leadT1ad

জয়-পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন: ট্রাইব্যুনালে বাজানো হলো গোপন ফোনালাপ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ৫৯
জুনাইদ আহমেদ পলক ও সজীব ওয়াজেদ জয়। সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গণহত্যায় উসকানি ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। শুনানিকালে ট্রাইব্যুনালে আসামিদের নিজস্ব টেলিফোন কথোপকথন এবং এনটিএমসির রেকর্ডকৃত অডিও শুনিয়ে প্রসিকিউশন দাবি করেছে, ইন্টারনেট বন্ধের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জয় এবং তা বাস্তবায়ন করেছিলেন পলক।

রোববার (১১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন মামলার আসামি জুনাইদ আহমেদ পলক কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। শুনানির একপর্যায়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম আদালতের সামনে আসামিদের কথোপকথনের রেকর্ড উপস্থাপন করেন। গণমাধ্যমে দেওয়া পলকের বক্তব্য ‘ইন্টারনেট বন্ধ করিনি, বন্ধ হয়ে গেছে’ বিচারকদের শোনানো হয়।

পরে সালমান এফ রহমান ও জয়ের সঙ্গে পলকের কথোপকথনের রেকর্ডও উপস্থাপন করা হয়।

প্রসিকিউটর গাজী তামিম আদালতকে জানান, জয়ের সঙ্গে কথোপকথনে ‘মা (শেখ হাসিনা) সিগন্যাল দিলে চালু, না বললে বন্ধ’—এমন নির্দেশনার কথা উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, এনটিএমসির রেকর্ড করা এসব ফোনালাপ প্রমাণ করে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আটটি অ্যাপ বন্ধ রাখা এবং ইন্টারনেট শাটডাউন ছিল পরিকল্পিত।

‘মাস্টারমাইন্ড জয়, সহযোগী পলক’

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদনে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ আসত সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকে। সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন পলক। প্রসিকিউশনের যুক্তি, সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়া বা বিটিসিএল ভবনে আগুনের যে অজুহাত দেওয়া হয়েছিল, তা ছিল মিথ্যাচার। কারণ, ভবন পোড়া অবস্থাতেও ইন্টারনেট আংশিক চালু করা সম্ভব হয়েছিল। মূলত আন্দোলনকারীদের পারস্পরিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার তথ্য বিশ্ববাসীর কাছ থেকে গোপন করতেই এই নীলনকশা বাস্তবায়ন করা হয়।

এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। পলাতক আসামি সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) মো. মুনজুর আলম আজ প্রথমবারের মতো ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন। তিনি এ মামলা থেকে জয়ের অব্যাহতির আবেদন উপস্থাপনের জন্য সময়ের প্রার্থনা করেন। ট্রাইব্যুনাল আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আসামিপক্ষের শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।

শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী তামিম সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সরাসরি হত্যা ছাড়াও হত্যায় সহায়তা, উসকানি এবং অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাকাণ্ড সংঘটনে সহায়তা করা হয়েছে বলেই তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে শুনানিকালে চিফ প্রসিকিউটর আদালতকে অবহিত করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অপর একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়ানোর আবেদন শুনানির জন্য দুয়েকদিনের মধ্যে চেম্বার আদালতে নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর এই মামলায় প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নিয়ে জয় ও পলকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত