মুরশিদ বলেন, ‘মেয়েদের এখন যেটা করতে হবে, সেটা হচ্ছে অভিমানের জায়গাটা ভাঙতে হবে। এখানে অভিমানের জায়গা নেই। তাদের নিজেদের জায়গাটা নিজেদের তৈরি করতে হবে। আর মেয়েরা সংযুক্ত না হলে নতুন বন্দোবস্ত কোনো দিন তৈরি হবে না। সেটার জন্য এখন প্রস্তুতি নিতে হবে। আগামী আন্দোলন সেদিকেই যাবে।’
তবে সামান্তা শারমিনের মতে, শুধু অভ্যুত্থান নয়, সব জায়গা থেকে চাপ সৃষ্টি করে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় না যে অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই শুধু এটা সমাধান হয়েছে বা হবে। এটা নিয়ে নানা জায়গা থেকে আমাদেরকে প্রেশার করতে হবে এবং সামাজিক যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে বা ফোরামগুলো আছে, তাদেরকেও এগুলো নিয়ে সোচ্চার হতে হবে।’
.png)

শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রম আইন সংস্কার ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
২ ঘণ্টা আগে
বিদেশি পর্যটকদের পার্বত্য চট্টগ্রাম ভ্রমণে থাকা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের তাগিদ দিয়েছেন সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী ও রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, বিদেশিদের এখানে আসার বিধিনিষেধগুলো পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমাধান করা দরকার।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশি পাসপোর্টের নকশায় পরিবর্তন এনে পুনরায় ‘ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য এটি বৈধ’ বাক্যটি যুক্ত করছে সরকার। একই সঙ্গে পাসপোর্টের জলছাপে যুক্ত হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
৪ ঘণ্টা আগে
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলন। সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছে শিক্ষার্থীরা। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ শহীদ হন আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী। তবু ঘরে আটকে রাখা যাচ্ছে না কাউকে।
৫ ঘণ্টা আগে