স্ট্রিম ডেস্ক

গত কয়েক বছরে শরীরের ফিটনেস বাড়াতে জিম সাপ্লিমেন্টের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। জিম সাপ্লিমেন্টের জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এগুলো দ্রুত ফিটনেসের লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে। পেশির ক্ষয়পূরণ (রিকভারি), পেশির ব্যথা কমানো এবং শরীরে শক্তির মাত্রা বাড়ানোসহ নানা কারণে অনেক অ্যাথলেট বা ফিটনেসপ্রেমীরা এই সাপ্লিমেন্টগুলো ব্যবহার করেন।
বেশিরভাগ জিম সাপ্লিমেন্টে প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, ক্যাফেইন, ক্রিয়েটিন, ভিটামিন এবং মিনারেলের মতো উপাদানের মিশ্রণ থাকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে বাড়তে পারে কিডনি রোগের ঝুঁকি।
কিডনির মূল কাজ হলো রক্ত থেকে বর্জ্য এবং টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বের করে দেওয়া। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট ডায়েটারি সাপ্লিমেন্টের অতিরিক্ত সেবন কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে কিডনি সংক্রান্ত নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। জিম সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত কয়েকটি উপাদান—
ক্যাফেইন: প্রি-ওয়ার্কআউট সাপ্লিমেন্ট ও এনার্জি ড্রিংকে সাধারণত ক্যাফেইন পাওয়া যায়। এই উপাদান সাময়িকভাবে শরীরে শক্তি জোগাতে পারে। তবে এর অতিরিক্ত সেবন কিডনির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
ক্যাফেইন গ্রহণের পাশাপাশি যদি পর্যাপ্ত পানি খাওয়া না হয়, তবে এটি শরীরে পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) তৈরি করতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিডনি জটিলতার কারণ হতে পারে।

ক্রিয়েটিন: ক্রিয়েটিনিন হলো এক ধরনের বর্জ্য পদার্থ যা কিডনি দ্বারা ফিল্টার হয়। পেশির শক্তি ও পারফরম্যান্স বাড়াতে ক্রিয়েটিন ব্যবহৃত হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রিয়েটিনের অতিরিক্ত বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার কিডনির ওপর চাপ ফেলতে পারে। এ ছাড়া ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট শরীরে ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
স্টেরয়েড: অ্যানাবলিক স্টেরয়েড শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মতো কাজ করে। সাধারণত বডিবিল্ডার বা অ্যাথলেটরা দ্রুত পেশি বৃদ্ধি এবং অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য এগুলো গ্রহণ করে থাকেন।
অতিরিক্ত স্টেরয়েডের ব্যবহার কিডনির ক্ষতিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। স্টেরয়েড শরীর থেকে টক্সিন বের করার জন্য কিডনির কাজ বৃদ্ধি করে। এর ফলে কিডনির ওপর চাপ বেড়ে যায়। এছাড়া স্টেরয়েড রক্তচাপের মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে পারে যা কিডনির ওপর সৃষ্ট এই চাপকে আরও তীব্র করে তোলে।
ডাইইউরেটিকস: ওজন কমানো বা শরীরে পানি জমা (ওয়াটার রিটেনশন) কমানোর জন্য সাধারণত বডিবিল্ডার বা অ্যাথলেটরা ডাইইউরেটিকস ব্যবহার করেন। কিডনির ক্ষতি হওয়ার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এই উপাদানটি শরীরে প্রস্রাবের উৎপাদন বাড়িয়ে দিতে পারে। যার ফলে পানিশূন্যতা দেখা দেয় এবং পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের মতো ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এ ছাড়া ডাইইউরেটিকস কিডনির ওপর চাপ ফেলতে পারে এবং শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে।
জিম সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে কিডনির ওপর এর প্রভাব মাথায় রাখতে হবে। যেকোনো নতুন সাপ্লিমেন্ট বা ডায়েট শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডাক্তার আপনার শারীরিক অবস্থা বুঝে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।
এ ছাড়া শরীর থেকে বর্জ্য ও টক্সিন বের করার জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। সাপ্লিমেন্টের প্যাকেটে লেখা নির্দেশিত মাত্রা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না। আরেকটি বিষয়, যাঁরা ক্রিয়েটিন গ্রহণ করেন, তাঁদের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা উচিত।
রক্তে ক্রিয়েটিনিনের উচ্চমাত্রা কিডনি সমস্যার অন্যতম লক্ষণ। নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে আগে থেকেই সচেতন থাকা যায়। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত ডায়েট কিডনির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা ফলমূল, শাকসবজি, চর্বিহীন মাংস এবং শস্যজাতীয় খাবার রাখতে হবে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।
তথ্যসূত্র: এনইউ হসপিটালস ব্লগ

