বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি বাজারে বিশেষ প্রভাব ফেলবে না, দাবি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ১৫: ৪৮
সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে জরুরি প্রেস ব্রিফিং। ছবি: পিআইডি

বিদ্যুতের দাম বাড়ানো বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় সরকারের জন্য অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পরিচালনা করা সম্ভব নয়।’

শনিবার (৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বুধবার পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে আদেশ জারি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে হয় ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। অবশ্য পরদিন আবাসিকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত আগের দাম পুনর্বহাল করায় গড় কমে ১০ টাকা ৪০ পয়সা হয়।

মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বাড়ানোয় রাজনৈতিক দল ও ভোক্তাদের সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। এরপর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে তথ্য অধিদপ্তর।

সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, মূল্য সমন্বয়ের ফলে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর যাতে বাড়তি চাপ না পড়ে, সেজন্য সরকার বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করছে। বাজারে অন্যায়ভাবে দাম বাড়ানো হলে সরকার নিশ্চয়ই কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘যদি কারও ওপর চাপ পড়ে, সেই ভালনারেবল গ্রুপটাকে কিন্তু আমরা রক্ষা করছি। আমরা বিদ্যুতের দাম তাদের জন্য বাড়াইনি এবং তাদের অনেকেই সরকারের কাছ থেকে ভাতা পেতে শুরু করবেন।’

ডা. জাহেদ বলেন, আসন্ন বাজেটে একটা বড় অংশের মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এ ছাড়া টিসিবির মতো সহায়তামূলক যেসব প্রকল্প ছিল সেগুলোও চলবে। এ কারণে তিনি আশা করেন, খুব বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।

বিদ্যুৎ খাতে কাঠামোগত সংস্কার ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিতে সরকার ধাপে ধাপে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে এ ধরনের পরিবর্তনের ফল পেতে কিছুটা সময় লাগে।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সরকার একদিকে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা করছে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা অর্জনের চেষ্টা করছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে এখনও প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তবে দেশের অর্থনীতি থেকে অতীতে যে পরিমাণ অর্থ পাচার ও লুটপাট হয়েছে, তার তুলনায় এই ভর্তুকির পরিমাণ খুব বড় নয়।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে ঘিরে দীর্ঘ এক থেকে দেড় দশক ধরে যে দুর্নীতির চক্র গড়ে উঠেছিল, সেখান থেকে বের হয়ে আসতে সময় লাগবে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতিরই ফল।

সম্পর্কিত