সবার সঙ্গেই অস্ত্রধারী রাহিম, দায় নিচ্ছে না বিএনপি-জামায়াত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নোয়াখালী

তল্লাশিতে পুলিশ আবদুর রহমান রাহিমের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল জব্দ করে। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তিনটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার আবদুর রহমান রাহিমের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের পর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও বেগমগঞ্জ-৩ আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্যের স্ত্রী শামীমা বরকত লাকী এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাসের সঙ্গেও রাহিমের ছবি প্রকাশ্যে আসে।

আবদুর রহমান রাহিম ওমানপ্রবাসী জসিম উদ্দিনের ছেলে। নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, মোটরসাইকেল আরোহীর গতিবিধি সন্দেহজনক হলে তল্লাশি করে তিনটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, রাহিম ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের একাধিক নেতা জানান, ২০২৪ সালে রাহিম ছাত্রশিবিরে যুক্ত হন। তবে ২০২৫ সালে প্রেমঘটিত কারণে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরে রাহিম তাঁর মামা ও উপজেলা ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান সম্রাটের সঙ্গে চলাফেরা শুরু করেন। এলাকায় তিনি সম্রাটের ডান হাত হয়ে নানা অপকর্মে জড়িত। এসব কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন মামাতো ভাই ও গোপালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিফাত।

পুলিশ জানায়, নিয়মিত চেকপোস্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি মোটরসাইকেল তল্লাশি করার সময় রাহিমের কোমরে থাকা তিনটি বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে রেজিস্ট্রেশনবিহীন রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।

বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে রাহিমের ছবি ফেসবুকে ঘোরাঘুরি করলেও কেউই তাঁকে কর্মী বলে স্বীকার করছে না। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে রাহিমের ছবি ফেসবুকে ঘোরাঘুরি করলেও কেউই তাঁকে কর্মী বলে স্বীকার করছে না। ছবি: সংগৃহীত

রাহিমের ঘনিষ্ঠ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, মোটরসাইকেলটির প্রকৃত মালিক ছাত্রদল নেতা রাকিবুল হাসান সম্রাট। মোটরসাইকেলের পেছনে বসে সম্রাট নিজেই এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সম্রাট অস্ত্র ও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাকিবুল হাসান সম্রাট বলেন, ‘আবদুর রহমান রাহিম আমাদের পাশের এলাকার ছেলে, তাঁকে আমি চিনি। তিনি আগে ছাত্রলীগ, পরে জামায়াত-শিবিরের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। জব্দ অস্ত্র কিংবা মোটরসাইকেল– কিছুই আমার নয়।’

এদিকে, অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর রাহিমকে স্থানীয় জামায়াতের কর্মী উল্লেখ করে ফেসবুক পোস্ট দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস। তবে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন বলেছেন, ‘অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার রাহিমের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচনের সময় অনেকেই প্রার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। এতে তিনি দলীয় কর্মী হয়ে যান না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যতটুকু জেনেছি, ভোটের পর থেকে রাহিম স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী সম্রাটের সঙ্গে চলাফেরা করছেন। জব্দ মোটরসাইকেলও সম্রাটের।’

বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান জানান, অবৈধ অস্ত্রধারী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার রাহিমকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে রাহিমের সুনির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

সম্পর্কিত