জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

কক্সবাজারে সাবেক সমন্বয়ক খুন, তরুণী পুলিশ হেফাজতে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কক্সবাজার

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০: ৫৪
নিহত খোরশেদ আলম ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খোরশেদ আলম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের কবিতা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরে খোরশেদের সঙ্গে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক তারিনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

খোরশেদ কক্সবাজার সদরের ইসুলুর ঘোনা এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনিও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কক্সবাজারের সাবেক সমন্বয়ক এবং শহর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিদুয়ানুল হক বলেন, খোরশেদ ছাত্রদল করলেও কোনো পদপদবি ছিল না। কবিতা চত্বরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

খোরশেদের মৃত্যুর খবরে শহরে উত্তেজনা দেখা দেয়। সদর হাসপাতালের সামনে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ভিড় করেন। পরে রাত সোয়া ১টার দিকে কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মী। শহর ঘুরে পুরোনো শহীদ মিনার এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।

সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ছাত্রদলকর্মী খোরশেদ আলমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সৈকতসহ শহরজুড়ে কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারীর দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেলেও পুলিশ নির্বিকার।’

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান বলেন, ‘কবিতা চত্বরসহ সৈকত এলাকায় এখন লাখো পর্যটকের সমাগম চলছে। অথচ এসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের টহল নেই। খোরশেদ হত্যাকাণ্ড শান্ত পর্যটন শহরের জন্য অশনিসংকেত।’

সমাবেশে পুলিশের নির্লিপ্ততার অভিযোগ তোলেন জেলা এনসিপির মুখপাত্র ও দলের জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ বিন সাঈদ। পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হয় দ্রুত খোরশেদ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করুন, নয়তো বদলি হয়ে চলে যান। কক্সবাজারে আপনাদের প্রয়োজন নেই।’

কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ওসমান সরওয়ার সমাবেশে উপস্থিত হয়ে খোরশেদ আলম হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাতে কবিতা চত্বরে আড্ডা দিচ্ছিলেন খোরশেদ আলম। এ সময় দুই যুবক খোরশেদ আলমের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। খোরশেদের পা, পেটসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম করেন ওই যুবকরা। খবর পেয়ে বন্ধু শাহ আলম ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় খোরশেদকে সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সময় খোরশেদের সঙ্গে থাকা তারিন জানান, কবিতা চত্বরে অবস্থানকালে হঠাৎ দুজন এসে খোরশেদকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। এরপর বলেন, ‘কী আছে, দিয়ে দাও।’ একপর্যায়ে খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

সদর মডেল থানার ওসি ছমি উদ্দিন জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতের সঙ্গে থাকা এক নারীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মসজিদে ঢুকে মুসল্লিকে ছুরিকাঘাত, যুবক আটক

কক্সবাজার পৌরসভার উত্তর টেকপাড়ায় বায়তুশরফ জামে মসজিদে মুসল্লিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নুরুল আজিম নাহিদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার এশার নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে। এতে আক্তার হোসেন আহত হন। পরে মুসল্লিরা নাহিদকে ধরে পুলিশে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জায়নামাজ ও টুপি হাতে নাহিদ মসজিদে আসেন। হঠাৎ ছুরি বের করে আক্তার হোসেনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। একপর্যায়ে মসজিদের মিম্বারে উঠে নাহিদ বাকিদের ছুরি দিয়ে ভয় দেখাতে থাকেন। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।

সদর থানার ওসি জানান, অভিযুক্ত যুবককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত