leadT1ad

অবাধ তথ্য প্রবাহের পূর্বশর্ত হচ্ছে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ১৫: ২০
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আজ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অবাধ তথ্য প্রবাহের প্রধান পূর্বশর্ত হচ্ছে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য। তথ্যের স্বাধীনতা যেমন আমাদের কাম্য, তেমনি অপতথ্য রোধ করে ‘ক্লিন ইনফরমেশন’ বা পরিচ্ছন্ন তথ্য নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

গতকাল (২ মে) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, কমিউনিকেশন ও জার্নালিজম (এমসিজে) বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অবাধ তথ্য প্রবাহ সভ্যতার জন্য অক্সিজেনের মতো। মানুষ যেমন অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না, তেমনি সঠিক তথ্য ছাড়া একটি রাষ্ট্র বা সমাজ টিকে থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘যিনি জানেন না অক্সিজেন কী, তিনি হয়তো এর অভাব বুঝবেন না, কিন্তু সচেতন সমাজ জানে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে সমাজ কার্বন ডাই-অক্সাইডে ভরে যাবে। একইভাবে ভুল তথ্য বা ডিস-ইনফরমেশন সমাজকে বিষিয়ে তুলছে।’

বর্তমান ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আজকের দিনে তথ্যের অভাব নেই, কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাব রয়েছে। ডিজিটাল হ্যাজার্ড ও অপতথ্য বা মিস-ইনফরমেশন এখন বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিয়েছে। এটি মোকাবিলায় কেবল আইন নয়, বরং সৃজনশীল জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতিতে জবাবদিহিতার বড় অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, ‘তথ্য প্রবাহকে অবাধ করার পাশাপাশি এর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য একটি উন্নত রেগুলেটরি সিস্টেমের প্রয়োজন। সরকার কর্তৃত্ববাদী শাসক নয়, বরং একজন সার্ভিসিং ম্যানেজার হিসেবে তথ্যের সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে চায়।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সঠিক তথ্য ও মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার একটি টেকসই রোডম্যাপ তৈরির কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি ‘রিসোর্সফুল নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, সংবাদপত্রের মালিক সমিতির (নোয়াব) সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুসান ভাইজ।

সেমিনারে নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একটি অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে যেমন মূলধারার সাংবাদিকতা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে, অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়া ও ‘ফটো কার্ডের’ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিস-ইনফরমেশন বা ভুল তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই অসম প্রতিযোগিতা ও অপতথ্য ছড়ানোর ফলে দিনশেষে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোই ভিক্টিম বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনএসইউ’র মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমসিজে বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ.এস.এম রেজওয়ান-উল-আলম। অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী এএইচএম বজলুর রহমান।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে দেশের সাংবাদিকতার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত