জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সরকার ও রাজনৈতিক দলের ব্যর্থতায় দুর্নীতি কমছে না: ড. ইফতেখারুজ্জামান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭: ৫৯
সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশে দুর্নীতির লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না মূলত সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত ব্যর্থতায়। দুর্নীতি রোধে অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দৃষ্টান্ত স্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের পুরোনো সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জার্মানির বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) পরিচালিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৫’ এর বৈশ্বিক প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এমন কোনো প্রত্যাশা করিনি যে অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরে দেশকে “দুধ ও মধুতে” ভাসিয়ে দেবে। কিন্তু রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে একটি শক্ত ভিত্তি বা দৃষ্টান্ত স্থাপনের পবিত্র দায়িত্ব তাদের ছিল, যা পালনে তারা নিঃসন্দেহে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকার সুনির্দিষ্ট কৌশল বা পরিকল্পনা ছাড়াই ‘এডহক’ ভিত্তিতে কাজ করেছে।

সরকারের স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং স্বার্থের দ্বন্দ্বের (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) বিষয়টিকে ‘ফ্ল্যাগশিপ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের মধ্যে যারা বিভাজন করতে পারেন না, তাদের দায়িত্ব নেওয়া উচিত নয়। সরকারের অনেক উপদেষ্টা ব্যক্তিগত স্বার্থের সঙ্গে সরকারি স্বার্থকে একাকার করে ফেলেছেন।’

আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে টিআইবি প্রধান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজেরাই প্রকাশ্যে নির্বাচনবিরোধী অবস্থান ঘোষণা করেছে এবং বর্জন করেছে। তাদের রাজনীতিতে ফিরতে হলে আগে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করতে হবে এবং অনুশোচনা করতে হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইনক্লুসিভ নির্বাচনের নামে যদি কোনো দলকে গ্লোরিফাই করা হয় এবং গত ১৬ বছরের নির্বাচনহীন সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করা হয়, তবে তা সঠিক হবে না।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শুধু সরকার পরিবর্তন করলেই হবে না, দুর্নীতি রোধে মূল দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে। কারণ, দিন শেষে রাষ্ট্র পরিচালনার মালিকানা তাদের হাতেই থাকে। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারকে বারবার সংস্কার বিরোধীদের ব্যাপারে সতর্ক করা হলেও তারা তা হেসে উড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে সংস্কার প্রক্রিয়া আমলাতন্ত্র ও কায়েমি শক্তির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক মনে করেন, বাংলাদেশের দুর্নীতির সূচকে অবনমন (স্কোর ১ পয়েন্ট কমে যাওয়া) মূলত জুলাই আন্দোলনের ইতিবাচক পরিবর্তনের সুফল ঘরে তুলতে না পারারই প্রতিফলন। তবে রাজনৈতিক দলগুলো যদি তাদের অঙ্গীকার সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন করে, তবে বাংলাদেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব কিছু নয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত