জুলাই গণঅভ্যুত্থান
স্ট্রিম সংবাদদাতা

বাড়িতে লোক (সাংবাদিক) এসেছে শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে কেঁদে ওঠেন ফেনীর সোনাগাজীর মান্দারী গ্রামের শহীদ শাকিবের মা কোহিনুর আক্তার। স্ত্রীর কান্না দেখে বাবা আবদুল লতিফও নিজের চোখের পানি আড়াল করতে পারেননি। তাঁদের ছেলে জাকির হোসেন শাকিব ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জেলার মহিপাল চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শহীদ হন। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় সেদিন শহীদ হন আরও ৬ জন।
শাকিবের মা কোহিনুর আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলেকে মহিপালে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করেছে। এতদিন পার হয়ে গেলেও আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার পেলাম না। কাঁদতে কাঁদতে এখন চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। তবুও বিচার পাচ্ছি না।’
বাবা-মার দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অধিকাংশ ব্যক্তি এখনও পলাতক, অল্প কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে— বাকিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
পুলিশ ও প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় একদিনেই নিহত হন ৭ জন। গুলিবিদ্ধসহ হামলায় আহত হন চার শতাধিক। এতে পঙ্গুত্ব বরণ করেন প্রায় ৫০ জন। এসব ঘটনায় ৭টি হত্যাসহ মোট ২২টি মামলা হয়েছে। এতে প্রায় ১১ হাজার আসামির মধ্যে এজাহারনামীয় প্রায় আড়াই হাজার। বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ১৯২ জন, তবে তাঁদের মধ্যে এজাহারনামীয় আসামি মাত্র ২২৩ জন। অন্যদিকে অনেক আসামি কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
এদিকে ৬টি হত্যা ও ৭টি হত্যাচেষ্টা মামলায় ২ হাজার ১৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ২টি হত্যা মামলার বিচারকাজও শুরু হয়েছে। এর মধ্যে টমটমচালক সবুজ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে, আর আলোচিত শিহাব হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন (চার্জ গঠন) শেষে সাক্ষ্যগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে।
এখনো শ্রাবণের ঘর সাজিয়ে রেখেছেন বাবা-মা
মহিপাল চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে মাথায় মায়ের ওড়না প্যাঁচিয়ে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন ইশতিয়াক আহম্মেদ শ্রাবণ। উচ্চমাধ্যমিক পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। পরিবারকে বলেছিলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাই যখন রাজপথে নেমেছে, তখন ঘরে বসে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। সেই বের হওয়াই ছিল তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা— মহিপালে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান তিনি।
ঘটনার পর বেশ কিছুটা সময় পেরিয়ে গেলেও শ্রাবণের ঘরে খুব বেশি কিছু বদলায়নি। তাঁর ব্যবহৃত পোশাক, বই, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এখনও আগের জায়গাতেই রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বলেন, ইচ্ছা করেই কিছু সরানো হয়নি— কারণ ঘরে ঢুকলে এখনও মনে হয়, শ্রাবণ বুঝি একটু পরই ফিরে এসে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকবে।
সন্তান হারানোর বেদনা নিয়ে প্রতিটি দিন পার করছেন বাবা নেছার আহম্মেদ ও মা ফাতেমা আক্তার শিউলি। সময়ের সঙ্গে তাঁদের চোখের জল হয়তো কিছুটা আড়াল হয়েছে, কিন্তু বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ আরও গভীর হয়েছে।
শ্রাবণের বাবা নেছার আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের চাওয়া খুব বেশি কিছু নয়। মামলার অনেক এজাহারভুক্ত আসামি এখনো বাইরে আছে। মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, দ্রুত অভিযোগপত্র দিয়ে বিচারকাজ শুরু করা হোক। মামলার তারিখগুলো যেন দ্রুত নির্ধারণ করা হয়।’
শেষ স্মৃতি আঁকড়ে আছে শহীদ পরিবার
গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার এক দফা কর্মসূচিতে মহিপালে যোগ দিয়েছিলেন ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সরওয়ার জাহান মাসুদ। পরিবারের কাছে বলে গিয়েছিলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেবেন। কিন্তু সেখান থেকে আর ফিরে আসা হয়নি। পরিবার জানিয়েছে, শরীরে একাধিক গুলি লাগার পরও তিনি জীবিত ছিলেন। পরে ছোট ভাই মাসুম আল সামী তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
একইভাবে কলেজ শিক্ষার্থী মাহবুবুল হক মাসুম কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে ভাই-বোনদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘শহীদ হব, তবুও আন্দোলনে যাব। ঘরের ভেতরেও শিশুরা মারা যাচ্ছে, এখন বাসায় বসে থাকা অন্যায়।’ পরিবারের কেউ তখন ভাবতেও পারেননি, এটাই হবে মাসুমের সঙ্গে তাঁদের শেষ কথোপকথন।
ওয়াকিল আহম্মেদ শিহাবের পরিবার জানত, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তিনি রাজপথে যাচ্ছেন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা। সেখানে পিঠ, মাথা ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। সহযোদ্ধারা তাঁকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
