স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু অক্টোবরে, সেনা চায় না ইসি

স্ট্রিম গ্রাফিক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর জন্য সম্প্রতি দুই দফা অভ্যন্তরীণ বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও কমিশনাররা। বৈঠকে নির্বাচনী আইন, বিধিমালা ছাড়াও কবে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসিকে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে মন্ত্রী-এমপিরা বিভিন্ন সময়ে এই নির্বাচনের ব্যাপারে বক্তব্য দিচ্ছেন। বৈঠক সূত্র জানায়, গত ১৩ ও ২১ মে– দুটি বৈঠকেই নির্বাচন শুরুর দিন নিয়ে আলোচনা হয়। তিন কমিশনার অক্টোবরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরুর বিষয়ে মত দেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বৈঠকে থাকা এক কর্মকর্তা স্ট্রিমকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বরে শুরুর বিষয়ে আলোচনা আসছে। কিন্তু সে সময় বর্ষা থাকায় কমিশন অক্টোবরের শেষে করতে চায়। সেটি কোনো কারণে সম্ভব না হলে নভেম্বরের শুরুতে নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহী।

একই ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘সরকার তো সেপ্টেম্বরে শুরু করতে বলছে। কিন্তু তখন তো বর্ষাকাল। বৃষ্টির সময়ে হাওরঘেরা মিঠামইনে কি নির্বাচন করা সম্ভব? সম্ভব হবে না। শুধু মিঠামইন নয়, বর্ষায় বেশির ভাগ এলাকায় সম্ভব হবে না। তবে এই বছরের শেষের দিকে আমরা নির্বাচন শুরু করব। সেটি নভেম্বরের আগেও হতে পারে।’

সেনাবাহিনী না রাখার চিন্তা

গত ১৮ ও ২১ মে পৃথক অনুষ্ঠানে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাতের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি রাজনৈতিক দল ও জনগণের প্রতি রক্তপাতহীন নির্বাচনের আহ্বান জানান। তবে স্থানীয় নির্বাচনের মাঠে সেনাবাহিনী রাখতে নারাজ ইসি। দুটি বৈঠকেই কমিশনাররা এই বিষয়ে তাদের মত জানিয়েছেন।

এই চিন্তাকে অযৌক্তিক বলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘সংসদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনাবাহিনী রাখা দরকার। তাহলেই কেবল রক্তপাতহীন নির্বাচন হবে। আমরা মনে করি, সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয় ইসির গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।’

এ ব্যাপারে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন একেক সময় একেক এলাকায় হবে। সেভাবেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে। যেমন– আমরা ঢাকা বিভাগে নির্বাচন করলাম। তখন সব ফোর্স ঢাকা বিভাগে কাজ করবে। এজন্য আমরা এই নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে রাখতে রাজি নই।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কখনো সেনাবাহিনীকে ডাকা হয় না। ভাগে ভাগে করলে তো কোনো প্রয়োজন নেই। নিয়মিত বাহিনীর সদস্যরা ধাপে ধাপে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।’

ভোট শুরু ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে

সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন। ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্যে, দেশে মোট ইউপি ৪ হাজার ৫৮১টি। ৩৩০ পৌরসভা, ৪৯৫ উপজেলা এবং নতুন করে গঠিত বগুড়াসহ সিটি করপোরেশন ১৩টি। চারটির মধ্যে কোনটি আগে শুরু হবে, তা এখনো ঠিক করেনি কমিশন। তবে সূত্রের দাবি, মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন করার পক্ষে কমিশনাররা। এরপর সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং শেষ ধাপে উপজেলা পরিষদ।

আব্দুর রহমানেল মাসউদ বলেন, কোন নির্বাচন আগে শুরু হবে, তা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। আলাপ-আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ইউনিয়ন পরিষদে আগে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনী ব্যয় বৃদ্ধিসহ বড় পরিবর্তন আসছে বলে জানান তিনি। যদিও কত বাড়ছে তা জানাননি এই কমিশনার।

বৈঠক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের মার্চে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জামানত ১০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ এবং ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা করে। সেই বিবেচনায় সিটি করপোরেশন, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউপির চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের জামানত বাড়ানোর চিন্তা করছে ইসি।

এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থীদের দেড় লাখ, কাউন্সিলর প্রার্থীদের ১ লাখ, পৌরসভার মেয়র প্রার্থীদের ১ লাখ ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য ৭৫ হাজার টাকা জামানত করা হতে পারে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ২০ হাজার ও সদস্য প্রার্থীদের জন্য এক হাজার টাকা জামানত নির্ধারণ করা হতে পারে।

গত ৯ এপ্রিল স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে করা-সংক্রান্ত সংশোধিত আইন সংসদে পাস হয়। এরপর এর আচরণবিধিমালা ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন নিয়ে কাজ শুরু করে ইসি, যা চলমান। গত ১০ মার্চ মাঠপর্যায়ে চিঠি দেয় কমিশন। এতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য নির্দিষ্ট ছকে চাওয়া হয়। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে থেকে তথ্য ইসিতে জমা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত