ভার্চ্যুয়াল কোর্ট বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে বিক্ষোভ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে ‘একচুয়াল কোর্ট’ চালুর দাবিতে আইনজীবীদের বিক্ষোভ। স্ট্রিম ছবি।

সপ্তাহে দুই দিন সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ ভার্চ্যুয়ালি পরিচালনার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার প্রতিবাদে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করেছেন আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে এই কর্মসূচি পালন করে সশরীরে নিয়মিত আদালত বা ‘একচুয়াল কোর্ট’ চালুর দাবি জানান তাঁরা।

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন একটি নির্দেশনা জারি করে। রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে বিচারকাজ চলবে। সপ্তাহের অন্যান্য কার্যদিবসে সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে আদালত পরিচালিত হবে।

তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন আইনজীবীরা। বিক্ষোভ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহ-সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহফুজুর রহমান খান বলেন, 'জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য এই পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবে কিছুই সাশ্রয় হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গন নিয়মিত গাড়িতে ভরে যাচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা সশরীরেই আসছেন।'

বিচার বিভাগকে শপিং মলের সঙ্গে তুলনা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,'দেশের বিচার বিভাগ হচ্ছে আইনের শাসন ও নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জায়গা। এটি কোনো শপিং মল নয় যে রাত ৮টার পর বন্ধ করে দিলে সমস্যা হবে না। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখতে হলে যেকোনো মূল্যে বিচার বিভাগকে সচল রাখতে হবে।'

ভার্চ্যুয়াল কোর্টের কারণে মামলা নিষ্পত্তির হার তলানিতে ঠেকেছে বলে অভিযোগ করেন অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান। সুপ্রিম কোর্টের তথ্যের বরাতে তিনি জানান, 'গতকাল (বুধবার) আপিল বিভাগে মাত্র ৯৫টি মামলার শুনানি হয়েছে এবং ২১টি নিষ্পত্তি হয়েছে। অথচ চেম্বার জজ একাই নিয়মিত ১০০ থেকে ২০০ মামলার শুনানি করেন। হাইকোর্ট বিভাগের ৬৩টি বেঞ্চে মাত্র ৬১২টি মামলার শুনানি হয়েছে, যার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৫৬টি। এটি নিয়মিত সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। এই প্রক্রিয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া স্থবির ও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।'

দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, 'আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে এই পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নিয়মিত আদালত চালু না করলে ওই দিন বেলা ১টায় আমরা কালো পতাকা নিয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করব।'

আদালতে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার সমালোচনায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, 'আজকের এই আপিল বিভাগ কোনো আইনের দ্বারা হয়নি, এটি জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের ফসল। সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া মানে গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। প্রধান বিচারপতি তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে সাংবাদিকদের আগের মতো সব আদালতে স্বাধীনভাবে প্রবেশের সুযোগ দেবেন বলে আমরা আশা করি।'

অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান খান আরও বলেন, 'বর্তমানে সবচেয়ে স্পর্শকাতর আইসিটি ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজও লাইভ প্রচার হচ্ছে। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণ আমাদের বোধগম্য নয়।'

এর আগে ‘গড়ে তোলো একতা, আইনজীবী জনতা’ এবং ‘না ভার্চ্যুয়াল, একচুয়াল একচুয়াল’ স্লোগানে কালো পতাকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করেন আইনজীবীরা। সমাবেশে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম, শাহ আহমেদ বাদল, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান বিশ্বাস রায়হান ও ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলামসহ আরও অনেক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত