আগামী মাসে সিসা লাউঞ্জ বন্ধে অভিযান: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

রাজধানীসহ সারা দেশে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ৩০ এপ্রিলের পর সমন্বিত অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, যুবসমাজকে রক্ষা করতে এ ধরনের অপরাধ দমনে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের উত্থাপিত বিধি-৭১-এর নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জয়নুল আবদিন ফারুক নোটিশে বলেন, রাজধানীর অভিজাত এলাকার আবাসিক ভবন, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের আড়ালে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ গড়ে উঠেছে। বারবার অভিযান চালানো হলেও এসব লাউঞ্জ বন্ধ করা যাচ্ছে না। কেউ ঠিকানা পরিবর্তন করে, আবার কেউ প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের সহায়তায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বলেন তিনি।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী সিসা ‘খ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য হিসেবে তফসিলভুক্ত। সরকার মাদককে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে নির্বাচনী ইশতেহারেও এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি জানান, অবৈধ সিসা লাউঞ্জমালিকেরা রাষ্ট্রপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচটি রিট মামলা করেছিলেন। তবে আপিল বিভাগ এসব মামলার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাতিল করে দিয়েছেন।

মন্ত্রী আরও জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৮ এপ্রিল ২০২৬ সালের নির্দেশনায় অনুমোদনহীন সিসা লাউঞ্জ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ১৬ এপ্রিল গুলশান-২ এলাকার ‘দ্যা কোর্টইয়ার্ড বাজার লাউঞ্জ’-এ অভিযান চালিয়ে ৫ কেজি সিসা ও ৩৫টি হুক্কা জব্দ করা হয়। এছাড়া ২০ এপ্রিল ‘এস লাউঞ্জ রেস্টুরেন্ট’-এ অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি সিসা ও ৮টি হুক্কা জব্দ করা হয়েছে।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও অসাধু কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ সিসাবার গড়ে উঠেছিল।

তিনি বলেন, আগামী ৩০ এপ্রিল সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর সারা দেশে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সম্পর্কিত