জাবি উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি ছাত্র ইউনিয়নের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ৩৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছবি: সংগৃহীত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (ইমন-তানজিম) জাবি সংসদ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়। এতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার জন্য নির্ধারিত ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফ করেন উপ-উপাচার্য। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা দাবি করেন, ওই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না দিয়ে এক ছাত্রনেত্রীকে দেওয়া হয়েছে।

ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ভেন্যু ফি মওকুফের এখতিয়ার উপাচার্যের; তাই উপ-উপাচার্য কোন ক্ষমতাবলে ফি মওকুফ করেছেন, তা স্পষ্ট করা জরুরি।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, পদোন্নতি বোর্ডের কোনো পূর্ব সুপারিশ ছাড়াই এক কর্মচারীর নাম রেজল্যুশনে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। উপ-উপাচার্য নিজেই ওই রেজল্যুশনে প্রথম সই করেছিলেন। পরে রেজল্যুশনটি বোর্ডে উপস্থাপন করা হলে এক সদস্যের আপত্তির মুখে তা সংশোধন করে প্রশাসন।

ছাত্র ইউনিয়ন এই ঘটনাকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাঁদের মতে, এসব ঘটনায় নিয়মের পরিবর্তে প্রশাসন ব্যক্তির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এসব অনিয়মের প্রতিবাদে তিন দফা দাবি পেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। দাবির মধ্যে রয়েছে—বাণিজ্যিক ক্যাম্পেইনের ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন, পদোন্নতি বোর্ডের রেজল্যুশন পরিবর্তনের চেষ্টায় জড়িত কর্মকর্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সংগঠনটির দাবি, জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাঁদের দ্রুত জবাবদিহি ও আইনের আওতায় আনতে হবে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে উপ-উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত