‘আমার সন্তানদের কাছে ফিরতে চাই’, পুশইনের শিকার ভারতীয় নারী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাতক্ষীরা

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ২৩: ১০
পুশইনের শিকার শাহিদা ফকির। সংগৃহীত ছবি

ভারতের মুম্বাই থেকে শাহিদা ফকির নামে এক ভারতীয় নারীকে আটক করে আসাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে। ২০ বছর ধরে পরিবারসহ মুম্বাইয়ে বসবাস করা ওই নারী এখন সাতক্ষীরার কলারোয়া সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাদিয়ালি গ্রামের আব্দুল মালেকের বাড়িতে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শাহিদা ফকির ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার বেড়াচাঁপা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. আইনউদ্দিন গাজী।

ভুক্তভোগী জানান, গত ১৮ বা ১৯ জুলাই রাতে মুম্বাইয়ের বাজার থেকে সবজি কিনে ফেরার পথে ভারতীয় সিআইডি পরিচয়ে ৪-৫ জন ব্যক্তি তাঁকে আটক করে এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এরপর মুম্বাইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে চার দিন আটকে রাখা হয়। এ সময় তাঁর স্বজনেরা পরিচয়পত্র নিয়ে গেলেও তা বিবেচনা করা হয়নি। পরে তাঁকে বিমানে করে আসাম সীমান্তে নিয়ে গিয়ে আরও ৫-৬ জনের সঙ্গে জোরপূর্বক বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় বেনাপোল এলাকায় পৌঁছান।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফা বেগম জানান, তাঁর স্বামী আবুল বাশার ভারত থেকে ফেরার সময় বেনাপোলে কাদা-মাটি মাখা অবস্থায় কান্নাকাটি করতে থাকা শাহিদা ফকিরকে দেখতে পান। মানবিক দিক বিবেচনা করে তিনি তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং গত পাঁচ দিন ধরে আশ্রয়ে রেখেছেন। বর্তমানে এই দম্পতির পাশের বাড়িতে আশ্রয়ে আছেন শাহিদা ।

ভুক্তভোগী শাহিদা জানান, ভারতে তাঁর ২৩ ও ১৪ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে এবং তিনি অবিলম্বে নিজ দেশে সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে চান।

ঘটনার বিষয়ে সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন জানান, ভারত থেকে এক নারী এসে ভাদিয়ালি গ্রামে আশ্রয়ে থাকার ঘটনাটি সত্য।

সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা বেগম জানান, তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছেন।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত