স্ট্রিম সম্পাদকীয়

রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনাকর বক্তব্য প্রদানে অনেককেই উৎসাহী দেখা যায়। কেউ অভ্যাসবশত, আবার কেউ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এমনটা করে থাকেন। কারো কারো হয়তো থাকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্য। শান্তিপ্রিয় মানুষ এসব এড়াতেই পছন্দ করেন। আর রাজনৈতিক শিষ্টাচারে বিশ্বাসীরা এর বিপজ্জনক দিকের বিষয়ে সতর্ক করতে প্রয়াসী হন। তবে সবাই এ প্রশ্নে একমত যে, বক্তব্য খুব আপত্তিকর মনে হলেও এর জবাবে কারো ওপর হামলে পড়া যায় না। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্ভব হলে আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানকারীই লাভ করেন সহানুভূতি। ঘটনার তদন্ত আর প্রতিবিধানের দাবিও উত্থাপিত হয়ে থাকে।
সম্প্রতি হবিগঞ্জ সদরে রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে এনসিপির একজন নেতার বক্তব্য ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তাদের ওপর হামলার ঘটনা বড় খবর হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি রোধে স্থানীয় পুলিশের সক্রিয়তা থাকলেও হামলার ঘটনা তারা রোধ করতে পারতেন কিনা, সেই প্রশ্ন উঠবে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের একাংশ যে ওই ঘটনায় জড়িত, তাতে সন্দেহ নেই। হামলায় এনসিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, এমন মানুষজনও আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের কাউকে কাউকে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। এমন প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলেই অভিহিত করতে হয়।
এনসিপির ওই নেতা প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাখলে পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়াটাই ছিল প্রত্যাশিত। সেটাই রাজনৈতিকভাবে কার্যকর হতো বলে মনে হয়। বিক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালানোর ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তারা প্রত্যাশিত ওই প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার পক্ষপাতী। তদন্তপূর্বক তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি স্বভাবতই উত্থাপিত হবে। স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়াটাও স্বাভাবিক। আমরা আশা করব, এমন যে কোনো ঘটনায় আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সেটাকে কোনো পক্ষ থেকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তার ফল ভালো হবে না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা নিয়েও আমরা একই মনোভাব ব্যক্ত করেছি। হবিগঞ্জের অপঘটনায়ও আমাদের অভিন্ন অবস্থান। কারো বক্তব্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর মনে হলে কিংবা কারো বিরুদ্ধে অন্য কোনো গুরুতর অভিযোগ উঠলেও ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীবিশেষের অধিকার জন্মে না তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার। এসব ক্ষেত্রেও আইনানুগ কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হতে হবে। হবিগঞ্জের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের যেসব কর্মী বিক্ষুব্ধ হয়েছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না দলটির স্থানীয় নেতারা। এ ধরনের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হলো বললেও ভুল হয় না। এটাকে গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী সময়ে ক্ষমতাসীন দল অনুসৃত ‘প্রতিক্রিয়া জানানোর মডেল’ বলেও অনেকে বর্ণনা করবেন।
হামলার প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির পাল্টা কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতির অধিকতর অবনতির যে শঙ্কা ছিল, তা রোধ করা হয়েছে ওই শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। ক্ষমতাসীন দল সেখানে এনসিপির পাল্টা কর্মসূচি প্রতিহত করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোনো ঘটনার বিস্তার রোধে আইনসম্মত পদক্ষেপ আমরা সমর্থন করি। অপঘটনায় ন্যায়বিচারও সমানভাবে প্রত্যাশিত।
গণঅভ্যুত্থানের পর মাঠে থাকা সব রাজনৈতিক দল পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি পেছনে ফেলে এগোবে, এটাও ছিল প্রত্যাশা। সক্রিয় সব পক্ষকেই জনগণের তিক্ত অভিজ্ঞতার গভীর থেকে উত্থিত সেই প্রত্যাশার কথা মনে রাখতে হবে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনাকর বক্তব্য প্রদানে অনেককেই উৎসাহী দেখা যায়। কেউ অভ্যাসবশত, আবার কেউ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এমনটা করে থাকেন। কারো কারো হয়তো থাকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্য। শান্তিপ্রিয় মানুষ এসব এড়াতেই পছন্দ করেন। আর রাজনৈতিক শিষ্টাচারে বিশ্বাসীরা এর বিপজ্জনক দিকের বিষয়ে সতর্ক করতে প্রয়াসী হন। তবে সবাই এ প্রশ্নে একমত যে, বক্তব্য খুব আপত্তিকর মনে হলেও এর জবাবে কারো ওপর হামলে পড়া যায় না। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্ভব হলে আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানকারীই লাভ করেন সহানুভূতি। ঘটনার তদন্ত আর প্রতিবিধানের দাবিও উত্থাপিত হয়ে থাকে।
