leadT1ad

আইফোন চুরির অপবাদে হোস্টেলে স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা, লাশ নিয়ে থানায় বিক্ষোভ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
লক্ষ্মীপুর

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ২০: ১৫
শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি স্কুলের ছাত্রাবাসে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে (১৪) পিটিয়ে ও শ্বাস রোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় তাকে হত্যা করা হয়।

মেহেদী উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুত গ্রামের জিয়া উদ্দিন জিয়া ও রমিন আক্তার দম্পতির ছেলে। সে স্থানীয় ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির শিক্ষার্থী ছিল।

মেহেদীর চাচা জুয়েল রানা বলেন, ‘আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে আমার ভাতিজাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এ বিষয়ে একাডেমির অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, গত ১৪ জুন কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারিয়ে যায়। ৪১৪ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র মেহেদী হাসান ফোনটি চুরি করেছে বলে অপবাদ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফোন হারানো ওই ছাত্রসহ ৯ সিনিয়র শিক্ষার্থী মেহেদীকে ৪১৫ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে মারধর করা হয়।

ইসমাইলের ভাষ্য, মারধরে মেহেদী গুরুতর আহত ও একপর্যায়ে মৃত্যু কোলে ঢলে পড়ে। কিন্তু মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আড়াল করতে অভিযুক্ত ছাত্ররা মেহেদীর গলায় মাফলার পেঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়। মাগরিবের নামাজের ঠিক আগে আমরা মেহেদীকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মেহেদী হাসানের মৃত্যুর খবরে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমিতে ভাঙচুর এবং গাড়িতে আগুন দেয়। ছবি: সংগৃহীত
মেহেদী হাসানের মৃত্যুর খবরে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমিতে ভাঙচুর এবং গাড়িতে আগুন দেয়। ছবি: সংগৃহীত

একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ৯ শিক্ষার্থী ছাত্রাবাস থেকে পালিয়েছে।

রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে অভিযুক্ত ছাত্রদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, ছাত্র মৃত্যুর খবরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ওই এলাকার পরিস্থিতি। রাত ৮টার দিকে কয়েকশ’ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা স্কুলের বাইরে জড়ো হন। পরে রাত ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর এবং গাড়িতে আগুন দেয়।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি পুলিশ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। বিক্ষুব্ধ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পরে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে রাত ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা ও ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফেরাতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়া বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মেহেদীর লাশ নিয়ে রামগঞ্জ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ যথাযথ তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে দুপুর ২টার দিকে বিক্ষোভ শেষ হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত