এক্সট্রিম ও এন্ডুরেন্স অ্যাথলেটদের পৃষ্ঠপোষকতা দাবি এভারেস্ট জয়ী শাকিলের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ৪৬
এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। সংগৃহীত ছবি

এক্সট্রিম ও এন্ডুরেন্স অ্যাথলেটদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা এবং পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়েছেন এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর লেখা খোলা চিঠিতে তিনি এই দাবি জানান।

বুধবার (১ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি চিঠিটি পোস্ট করেন। পোস্টে শাকিল লেখেছেন, ‘পর্বতারোহণ কেবল একটি সাধারণ খেলা নয়; এটি একটি ‘এক্সট্রিম স্পোর্টস’, যা বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং খেলা হিসেবে স্বীকৃত। এই খেলার প্রতিটি পদক্ষেপে থাকে মৃত্যুর ঝুঁকি, কিন্তু হৃদয়ে থাকে দেশের নাম উজ্জ্বল করার অদম্য বাসনা। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা তালিকায় পর্বতারোহণ এবং এন্ডুরেন্স স্পোর্টসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অতীতেও রাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য কোনো সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। বরং বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা খোলা চিঠিতে শাকিল আরো লেখেছেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে পর্বতারোহণকে সর্বোচ্চ বীরত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হয় এবং এর জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পর্বতারোহীরা বিশ্বের বিখ্যাত পর্বতারোহীদের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের হয়ে সম্মান বয়ে আনছেন। কিন্তু রাষ্ট্র তাদের ন্যূনতম স্বীকৃতি ও সম্মান দেয়নি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বাংলাদেশ স্পোর্টস অ্যাডভেঞ্চার অ্যান্ড মাউন্টেনিয়ারিং কনফেডারেশন’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম আছে। কিন্তু আমার মতো প্রায় সকল পর্বতারোহী তা কখনো দেখেননি। তাদের কোনো কর্মকাণ্ডও চোখে পড়েনি কখনো।’

প্রধানমন্ত্রী বরাবর লেখা চিঠির কারণ জানতে চাইলে স্ট্রিমকে শাকিল বলেন, পর্বতারোহণ একটা এক্সট্রিম স্পোর্টস। সারা বিশ্বে এটা ১০০-৩০০ বছর ধরে চলে এলেও বাংলাদেশে নতুন। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন একটা ফেডারেশন আছে, কিন্তু এই ফেডারেশনের সঙ্গে পর্বতারোহীদের কোন যোগাযোগ নেই। কোন ক্লাবের সঙ্গে নেই। তাঁদের কোনো কাজও নেই। তাঁদের একটা ফেসবুক গ্রুপ আছে, সেখানে বাংলাদেশের পর্বতারোহণ নিয়ে কোন পোস্টও পাবেন না।

শাকিল আরো বলেন, ‘আমরা যখন দেশের বাইরে অভিযানে যাই, আমাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ফরওয়ার্ডিং প্রয়োজন হয়, ভিসার ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে সরকারের একটা ফরওয়ার্ডিং প্রয়োজন হয়। কিন্তু এগুলোর জন্য আমরা যখন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে যাই অথবা কোন অ্যাম্বাসিতে যাই, তখন আমাদের এগুলো দেওয়া হয় না। আমাদের বলা হয়, ফেডারেশনের আন্ডারে আসতে হবে। কিন্তু আমরা ফেডারেশনকে খুঁজে পাই না।’

শাকিল বলেন, ‘সরকারের উচিত, আমাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করা, আমাদেরকে একটু সামনে নিয়ে আসা, আমাদের সম্মানটা দেয়া, মূল্যায়ন করা।’

বাংলাদেশ স্পোর্টস অ্যাডভেঞ্চার অ্যান্ড মাউন্টেনিয়ারিং কনফেডারেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শাকিল বলেন, ‘বিদেশের যে ফেডারেশনগুলো আছে তাঁদের কাজ হলো পর্বতারোহীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা। নতুন পর্বতারোহী তৈরি করা, ট্রেনিং দেওয়া অন্য সব দেশের সাথে জয়েন্টলি এক্সপিডিশন করার আয়োজন করা হলো এসব ফেডারেশনের কাজ। সেইসঙ্গে বিপদের সময় সহযোগিতা, ইন্সুরেন্সের বিষয়গুলো দেখা, রেসকিউ করা, স্কুলগুলোতে ওয়াইল্ড ক্লাইম্বিং চালু করা। কিন্তু এসবের কিছুই করছে না। ইভেন বাংলাদেশের মিডিয়াও ফেডারেশন সম্পর্কে জানে না।’

জবাবদিহিতা চেয়ে শাকিল বলেন, ‘এই কাজগুলো করার জন্যই ফেডারেশন বসিয়েছে। তাঁদের টাকা দিচ্ছে। কিন্তু এসব ফান্ডের কোনো জবাবদিহি তারা করছে না। এই কারণে আমি চাই, এই ফেডারেশনের জবাবদিহিতা হোক। প্রয়োজনে ফেডারেশনের পুরো রিফর্ম করে নতুন শুরু হোক।

সম্পর্কিত