হামলা, মারধরের ঘটনায় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেন এনসিপির নেতারা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২৩: ৩২
বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। সংগৃহীত ছবি

পুলিশের বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত হবিগঞ্জ শহরে প্রবেশ করতে না পেরে বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে তারা এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগটি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা হিসেবে গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার জানান, ‘এনসিপির চারজন কেন্দ্রীয় নেতা কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ দায়েরের সময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগে বাদী করা হয়েছে হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তারেক রুবেলকে। এতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও প্রায় ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে দলটির নেতাদের গাড়িবহরে হামলা এবং নেতাকর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় এ ঘটনার প্রতিবাদে এনসিপি শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে আবারও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতির জেরে আজ বুধবার এনসিপি প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিলে পাল্টা কর্মসূচি দেয় হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি ও ছাত্রদল। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে।

১৪৪ ধারা জারির পরও হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের সঙ্গে ছিলেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আব্দুল্লাহ, জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

আজ বুধবার বিকেল ৪টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। দলটির অভিযোগ, হবিগঞ্জের দিকে অগ্রসর না হওয়ার জন্য পুলিশ তাদের নিরুৎসাহিত করে। এ সময় নেতাকর্মীরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। প্রায় এক ঘণ্টা পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার পর বিকেল ৫টার দিকে তারা পুনরায় রওনা হলেও শেষ পর্যন্ত হবিগঞ্জ শহরে প্রবেশ করতে পারেননি।

রাত পৌনে ৯টার দিকে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পুলিশ যদি তাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে চায় এবং অতীতের দলীয়করণের অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, তবে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’ তার দাবি, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করা হলে দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কিছুটা হলেও ফিরে আসবে।

নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারও পূর্ববর্তী সরকারের মতো অগণতান্ত্রিক পথে হাঁটছে এবং সন্ত্রাসনির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

সংবাদ ব্রিফিং শেষে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এনসিপির নেতাকর্মীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে সরে গেলে দীর্ঘ সময়ের যানজট ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

এদিকে হামলার ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে এনসিপির নেতাদের।

//

Ad 300x250

সম্পর্কিত