কমিটির বিরোধে ইউএনওর সামনে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পটুয়াখালী

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২০: ০৯
নতুন কমিটি নিয়ে পদবঞ্চিতরা বিক্ষোভ করলে একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ছবি: সংগৃহীত
নতুন কমিটি নিয়ে পদবঞ্চিতরা বিক্ষোভ করলে একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলা পরিষদ-সংলগ্ন বাউফল-লেবুখালী আঞ্চলিক সড়কে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুমকির ইউএনও আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী এবং পুলিশের সামনে যুবদলের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিলের একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

দুমকি থানার ওসি সেলিম উদ্দিন জানান, যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ হয়েছে। দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুমকি উপজেলা যুবদলের আংশিক কমিটির নেতাদের নাম জানানো হয়। এতে জাকির আলম মিলনকে সভাপতি ও জাহিদুল ইসলাম রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

কমিটি প্রত্যাখ্যান করে যুবদলের পদবঞ্চিতরা শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে। একপর্যায়ে নতুন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে মোটরসাইকেল শোডাউন নিয়ে আনন্দ মিছিল দুমকি উপজেলা পরিষদ-সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে, উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

যুবদলের সদ্য সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম সরদারের অভিযোগ, উপজেলা যুবদলের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে দুজন ব্যবসায়ীকে। মাঠের নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে ব্যবসায়ীদের ধরে এনে নেতা বানানো হলে ত্যাগীদের কী হবে?

উপজেলা যুবদলের সদ্য সাবেক আহ্বায়ক জসীম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, মিলনকে সভাপতি করা হয়েছে। অথচ তিনি ব্যবসায়িক কাজে ১২ মাসই ঢাকায় অবস্থান করেন।

জানতে চাইলে নতুন কমিটির সভাপতি জাকির আলম মিলন বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করতে পারবেন না– এমন কোনো নিয়ম নেই। তা ছাড়া সদ্য সাবেক কমিটির পাঁচ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম আমি। যারা এখন কমিটি নিয়ে বিতর্ক ছড়াচ্ছেন, বিগত দিনে তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে ছিলাম। এখন তারা শুধু নিজেকে নেতা ভাবলে, আমার কি করার?’

সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রুবেল জানান, তাঁর বাবা ইউনুচ আলী হাওলাদার ১৯৯৬ থেকে ২০০৫ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দুমকি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বাবার সঙ্গে শৈশবেই বিএনপির সহযোগী সংগঠনে যুক্ত থেকে তৃণমূলে রাজনীতি করেছেন।

তিনি বলেন, পদবঞ্চিতরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত