একদিনের মধ্যে গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়ায় মতামত আহ্বান প্রহসনমূলক: টিআইবি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২৩: ৫৯
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। স্ট্রিম গ্রাফিক

‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর মতামত প্রদানের জন্য মাত্র এক দিন সময় বেঁধে দেওয়াকে ‘প্রহসনমূলক’ বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বুধবার (২৯ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি এই প্রতিক্রিয়া জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খসড়া আইনটি আপলোড করে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে মতামত প্রদানের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

টিআইবি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, সম্প্রতি ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-সহ কয়েকটি আইনের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘন করে সম্পূরক কার্যসূচি হিসেবে বিল উত্থাপন ও তড়িঘড়ি করে আইন পাসের অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে। আলোচ্য খসড়াটির ক্ষেত্রেও একইভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ক্ষমতার অপব্যবহার করা হতে পারে।

খসড়া আইনের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘খসড়া আইনটিতে কিছু ইতিবাচক ধারা রয়েছে। যেমন—গুমকে একটি স্বতন্ত্র ফৌজদারি ও চলমান অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নির্দেশদাতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং গুমের ঘটনায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অন্য কোনো অজুহাত অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা। তবে মতামত প্রদানের জন্য মাত্র এক দিনের সময় দেওয়ায় ভুক্তভোগী ও অংশীজনদের মতামত নেওয়ার বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছার ঘাটতি দৃশ্যমান হয়েছে।’

প্রস্তাবিত খসড়ায় গুমের ঘটনা তদন্তের একক দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের বদলে পুলিশের ওপর ন্যস্ত করার সমালোচনা করেছে টিআইবি। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশে গুমের অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গেই পুলিশ, গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। সেখানে পুলিশের পক্ষে কতটা নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব?

তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশে গুমের তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। অথচ বর্তমান ক্ষমতাসীন দল, যাদের দলের অনেক নেতাকর্মী বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের আমলে এমন আইনি ধারা কীভাবে যুক্ত হয়—তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

খসড়া আইনের ১৫ ধারার (১) ও (২) উপধারার বিষয়টি উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বিদ্যমান বাস্তবতায় একজন অধস্তন কর্মকর্তার পক্ষে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন’ দেওয়া সম্ভব নয়। আবার এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাওয়ার অজুহাতে ঊর্ধ্বতনকে দায়মুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে অভিযুক্তদের সুরক্ষা পাওয়ার আইনি সুযোগ তৈরি হবে এবং স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে গুমের ঘটনায় সরকারি ভাষ্যই প্রতিষ্ঠিত হবে।

টিআইবি মনে করিয়ে দেয় যে সরকারি ও বিরোধী দলসহ অধিকাংশ দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অতীতে গুমের শিকার হয়েছেন। তাই এই আইনের গুরুত্ব বিবেচনায় মতামত সংগ্রহের সময়সীমা দুই সপ্তাহ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার প্রতিফলন ঘটিয়ে খসড়াটি প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করার জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত