ময়নাতদন্তের আগেই হাতির শুঁড়-পা কেটে নিল দুর্বৃত্তরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
খাগড়াছড়ি

লংগদুতে মৃত পুরুষ হাতির পাশে দুই দিন দাঁড়িয়ে ছিল সঙ্গী স্ত্রী হাতিটি। সংগৃহীত ছবি

রাঙামাটির লংগদুতে মারা যাওয়া বয়স্ক বন্য হাতির শুঁড় ও পেছনের একটি পা কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে এই দৃশ্য বনবিভাগের প্রহরী ও স্থানীয়দের চোখে পড়ে। এর একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাণী অধিকার কর্মীরা।

গতকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতের কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হাতির মৃত্যুর কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

এর আগে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা একটি মৃত হাতির দেহ দেখতে পেয়ে বন বিভাগকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ পরিদর্শন করেন কর্মকর্তারা।

পুরুষ হাতিটির মৃত্যুর পর টানা দুদিন তার পাশে সঙ্গী স্ত্রী হাতিটিকে অবস্থান করে। এর একটি ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, কিছু মানুষ স্ত্রী হাতিটিকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল। ২০২৪ সালে প্রথম অসুস্থ হলে বন বিভাগ এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভিএএসইউ) এক দল চিকিৎসক সেবা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলে। চলতি বছরে দুই দফায় অসুস্থ হলে তাকে পুনরায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। এটি ওই এলাকার অন্যতম বৃহৎ ও বয়স্ক হাতিগুলোর একটি ছিল।

এদিকে হাতিটি মারা যাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় পরও তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি। পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি রাকিবুল হক বলেন, হাতি মারা গেলে তার ময়নাতদন্ত ও মাটিচাপা দেওয়ার দায়িত্ব বন বিভাগের। লংগদুতে মারা যাওয়া পুরুষ হাতিটির শুঁড় ও মাংস রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে গেছে। এর দায় বন বিভাগ এড়াতে পারে না। বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সম্প্রতি ভারী বৃষ্টির কারণে দুর্গম সড়কে ঘটনাস্থলে ময়নাতদন্তে নিয়োজিত চিকিৎসক দলের পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা যাবে।

হাতির অঙ্গ কেটে নেওয়ার ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত হাতিটির দেহ মাটিচাপা দেওয়া হবে। বন বিভাগের পাবলাখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, রোববার রাতে স্ত্রী হাতিটি বনে ফিরে যাওয়ার পর ঘটনাস্থলে মৃত হাতিটির দেহ পড়ে ছিল। সেই সুযোগে শুঁড় ও একটি পেছনের পা কেটে নেয় দুর্বৃত্তরা। সকালে পহরী গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান।

স্ত্রী হাতিকে উত্ত্যক্ত করার বিষয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা শরীফুল বলেন, একজন প্রহরীর পক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া রাতে নিরাপত্তার কারণে পহরী ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে দুর্বৃত্তরা অঙ্গ কেটে নেওয়ার সুযোগ নেয়। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত