leadT1ad

নির্বাচনী কাজে শিক্ষার্থীদের না জড়ানোর দাবি বিএনপির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১: ২৮
বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল ও স্পর্শকাতর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের যুক্ত করা সমীচীন হবে না।

আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচনী কাজে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হলে তারা এবং তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিতর্কের মুখে পড়তে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংক্রান্ত আইনে যাদের দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে, কেবল তাঁদেরই নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত করা উচিত। তিনি জানান, ছাত্রদের পাশাপাশি স্কাউট ও গার্লস গাইডদের যুক্ত করার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন বিএনপির বক্তব্যের যৌক্তিকতা স্বীকার করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী এলাকায় ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের বিষয়ে গুঞ্জন শোনা গেলেও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে—এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত তারা নেয়নি। ‘শান্তি কমিটি’ শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে বিতর্কিত উল্লেখ করে বিএনপি এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।

ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, গত দেড় বছরে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার মাইগ্রেশন হয়েছে। বিশেষ কিছু আসনে নতুন ভোটারের সংখ্যা অস্বাভাবিক বলে বিএনপি মনে করে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ব্যাখ্যায় তারা সন্তুষ্ট নয় বলেও জানান তিনি। আসনভিত্তিক ভোটার মাইগ্রেশনের বিস্তারিত তথ্য ইতোমধ্যে কমিশনের কাছে চাওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু হোল্ডিংয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ভোটার অন্তর্ভুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে ভুয়া ভোটার তৈরির চক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, আইনে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও বিশৃঙ্খলা এড়াতে ভোটের অন্তত দুই দিন আগে বহিরাগতদের এলাকা ত্যাগ করা উচিত। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

পর্যবেক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান জানান, ৮১টি দেশীয় সংস্থার প্রায় ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দিয়েছে ইসি। কিছু স্বল্প পরিচিত প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিএনপি প্রশ্ন তুললে ইসি জানায়, বিষয়টি তারা পুনর্বিবেচনা করবে।

এছাড়া ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মানুষের বিশ্বাস ও আবেগকে পুঁজি করে ভোট চাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে নির্বাচন কমিশনের কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়াও উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত