স্ট্রিম সংবাদদাতা

কৃষক আতাউর রহমান এবার শিয়ালমারা হাওরে চার কেয়ার (বিঘা) জমিতে বোরো চাষ করেছেন। এর মধ্যে ৩ কেয়ার জমির ধানই পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে স্কুলপড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে নিয়ে পানিতে নেমেছেন বাকি ধান কাটার জন্য। তাঁর স্ত্রী সেই ধান মাড়াইয়ের জন্য নৌকা থেকে সড়কে তুলছিলেন।
শিয়ালমারা হাওর সংলগ্ন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের ফকিরনগর গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান বলেন, ‘আমি একলা মানুষ। চার কেয়ার জমি করেছিলাম। এর ওপর নির্ভর করেই সারা বছর চলে সংসার। ধান পানির নিচে চলে যাচ্ছে। তাই কষ্ট করে ছেলেকে নিয়ে কেটে আনার চেষ্টা করছি।’
আতাউরের স্ত্রী জমিরুন নেছা আক্ষেপ করেই বলেন, ‘আমি জীবনের হাওরে আইছি না। বাধ্য হয়েই হাওরে আইছি। এখন আমার স্বামী অসুস্থ হয়েও ছেলেকে নিয়ে ধান কাটছেন আর আমি ভেজা ধান সড়কে নিয়ে শুকানো চেষ্টা করছি।’
সুনামগঞ্জের হাওরে হাজারো কৃষককে পানির নিচে থেকে ধান কেটে তুলতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। অনেকে বুক সমান পানিতে নেমে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে নৌকায় তুলে শেষ রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে কেটে তোলা ধান শুকাতে না পাড়লে তা কোনো কাজে আসনে না বলে জানান কৃষকরা।

সদর উপজেলার হালুয়ারগাঁও গ্রামের কৃষক আবু বক্করের ২০ কেয়ার (বিঘা) জমির মধ্যে ১৪ কেয়ারই পানিতে তলিয়ে গেছে। বাকি জমির ধান পানির নিচ থেকে তিনি কেটে তুলতে চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ১৫টা গরু আছে। আমরা কোনো রকম বাঁচতাম পারমু। গরুরে তো বাঁচানো যাইব না। তাই পানিতে ডুবেই ধান কাটছি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জে জলাবদ্ধতার পানিতে ডুবেছে ৯ হাজার ৪৯ হেক্টর জমি। যা ধানের হিসেবে ৫০ হাজার টন ক্ষতি হয়েছে। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ কেটি টাকা।
এদিকে চারদিন পর বৃহস্পতিবার রোদ উঠেছে হাওরে। তবে বিকেলে আবহাওয়ার খারাপ হতে দেখা গেছে। বৃষ্টি পুরোপুরি না থামলে ধান উত্তোলন সম্ভব হবে না। এর মধ্যেই উজানে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানি ক্রমাগতই বাড়ছে।

বন্যা পূর্ভাবাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বার্তা অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৬ এপ্রিল (গত রোববার) থেকে মেঘালয় চেরাপুঞ্জিতে হওয়া বৃষ্টির পানির ঢলে সুনামগঞ্জে পাহাড়ি নদীসহ ছোট বড় ৯৭ নদীতে পানি বেড়েছে। অন্যদিকে দেশের ভেতরে হওয়া ভারী বর্ষণে এবং অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতায় পড়েছে ১৯৯টি ছোট বড় হাওর।
এতে হাওরপাড়ে কৃষকের মধ্যে বইছে হতাশার সুর। পানির নিচে ডুবে গেছে সোনালি স্বপ্নের ধান। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এই ক্ষতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কৃষকরা জানান, জেলার হাওরে অর্ধেক জমির ফসল এখন পানির নিচে। কৃষক পরিবারগুলোর মধ্যে হাহাকার চলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী (পাউবো) প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলছেন, উজানে বৃষ্টি হওয়ায় নদীর পানি বেড়েছে। বাঁধ কেটে জলাবদ্ধতার পানি ভাটিতে বা নদীতে ছাড়ার কোনো উপায় নেই। এই অবস্থায় সুনামগঞ্জের নদীগুলোর পানি ধনু নদী হয়ে মেঘনায় নামতে সপ্তাহ খানেক লাগবে। এরপর হাওরের জলাবদ্ধতার পানি নামতে থাকবে।

