ফতুল্লায় শিশু হত্যা

জেলের ‘অভিজ্ঞতা’ নিতে খুন করে ৬ কিশোর, দাবি পুলিশের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ

কৌতূহল মেটাতে শিশুকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬ কিশোর। ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শিশু হোসাইন হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ছয় কিশোরকে আটকের পর পুলিশ বলছে, জেল খাটার অভিজ্ঞতা কেমন– সেই কৌতূহলের জন্য তারা হোসাইনকে হত্যা করে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, যা পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়। এতে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছয়জনের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যার বিস্তারিত তুলে ধরেছে।

গত ১৮ এপ্রিল ফতুল্লার শিয়াচর এলাকার ফুল বিক্রেতা সুমনের ছেলে হোসাইন নিখোঁজ হয়। পাঁচ দিন পর গত ২৪ এপ্রিল ফতুল্লা রেল লাইন এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এসপি জানান, ঘটনার দিন সকালে হোসাইন পরিত্যক্ত ওই বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা তাকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। সেখানে ছয়জনে হোসাইনকে হত্যা করে।

তিনি বলেন, অভিযুক্তরা মাদকাসক্ত। জেল খাটলে কেমন লাগে, কেমন অভিজ্ঞতা হয়– এই কৌতূহল থেকে তারা কাউকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ওইদিন দুর্ভাগ্যক্রমে শিশু হোসাইন ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। ডেকে নিয়ে তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করে।

মিজানুর রহমান বলেন, হত্যার পর লাশ সেখানে ফেলে পালিয়ে যায় কিশোররা। তবে লাশের বিষয়ে খোঁজ নিতে আরেকজনকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানানো হয়। লাশ উদ্ধারের পর তদন্তে পুলিশ প্রথমে ওই কিশোরকে আটক করে। সেই পুলিশকে পুরো বিষয় জানায়। পরে পুলিশের তদন্ত দল বরিশাল থেকে রোববার দুজন এবং বাকিদের ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তাদের স্থায়ী নিবাস বিভিন্ন জেলায় হলেও, পরিবারের সঙ্গে ফতুল্লা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজন পলাতক রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যে পরিত্যক্ত ভবনের একপাশে ময়লার স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু জব্দ করা হয়।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) তাসমিন আক্তার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।

সম্পর্কিত