র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫

ছুরি মেরে চলন্ত অটো থেকে ফেলে বুলেট বৈরাগীকে হত্যা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

নিহত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। সংগৃহীত ছবি

কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে র‌্যাব। তারা হলেন– ইমরান হোসেন হৃদয় (৩৭), মোহাম্মদ সোহাগ (৩০), ইসমাইল হোসেন জনি (২৫), মোহাম্মদ সুজন (৩২) ও রাহাতুল রহমান জুয়েল (২৭)।

র‌্যাব জানায়, রোববার কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, চাপাতি ও সুইচ গিয়ার জব্দ করা হয়।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। তিনি জানান, ছুরিকাঘাতের পর চলন্ত অটোরিকশা থেকে বুলেট বৈরাগীকে মহাসড়কের পাশে ফেলে হত্যা করে পেশাদার ছিনতাইকারীরা।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ছিনতাইকারী চক্র জড়িত। গ্রেপ্তাররা চালক ও যাত্রীর ছদ্মবেশে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াত। দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কিংবা আঘাত করে সর্বস্ব লুটে নিত।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৫ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান। ছবি: সংগৃহীত
র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৫ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান। ছবি: সংগৃহীত

বুলেট বৈরাগী কাস্টমস কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ছিলেন। গত ১১ এপ্রিল বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম যান। প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে গত শুক্রবার রাতে নিখোঁজ হন তিনি। পরদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার ফুটপাত থেকে বুলেট বৈরাগীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে শনিবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন তাঁর মা নীলিমা বৈরাগী।

র‌্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, ঘটনার রাতে চক্রটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় অবস্থান করছিল। রাত ৩টার দিকে বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে জাগরঝুলি এসে বাস থেকে নামেন। জাঙ্গালিয়া যাওয়ার কথা বললে অটোরিকশার পেছনে যাত্রীবেশে থাকা সোহাগ ও হৃদয় তাঁকে পাশে বসতে বলেন।

তিনি বলেন, অটোরিকশা রওনা দেওয়ার পর সোহাগ ও হৃদয় বুলেট বৈরাগীকে ভয়ভীতি দেখান। ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জনি চাকু বের করে তাঁকে আঘাত করে টাকা, মোবাইলসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। কোটবাড়ি বিশ্বরোড অতিক্রমের সময় চলন্ত অটোরিকশা থেকে বুলেট বৈরাগীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে তারা পালিয়ে যায়। ছুরির আঘাত ও ফেলে দেওয়ায় মাথার পেছনে গুরুতর জখম হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বুলেট বৈরাগীর মৃত্যু হয়।

পরিবার সূত্র জানায়, কুমিল্লার বাইপাসে নামার জন্য শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে ঢাকাগামী বাসে ওঠেন বুলেট বৈরাগী। সর্বশেষ রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে ফোন করে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান– ‘কুমিল্লা নগরীর টমসন ব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বুলেট বৈরাগীর বাসায় ফেরা হয়নি।

বুলেট বৈরাগীর মা নীলিমা বৈরাগী জানান, দীর্ঘ সময় পরও বাসায় না আসায় পরিবারের সদস্যরা কল করে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পান। এরপর শনিবার সকালে সন্ধান চেয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় জিডি করা হয়। এর পরই মহাসড়কের পাশ থেকে বুলেটের লাশ উদ্ধারের কথা ফোন করে জানায় পুলিশ।

বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া গ্রামের বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদে ঢাকা কাস্টমসে যোগ দেন। চাকরির সুবাদে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। বুলেট বৈরাগী তাঁর মা-বাবার একমাত্র সন্তান। তাঁর স্ত্রী ও এক শিশু ছেলেসন্তান রয়েছে।

সম্পর্কিত