৪ আগস্ট সকালে বাবার কাছ থেকে ২৫ টাকা গাড়িভাড়া নিয়েছিলেন সাইদুল ইসলাম শাহী। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার কাছে ২৫ টাকা আছে, আর ২৫ টাকা পেলেই ফেনী থেকে বাড়ি ফিরতে পারব।’ এটাই ছিল পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা।
মামলার তুলনায় তদন্ত কর্মকর্তা কম
জুলাই হত্যাকাণ্ডের এসব মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদেরও আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার সংখ্যার তুলনায় তদন্তকারী কর্মকর্তার সংখ্যা সীমিত।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, থানাগুলোতে কর্মরত একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) একসঙ্গে কয়েকটি মামলার তদন্ত করতে হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, ডিজিটাল ফরেনসিক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেওয়াসহ নিবিড় কাজে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় লাগছে।
মামলার কয়েকজন বাদী জানান, ঘটনার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ত্রুটিপূর্ণ মামলা ও পুলিশের কাঠামোগত দুর্বলতায় অনেক ক্ষেত্রে তদন্তপ্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ওপর বহুমুখী চাপ ও রাজনৈতিক তদবিরও তৈরি করছে বাড়তি জটিলতা।
ফেনী জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মেজবাহ উদ্দিন খান বলেন, ‘হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের ১৫টি মামলার বিচার ফেনীর আদালতে চললেও হত্যা মামলাগুলো শিগ্গিরই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে। এর চিফ প্রসিকিউটরের ফেনী সফরের পর মামলাগুলোর পুনঃতদন্ত হতে পারে।’
মামলার বাদীপক্ষের একজন আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, মামলার বিচার কোন আদালতে হবে, সেটি মুখ্য বিষয় নয়— গণহত্যাসহ এসব নৃশংস ঘটনার বিচার হওয়া জরুরি। সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে জড়িতদের অপরাধ অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মু. সাইফুল ইসলাম জানান, সততার সঙ্গে তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে মামলাগুলোর অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে। এরপরও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।
ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ছাত্র আন্দোলনের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরপরাধ কেউ যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজর রাখছি।

বাড়িতে লোক (সাংবাদিক) এসেছে শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে কেঁদে ওঠেন ফেনীর সোনাগাজীর মান্দারী গ্রামের শহীদ শাকিবের মা কোহিনুর আক্তার। স্ত্রীর কান্না দেখে বাবা আবদুল লতিফও নিজের চোখের পানি আড়াল করতে পারেননি। তাঁদের ছেলে জাকির হোসেন শাকিব ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জেলার মহিপাল চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শহীদ হন। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় সেদিন শহীদ হন আরও ৬ জন।
শাকিবের মা কোহিনুর আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলেকে মহিপালে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করেছে। এতদিন পার হয়ে গেলেও আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার পেলাম না। কাঁদতে কাঁদতে এখন চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। তবুও বিচার পাচ্ছি না।’
বাবা-মার দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অধিকাংশ ব্যক্তি এখনও পলাতক, অল্প কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে— বাকিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
পুলিশ ও প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় একদিনেই নিহত হন ৭ জন। গুলিবিদ্ধসহ হামলায় আহত হন চার শতাধিক। এতে পঙ্গুত্ব বরণ করেন প্রায় ৫০ জন। এসব ঘটনায় ৭টি হত্যাসহ মোট ২২টি মামলা হয়েছে। এতে প্রায় ১১ হাজার আসামির মধ্যে এজাহারনামীয় প্রায় আড়াই হাজার। বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ১৯২ জন, তবে তাঁদের মধ্যে এজাহারনামীয় আসামি মাত্র ২২৩ জন। অন্যদিকে অনেক আসামি কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
এদিকে ৬টি হত্যা ও ৭টি হত্যাচেষ্টা মামলায় ২ হাজার ১৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ২টি হত্যা মামলার বিচারকাজও শুরু হয়েছে। এর মধ্যে টমটমচালক সবুজ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে, আর আলোচিত শিহাব হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন (চার্জ গঠন) শেষে সাক্ষ্যগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে।
এখনো শ্রাবণের ঘর সাজিয়ে রেখেছেন বাবা-মা