সম্প্রতি হবিগঞ্জ সদরে রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে এনসিপির একজন নেতার বক্তব্য ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তাদের ওপর হামলার ঘটনা বড় খবর হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি রোধে স্থানীয় পুলিশের সক্রিয়তা থাকলেও হামলার ঘটনা তারা রোধ করতে পারতেন কিনা, সেই প্রশ্ন উঠবে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের একাংশ যে ওই ঘটনায় জড়িত, তাতে সন্দেহ নেই। হামলায় এনসিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, এমন মানুষজনও আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের কাউকে কাউকে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। এমন প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলেই অভিহিত করতে হয়।
এনসিপির ওই নেতা প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাখলে পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়াটাই ছিল প্রত্যাশিত। সেটাই রাজনৈতিকভাবে কার্যকর হতো বলে মনে হয়। বিক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালানোর ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তারা প্রত্যাশিত ওই প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার পক্ষপাতী। তদন্তপূর্বক তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি স্বভাবতই উত্থাপিত হবে। স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়াটাও স্বাভাবিক। আমরা আশা করব, এমন যে কোনো ঘটনায় আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সেটাকে কোনো পক্ষ থেকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তার ফল ভালো হবে না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা নিয়েও আমরা একই মনোভাব ব্যক্ত করেছি। হবিগঞ্জের অপঘটনায়ও আমাদের অভিন্ন অবস্থান। কারো বক্তব্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর মনে হলে কিংবা কারো বিরুদ্ধে অন্য কোনো গুরুতর অভিযোগ উঠলেও ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীবিশেষের অধিকার জন্মে না তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার। এসব ক্ষেত্রেও আইনানুগ কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হতে হবে। হবিগঞ্জের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের যেসব কর্মী বিক্ষুব্ধ হয়েছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না দলটির স্থানীয় নেতারা। এ ধরনের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হলো বললেও ভুল হয় না। এটাকে গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী সময়ে ক্ষমতাসীন দল অনুসৃত ‘প্রতিক্রিয়া জানানোর মডেল’ বলেও অনেকে বর্ণনা করবেন।
হামলার প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির পাল্টা কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতির অধিকতর অবনতির যে শঙ্কা ছিল, তা রোধ করা হয়েছে ওই শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। ক্ষমতাসীন দল সেখানে এনসিপির পাল্টা কর্মসূচি প্রতিহত করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোনো ঘটনার বিস্তার রোধে আইনসম্মত পদক্ষেপ আমরা সমর্থন করি। অপঘটনায় ন্যায়বিচারও সমানভাবে প্রত্যাশিত।
গণঅভ্যুত্থানের পর মাঠে থাকা সব রাজনৈতিক দল পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি পেছনে ফেলে এগোবে, এটাও ছিল প্রত্যাশা। সক্রিয় সব পক্ষকেই জনগণের তিক্ত অভিজ্ঞতার গভীর থেকে উত্থিত সেই প্রত্যাশার কথা মনে রাখতে হবে।
.png)

বিশ্ববিদ্যালয় আইনে নির্দিষ্ট ধারা যুক্ত করে ফ্যাসিবাদের সমর্থক, রাষ্ট্রীয় সুবিধাভোগী ও জুলাই গণহত্যার সাফাই গাওয়া ব্যক্তিদের শিক্ষকতা নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
১ ঘণ্টা আগে
জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’। আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাচ্ছি, যে পানি পান করছি, এমনকি সকালে ঘুম থেকে উঠে যে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজছি—সবখানেই ওত পেতে আছে এই নীরব ঘাতক।
৫ ঘণ্টা আগে
এক সময় অধিকাংশ দেশে বাঘ পাওয়া গেলেও এখন বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ১৩টি দেশে একে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে গত ১০০ বছরে বাঘের সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমলেও গত বছরের তুলনায় এর সংখ্যা খানিকটা বেড়েছে। কিন্তু এই খানিক বেড়ে যাওয়ার ঘটনাটা আবার ব্যর্থতা ঢাকার মতো নয় তো?
৭ ঘণ্টা আগে
কৃষির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে শিক্ষিত তরুণদের ওপর। কিন্তু অনেক তরুণই কৃষিকাজকে লাভজনক পেশা হিসেবে দেখতে চান না। তাই কৃষক কার্ডে তরুণ উদ্যোক্তা এবং নারী কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা থাকা উচিত।
৮ ঘণ্টা আগে