কৃষক আতাউর রহমান এবার শিয়ালমারা হাওরে চার কেয়ার (বিঘা) জমিতে বোরো চাষ করেছেন। এর মধ্যে ৩ কেয়ার জমির ধানই পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে স্কুলপড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে নিয়ে পানিতে নেমেছেন বাকি ধান কাটার জন্য। তাঁর স্ত্রী সেই ধান মাড়াইয়ের জন্য নৌকা থেকে সড়কে তুলছিলেন।
শিয়ালমারা হাওর সংলগ্ন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের ফকিরনগর গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান বলেন, ‘আমি একলা মানুষ। চার কেয়ার জমি করেছিলাম। এর ওপর নির্ভর করেই সারা বছর চলে সংসার। ধান পানির নিচে চলে যাচ্ছে। তাই কষ্ট করে ছেলেকে নিয়ে কেটে আনার চেষ্টা করছি।’
আতাউরের স্ত্রী জমিরুন নেছা আক্ষেপ করেই বলেন, ‘আমি জীবনের হাওরে আইছি না। বাধ্য হয়েই হাওরে আইছি। এখন আমার স্বামী অসুস্থ হয়েও ছেলেকে নিয়ে ধান কাটছেন আর আমি ভেজা ধান সড়কে নিয়ে শুকানো চেষ্টা করছি।’
সুনামগঞ্জের হাওরে হাজারো কৃষককে পানির নিচে থেকে ধান কেটে তুলতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। অনেকে বুক সমান পানিতে নেমে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে নৌকায় তুলে শেষ রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে কেটে তোলা ধান শুকাতে না পাড়লে তা কোনো কাজে আসনে না বলে জানান কৃষকরা।

সদর উপজেলার হালুয়ারগাঁও গ্রামের কৃষক আবু বক্করের ২০ কেয়ার (বিঘা) জমির মধ্যে ১৪ কেয়ারই পানিতে তলিয়ে গেছে। বাকি জমির ধান পানির নিচ থেকে তিনি কেটে তুলতে চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ১৫টা গরু আছে। আমরা কোনো রকম বাঁচতাম পারমু। গরুরে তো বাঁচানো যাইব না। তাই পানিতে ডুবেই ধান কাটছি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জে জলাবদ্ধতার পানিতে ডুবেছে ৯ হাজার ৪৯ হেক্টর জমি। যা ধানের হিসেবে ৫০ হাজার টন ক্ষতি হয়েছে। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ কেটি টাকা।
এদিকে চারদিন পর বৃহস্পতিবার রোদ উঠেছে হাওরে। তবে বিকেলে আবহাওয়ার খারাপ হতে দেখা গেছে। বৃষ্টি পুরোপুরি না থামলে ধান উত্তোলন সম্ভব হবে না। এর মধ্যেই উজানে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানি ক্রমাগতই বাড়ছে।

বন্যা পূর্ভাবাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বার্তা অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৬ এপ্রিল (গত রোববার) থেকে মেঘালয় চেরাপুঞ্জিতে হওয়া বৃষ্টির পানির ঢলে সুনামগঞ্জে পাহাড়ি নদীসহ ছোট বড় ৯৭ নদীতে পানি বেড়েছে। অন্যদিকে দেশের ভেতরে হওয়া ভারী বর্ষণে এবং অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতায় পড়েছে ১৯৯টি ছোট বড় হাওর।
এতে হাওরপাড়ে কৃষকের মধ্যে বইছে হতাশার সুর। পানির নিচে ডুবে গেছে সোনালি স্বপ্নের ধান। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এই ক্ষতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কৃষকরা জানান, জেলার হাওরে অর্ধেক জমির ফসল এখন পানির নিচে। কৃষক পরিবারগুলোর মধ্যে হাহাকার চলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী (পাউবো) প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলছেন, উজানে বৃষ্টি হওয়ায় নদীর পানি বেড়েছে। বাঁধ কেটে জলাবদ্ধতার পানি ভাটিতে বা নদীতে ছাড়ার কোনো উপায় নেই। এই অবস্থায় সুনামগঞ্জের নদীগুলোর পানি ধনু নদী হয়ে মেঘনায় নামতে সপ্তাহ খানেক লাগবে। এরপর হাওরের জলাবদ্ধতার পানি নামতে থাকবে।

বিষয়টি নিয়ে পরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে ৫৩ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বিএনপি জোট থেকে ৩৬, জামায়াত জোট থেকে ১২ এবং স্বতন্ত্রদের জোটের এক প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।
২১ মিনিট আগে
দেশে ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ৮৬ শতাংশই শাসনের নামে শারীরিক ও মানসিক শাস্তির শিকার হচ্ছে। এই শাস্তি কেবল শিশুর মনে ভয়ের উদ্রেক করছে না, বরং তাদের মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যকারিতায় স্থায়ী নেতিবাচক পরিবর্তন আনছে।
২৯ মিনিট আগে
৭২ কোটি ৫৩ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী স্বল্প আয়ের মানুষদের মধ্যে সাশ্রয়ী দামে বিক্রির জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে তিনটি লটে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে এসব ডাল কেনা হবে।
১ ঘণ্টা আগে
কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে মাছ ধরে ফেরার সময় বাংলাদেশি সাতজন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার সাবরাং নয়াপাড়া ও শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন নদীতে এ ঘটনা ঘটে। এ খবর পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউএনও ইমামুল হাফিজ।
১ ঘণ্টা আগে