ফরিদপুরে মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ফরিদপুর

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ২৩: ২৯
গ্রেপ্তার অভিযুক্ত। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যার দায়ে উজ্জ্বল খান (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে এনে শ্বাসরোধে হত্যার পর তাঁদের মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার কোতোয়ালী থানার চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় থেকে জাহানারা বেগম (৩৫) ও তাঁর চার বছরের মেয়ে সামিয়ার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা। অভিযুক্ত উজ্জ্বল খানও একই এলাকার বাসিন্দা।

নিহত নারীর বাবা লালন মোল্লা কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার মোল্লা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোয়ালন্দর বকারটিলা এলাকা থেকে উজ্জ্বল খানকে গ্রেপ্তার করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকার আমিনবাজারে একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারা বেগমের সঙ্গে উজ্জ্বল খানের পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে ‘সম্পর্ক’ গড়ে ওঠে। গত ৪ মার্চ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জাহানারাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসেন উজ্জ্বল খান। ওই রাতে কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উজ্জ্বল খান প্রথমে জাহানারা বেগমকে এবং পরে তাঁর শিশুকন্যা সামিয়াকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর কোদাল দিয়ে ছাপড়া ঘরের পাশে পৃথক দুটি গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যান উজ্জ্বল। ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব এবং শিশু সামিয়ার পোশাক ও মালা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল ও ধারালো অস্ত্র এবং আসামির মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ইন্সপেক্টর মোশারফ হোসেন, কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ও পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত