জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

পিলখানার ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তার দুর্বলতা ফুটে উঠেছে: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

জাতীয় শহীদ সেনা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার অপপ্রয়াস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী এবং শক্তিশালী করার প্রয়োজন অনস্বীকার্য।’

আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আর্মি মাল্টিপারপাস মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে উজ্জ্বল ইতিহাস। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আর এ লক্ষ্যেই আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি আমরা ইতোমধ্যে ব্যক্ত করেছি।’

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এ দিনটিতে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়। বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়েও আজ বিদ্যমান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ভারী হয়ে উঠছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প। প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়। একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস। একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।’

পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ এবং দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা উপলব্ধি করেছি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের হয়তো ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতি অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।’

সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক করা হবে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের স্বার্থে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব, ইনশাআল্লাহ। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎসর্গের সঙ্গে সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী একাত্তর থেকে চব্বিশ পর্যন্ত সব গণআন্দোলনের শহীদ এবং পিলখানায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

সম্পর্কিত