সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সিসি ক্যামেরা বসাতে হাইকোর্টের রুল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ১৫: ২৭
হাইকোর্ট ভবন। ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত সিসিটিভি ক্যামেরা ও পাবলিক ডিসপ্লে মনিটর স্থাপনের বিষয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার (৩ মে) এ রুল জারি করে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে (আইজিআর) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রুলে নিবন্ধন অধিদপ্তরের আওতাধীন দেশের সব সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে হাই-ডেফিনিশন (এইচডি) সিসি ক্যামেরা ও পাবলিক ডিসপ্লে মনিটর স্থাপনে অবিলম্বে পদক্ষেপ না নেওয়া কেন বেআইনি ও আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি সেবার ডিজিটালাইজেশন, তদারকিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন এবং সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলোতে চব্বিশ ঘণ্টা কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আল মামুন সরোয়ার নিজে আদালতে উপস্থিত হয়ে জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল তিনি বিবাদীদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে জবাব না পেয়ে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসাইনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে অফিসে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের খবরে অনুপ্রাণিত হয়ে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান রিটকারী।

এ বিষয়ে আল মামুন সরোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির সাহেবকে আমরা এ ক্ষেত্রে একটি রোল মডেল হিসেবে পেয়েছি। তিনি নিজ উদ্যোগে সিসিটিভি ক্যামেরা ইনস্টল করে মনিটরগুলো বাইরে জনসাধারণের দেখার জন্য দিয়েছেন। আমি নিজে সেখানে গিয়ে বিষয়টি দেখেছি।’

সাভারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সেটি দেখার পর আমার মনে হয়েছে, সারা দেশে যদি এটি করা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহিতার একটি পরিষ্কার জায়গা তৈরি হবে।’

শুধু সিসি ক্যামেরা দিয়ে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এই আইনজীবী বলেন, ‘দুর্নীতি তো আসলে মানুষের অন্তরের বিষয়। এটাকে সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলা যায় না। কিন্তু আমরা এটা মিনিমাইজ করতে বা কমিয়ে আনতে পারি।’

প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশন এখানে একটি আর্টিফিশিয়াল উইটনেস বা কৃত্রিম সাক্ষী হিসেবে কাজ করবে। এর একটি সাক্ষ্যগত ভ্যালু আছে। রেকর্ডগুলো সেখানে সংরক্ষিত থাকতে পারে। সরকারি কর্মচারীদের জনগণের কাছে যে জবাবদিহিতা আছে, তা নিশ্চিত করতে এবং স্বচ্ছতা আনতে সিসি ক্যামেরা ছোট্ট একটি মাধ্যম হতে পারে।’

রিট আবেদনে আইনি ভিত্তি হিসেবে বলা হয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলো দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বচ্ছতার অভাবে জর্জরিত। যথাযথ তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও মানসিক চাপে ফেলা হচ্ছে। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায় এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

অফিসগুলোর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সাধারণ মানুষ ও অশিক্ষিতরা দালালদের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হচ্ছেন উল্লেখ করে রিটে বলা হয়, এটি সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের আওতায় সমান সুযোগ এবং আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দেশব্যাপী এসব অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা এখন অপরিহার্য।

সম্পর্কিত