জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে ক্যাবের ১৩ দফা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ক‍্যাব ও ঢাকা স্ট্রিমের যৌথ আয়োজনে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত। স্ট্রিম ছবি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে। ক‍্যাব ও ঢাকা স্ট্রিমের যৌথ আয়োজনে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট: ক্যাবের ১৩ দফা ও ন প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ দাবি উত্থাপন করা হয়।

আজ শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর পান্থপথে ঢাকা স্ট্রিমের কার্যালয়ে ক্যাবের গবেষক সমন্বয়ক প্রকৌশলী শুভ কিবরিয়া অনুষ্ঠানের ধারণাপত্র পাঠ করেন। এসময় ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেন তিনি।

ধারণাপত্র পাঠ করার সময় তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত গত তিন দশকে এক গভীর কাঠামোগত সংকটে উপনীত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা, উচ্চ ব্যয়, ভর্তুকি বৃদ্ধি, এবং বারবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি—এই সমগ্র পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবনযাত্রায় গুরুতর প্রভাব ফেলছে।’

শুভ কিবরিয়া, ‘এই সংকট কেবল প্রযুক্তিগত বা আর্থিক সমস্যা নয়; বরং এটি একটি নীতি, শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অর্থনীতির সংকট। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করা হয়েছে, তা অনেক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাহীন বিনিয়োগ, দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়বহুল চুক্তি, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা এবং সীমিত জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও জ্বালানি নিরাপত্তা, জ্বালানি ন্যায়বিচার এবং ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত হয়নি। বরং ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধি, ভর্তুকি সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের চাপ দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।’

এ সময় তিনি ১৩ দফা দাবিকে কেবল তাৎক্ষণিক সংকট সমাধানের প্রস্তাব নয়, বরং একটি কাঠামোগত জ্বালানি সংস্কারের রূপরেখা বলে উল্লেখ করেন।

ক্যাবের ১৩ দফা দাবি হলো—

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে জনসেবা খাতে রূপান্তর ও জ্বালানি সরবরাহের ব্যয় কমানো, জ্বালানি খাতের মাত্রাতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা কমানো ও জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমিয়ে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার এতে করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি সীমিত করা এবং নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করা—যা দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় এবং কার্বন নির্গমন উভয়ই কমাবে।।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বাপেক্সের মতো দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া। একইসঙ্গে, ভোলাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে থাকা অব্যবহৃত গ্যাস সম্পদের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।

ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদুৎ উৎপাদন বন্ধ করা, স্পিডি অ্যাক্ট ২০১০ রহিতকরণ অধ্যাদেশ ২০২৪’-এর অন্তর্ভুক্ত ২(ক) এবং ২(খ) অনুচ্ছেদ বাতিলের জন্য ক্যাবের দায়েরকৃত রিট দ্রুত নিষ্পত্তি করে এই আইনের আওতায় সম্পাদিত সব চু্ক্তি রিভিউক্রমে লাইসেন্স বাতিলসহ, আদানির সঙ্গে অসম চুক্তি বাতিল, চুক্তির কারণে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্টদের থেকে নিশ্চিত ও জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে বিচার নিশ্চিতের দাবি জানায় ক্যাব।

এ ছাড়াও লুণ্ঠনমূলক ‘ব্যয় ও মুনাফা’ মুক্ত করে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যয় কমিয়ে বিদ্যমান মূল্যহার কমানো ক্যাব প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি, ২০২৪ এর আলোকে গণবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসা সুরক্ষায় প্রণীত জ্বালানি সনদ চুক্তি ১৯৯২ স্বাক্ষরে সরকারকে বিরত থাকার দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ড. সাইমুম পারভেজ, গবেষক ও লেখক মাহা মির্জা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজি, বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রমুখ।

সম্পর্কিত