হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির দাবি গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ১৯: ২৪
স্ট্রিম গ্রাফিক

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবকে ‘গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট’ আখ্যা দিয়ে দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। শনিবার (৯ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাতে বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সারা দেশে ৩৪৩ জন শিশু হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুবরণ করেছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে এবং ২৮৫ জন মারা গেছে উপসর্গ নিয়ে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যথাযথ টিকা ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্যের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার কারণেই এই মহামারি পরিস্থিতি হয়েছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা ক্রয়ে গাফিলতি, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং ইপিআই কর্মসূচিকে দুর্বল করার ফলেই এই মৃত্যু মিছিল। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল উল্লেখ করে তাঁরা দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংগঠনটি ১০ দফা দাবি পেশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ঘনবসতি ও দুর্গম এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা; প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষ ‘হাম কর্নার’ চালু এবং শিশুদের বিনামূল্যে ওষুধ ও ভিটামিন-এ দেওয়া; গ্রাম ও শহর পর্যায়ে স্তরভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাতে হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসার নামে ‘প্রহসন’ বন্ধ হয়; টিকা নিয়ে গুজব রোধে ধর্মীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা; আইপিএইচ-এর ভ্যাকসিন উৎপাদন পুনরায় চালু করে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো; এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ মোকাবিলায় ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার অন পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি’ চালু করা। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগে নির্মিত সরকারি শিশু হাসপাতালগুলো দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবিও জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হাম অত্যন্ত সংক্রামক। সঠিক পদক্ষেপ না নিলে আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়া, অন্ধত্ব বা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সম্পর্কিত