নেপালে বন্যা/১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত বৃদ্ধা উদ্ধার
স্ট্রিম ডেস্ক

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মারা গেছেন এমন ধারণা করে এক বৃদ্ধার শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু করেছিল তাঁর পরিবার। তবে ঘটনার ১০ দিন পর ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।
চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা নামের ওই নারী বন্যার পানি ও কাদায় ধসে পড়া চারতলা বাড়ির একটি সরু ফাঁকা জায়গায় আটকে ছিলেন। সেখানেই কোনোভাবে ১০ দিন ধরে বেঁচে ছিলেন তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনাল বলেন, বন্যার স্রোতে চারতলা বাড়িটি ভেসে গিয়ে কাদা ও পানির মধ্যে আটকে যায়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বাড়িটির আশপাশে তল্লাশি চালানোর সময় ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুনতে পান উদ্ধারকারীরা।
এরপর প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে ধ্বংসস্তূপের সংকীর্ণ জায়গা থেকে শ্রেষ্ঠাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দারনাল জানান, তিনি ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এরই মধ্যে পরিবার তাঁর জন্য ১১ দিনের শোক পালন শুরু করেছিল।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি বেত্রাওয়াতিতে এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। শহরের বাজার ও অধিকাংশ আবাসিক ভবন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। কোথাও কোথাও চারতলা ভবনও প্রায় পুরোপুরি মাটির নিচে চলে গেছে।
নেপালজুড়ে ভয়াবহ এই দুর্যোগে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা কোদাল দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি ভবনের ফাঁকে কেউ জীবিত আছেন কি না, তা খুঁজে দেখছেন। আটকে থাকা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে মাঝেমধ্যে বাঁশিও বাজানো হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তা দারনাল জানান, পাঁচ দিন আগে বেত্রাওয়াতির বাজার এলাকার একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহগুলো পচন ধরা অবস্থায় ছিল।
বন্যার ১১ দিন পরও ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে আটকে থাকা মানুষকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। শুক্রবার থেকে এখন পর্যন্ত তিনজনকে সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ত্রিশুলি নদীর কাছ থেকে একজন চীনা নাগরিকও রয়েছেন। ওই এলাকায় এখনো ৯০০ জনের বেশি মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শ্রেষ্ঠার মতো আরও কয়েকজনও ধ্বংসস্তূপে আটকে থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে আট বছরের একটি শিশুও রয়েছে।
সুত্র: রয়টার্স
.png)






-fd66b5-256x144.webp)