গত কয়েক বছরে শরীরের ফিটনেস বাড়াতে জিম সাপ্লিমেন্টের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। জিম সাপ্লিমেন্টের জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এগুলো দ্রুত ফিটনেসের লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে। পেশির ক্ষয়পূরণ (রিকভারি), পেশির ব্যথা কমানো এবং শরীরে শক্তির মাত্রা বাড়ানোসহ নানা কারণে অনেক অ্যাথলেট বা ফিটনেসপ্রেমীরা এই সাপ্লিমেন্টগুলো ব্যবহার করেন।
বেশিরভাগ জিম সাপ্লিমেন্টে প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, ক্যাফেইন, ক্রিয়েটিন, ভিটামিন এবং মিনারেলের মতো উপাদানের মিশ্রণ থাকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে বাড়তে পারে কিডনি রোগের ঝুঁকি।
কিডনির মূল কাজ হলো রক্ত থেকে বর্জ্য এবং টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বের করে দেওয়া। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট ডায়েটারি সাপ্লিমেন্টের অতিরিক্ত সেবন কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে কিডনি সংক্রান্ত নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। জিম সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত কয়েকটি উপাদান—
ক্যাফেইন: প্রি-ওয়ার্কআউট সাপ্লিমেন্ট ও এনার্জি ড্রিংকে সাধারণত ক্যাফেইন পাওয়া যায়। এই উপাদান সাময়িকভাবে শরীরে শক্তি জোগাতে পারে। তবে এর অতিরিক্ত সেবন কিডনির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
ক্যাফেইন গ্রহণের পাশাপাশি যদি পর্যাপ্ত পানি খাওয়া না হয়, তবে এটি শরীরে পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) তৈরি করতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিডনি জটিলতার কারণ হতে পারে।

ক্রিয়েটিন: ক্রিয়েটিনিন হলো এক ধরনের বর্জ্য পদার্থ যা কিডনি দ্বারা ফিল্টার হয়। পেশির শক্তি ও পারফরম্যান্স বাড়াতে ক্রিয়েটিন ব্যবহৃত হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রিয়েটিনের অতিরিক্ত বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার কিডনির ওপর চাপ ফেলতে পারে। এ ছাড়া ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট শরীরে ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
স্টেরয়েড: অ্যানাবলিক স্টেরয়েড শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মতো কাজ করে। সাধারণত বডিবিল্ডার বা অ্যাথলেটরা দ্রুত পেশি বৃদ্ধি এবং অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য এগুলো গ্রহণ করে থাকেন।
অতিরিক্ত স্টেরয়েডের ব্যবহার কিডনির ক্ষতিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। স্টেরয়েড শরীর থেকে টক্সিন বের করার জন্য কিডনির কাজ বৃদ্ধি করে। এর ফলে কিডনির ওপর চাপ বেড়ে যায়। এছাড়া স্টেরয়েড রক্তচাপের মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে পারে যা কিডনির ওপর সৃষ্ট এই চাপকে আরও তীব্র করে তোলে।
ডাইইউরেটিকস: ওজন কমানো বা শরীরে পানি জমা (ওয়াটার রিটেনশন) কমানোর জন্য সাধারণত বডিবিল্ডার বা অ্যাথলেটরা ডাইইউরেটিকস ব্যবহার করেন। কিডনির ক্ষতি হওয়ার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এই উপাদানটি শরীরে প্রস্রাবের উৎপাদন বাড়িয়ে দিতে পারে। যার ফলে পানিশূন্যতা দেখা দেয় এবং পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের মতো ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এ ছাড়া ডাইইউরেটিকস কিডনির ওপর চাপ ফেলতে পারে এবং শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে।
জিম সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে কিডনির ওপর এর প্রভাব মাথায় রাখতে হবে। যেকোনো নতুন সাপ্লিমেন্ট বা ডায়েট শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডাক্তার আপনার শারীরিক অবস্থা বুঝে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।
এ ছাড়া শরীর থেকে বর্জ্য ও টক্সিন বের করার জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। সাপ্লিমেন্টের প্যাকেটে লেখা নির্দেশিত মাত্রা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না। আরেকটি বিষয়, যাঁরা ক্রিয়েটিন গ্রহণ করেন, তাঁদের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা উচিত।
রক্তে ক্রিয়েটিনিনের উচ্চমাত্রা কিডনি সমস্যার অন্যতম লক্ষণ। নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে আগে থেকেই সচেতন থাকা যায়। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত ডায়েট কিডনির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা ফলমূল, শাকসবজি, চর্বিহীন মাংস এবং শস্যজাতীয় খাবার রাখতে হবে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।
তথ্যসূত্র: এনইউ হসপিটালস ব্লগ

কেনিয়ার প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক শহর হলো নাকুরু। রাজধানী নাইরোবি থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো সাতসকালে। তখন ভোরের প্রথম আলো শহরের কংক্রিটের ভবনগুলোতে সোনালি আভা ছড়িয়ে দিচ্ছিল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়ল গ্রামীণ জীবনের চমৎকার সব দৃশ্য। কেউ গরুর চামড়া মাথায় নিয়ে বাজারে যাচ্ছে, কারও হাতে সবজিভর্তি ব
২০ ঘণ্টা আগে
ভারতের আলোকচিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ এবং লেন্সের জাদুকর রঘু রাই আর নেই। গত দুই বছর ধরে তিনি প্রোস্টেট এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ক্যানসার তাঁর মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্তও তিনি তাঁর প
১ দিন আগে
আমাদের রান্নাঘরের অনেক জিনিসই প্লাস্টিকের তৈরি। তাই সহজেই এগুলো খাবারে মিশে যেতে পারে। তবে আমরা চাইলেই খাবারে প্লাস্টিকের উপস্থিতি কমানো সম্ভব। রান্নাঘরে কিছু ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারি।
১ দিন আগে
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় মেলবোর্ন শহর থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে ‘ফিলিপ আইল্যান্ড’ নামের এক অপূর্ব নৈসর্গিক জায়গায় আমরা এসেছি পেঙ্গুইনের খোঁজে! জি হ্যাঁ, পেঙ্গুইন! পেঙ্গুইন মানেই তো সেই কোট পরা ‘ভদ্রলোক’ পাখি! এর নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভাসে, বরফ মহাদেশে হেঁটে যাচ্ছে গুটি গুটি পায়ে।
২ দিন আগে