সহায়তা নয়, প্রত্যাবাসন রোহিঙ্গাদের একমাত্র পথ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্ট্রিম প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান একমাত্র নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনেই সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মানবিক সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সমাধান হতে পারে না; রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে টেকসই প্রত্যাবাসন একমাত্র পথ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিআইআইএসএস মিলনায়তনে ‘ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের’ গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছরের বেশি সময় হতে চলেছে। এখন আর কেবল সংকট ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা যথেষ্ট নয়। রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দিতে হবে। এ জন্য নতুন করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ (রি-ফ্রেমিং) জরুরি।
অতীতের সফলতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থাকলে প্রত্যাবাসন সম্ভব। ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে এবং ১৯৯২-তে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফলভাবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করিয়েছিল। বর্তমান রাজনৈতিক সরকারও সেই সদিচ্ছা নিয়ে এই সংকট সমাধানের বিষয়ে আশাবাদী।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সমন্বিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি’ গঠন হয়েছে। বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (এফডিএমএন) দৈনন্দিন প্রশাসনিক বিষয়, আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা দেখভালের জন্য তাঁর নিজের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি কাজ করছে।
কক্সবাজারের বাস্তব পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ মানবিক কারণে প্রায় ১৫ লাখ (সরকারি হিসাবে ১২ লাখের বেশি) রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও সুরক্ষা দিয়ে আসছে। তবে এই পরিস্থিতি স্থানীয় ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। ক্যাম্পগুলোতে মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, সশস্ত্র অপরাধী চক্রের তৎপরতা ও অভ্যন্তরীণ সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়ে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
এছাড়া কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের কৃষিজমি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় মানুষের স্বার্থ রক্ষা ও ক্যাম্পের শৃঙ্খলা বজায় প্রয়োজনীয় স্থানে বেষ্টনী (ফেনসিং) ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মানবিক সহায়তা জরুরি, কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা ছাড়া অনির্দিষ্টকালের সহায়তা প্রকারান্তরে রাজনৈতিক সমাধানের তাগিদকে কমিয়ে দেয়। আমাদের উন্মুক্ত জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমের মডেলের পরিবর্তে প্রত্যাবাসনমুখী কৌশল নিতে হবে।’
আন্তর্জাতিক মহলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক মহলের অব্যাহত সমর্থন প্রয়োজন। বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতের ভিড়ে রোহিঙ্গা ইস্যু যেন চাপা না পড়ে। জাতিসংঘসহ প্রভাবশালী দেশ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো যেন বিষয়টি নজরে রাখে।’
.png)

-23faa3-256x144.webp)


-ab4e20.jpeg)