মহিপাল চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে মাথায় মায়ের ওড়না প্যাঁচিয়ে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন ইশতিয়াক আহম্মেদ শ্রাবণ। উচ্চমাধ্যমিক পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। পরিবারকে বলেছিলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাই যখন রাজপথে নেমেছে, তখন ঘরে বসে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। সেই বের হওয়াই ছিল তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা— মহিপালে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান তিনি।
ঘটনার পর বেশ কিছুটা সময় পেরিয়ে গেলেও শ্রাবণের ঘরে খুব বেশি কিছু বদলায়নি। তাঁর ব্যবহৃত পোশাক, বই, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এখনও আগের জায়গাতেই রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বলেন, ইচ্ছা করেই কিছু সরানো হয়নি— কারণ ঘরে ঢুকলে এখনও মনে হয়, শ্রাবণ বুঝি একটু পরই ফিরে এসে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকবে।
সন্তান হারানোর বেদনা নিয়ে প্রতিটি দিন পার করছেন বাবা নেছার আহম্মেদ ও মা ফাতেমা আক্তার শিউলি। সময়ের সঙ্গে তাঁদের চোখের জল হয়তো কিছুটা আড়াল হয়েছে, কিন্তু বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ আরও গভীর হয়েছে।
শ্রাবণের বাবা নেছার আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের চাওয়া খুব বেশি কিছু নয়। মামলার অনেক এজাহারভুক্ত আসামি এখনো বাইরে আছে। মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, দ্রুত অভিযোগপত্র দিয়ে বিচারকাজ শুরু করা হোক। মামলার তারিখগুলো যেন দ্রুত নির্ধারণ করা হয়।’
শেষ স্মৃতি আঁকড়ে আছে শহীদ পরিবার
গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার এক দফা কর্মসূচিতে মহিপালে যোগ দিয়েছিলেন ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সরওয়ার জাহান মাসুদ। পরিবারের কাছে বলে গিয়েছিলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেবেন। কিন্তু সেখান থেকে আর ফিরে আসা হয়নি। পরিবার জানিয়েছে, শরীরে একাধিক গুলি লাগার পরও তিনি জীবিত ছিলেন। পরে ছোট ভাই মাসুম আল সামী তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
একইভাবে কলেজ শিক্ষার্থী মাহবুবুল হক মাসুম কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে ভাই-বোনদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘শহীদ হব, তবুও আন্দোলনে যাব। ঘরের ভেতরেও শিশুরা মারা যাচ্ছে, এখন বাসায় বসে থাকা অন্যায়।’ পরিবারের কেউ তখন ভাবতেও পারেননি, এটাই হবে মাসুমের সঙ্গে তাঁদের শেষ কথোপকথন।
ওয়াকিল আহম্মেদ শিহাবের পরিবার জানত, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তিনি রাজপথে যাচ্ছেন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা। সেখানে পিঠ, মাথা ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। সহযোদ্ধারা তাঁকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
৪ আগস্ট সকালে বাবার কাছ থেকে ২৫ টাকা গাড়িভাড়া নিয়েছিলেন সাইদুল ইসলাম শাহী। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার কাছে ২৫ টাকা আছে, আর ২৫ টাকা পেলেই ফেনী থেকে বাড়ি ফিরতে পারব।’ এটাই ছিল পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা।
মামলার তুলনায় তদন্ত কর্মকর্তা কম
জুলাই হত্যাকাণ্ডের এসব মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদেরও আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার সংখ্যার তুলনায় তদন্তকারী কর্মকর্তার সংখ্যা সীমিত।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, থানাগুলোতে কর্মরত একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) একসঙ্গে কয়েকটি মামলার তদন্ত করতে হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, ডিজিটাল ফরেনসিক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেওয়াসহ নিবিড় কাজে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় লাগছে।
মামলার কয়েকজন বাদী জানান, ঘটনার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ত্রুটিপূর্ণ মামলা ও পুলিশের কাঠামোগত দুর্বলতায় অনেক ক্ষেত্রে তদন্তপ্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ওপর বহুমুখী চাপ ও রাজনৈতিক তদবিরও তৈরি করছে বাড়তি জটিলতা।
ফেনী জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মেজবাহ উদ্দিন খান বলেন, ‘হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের ১৫টি মামলার বিচার ফেনীর আদালতে চললেও হত্যা মামলাগুলো শিগ্গিরই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে। এর চিফ প্রসিকিউটরের ফেনী সফরের পর মামলাগুলোর পুনঃতদন্ত হতে পারে।’
মামলার বাদীপক্ষের একজন আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, মামলার বিচার কোন আদালতে হবে, সেটি মুখ্য বিষয় নয়— গণহত্যাসহ এসব নৃশংস ঘটনার বিচার হওয়া জরুরি। সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে জড়িতদের অপরাধ অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মু. সাইফুল ইসলাম জানান, সততার সঙ্গে তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে মামলাগুলোর অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে। এরপরও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।
ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ছাত্র আন্দোলনের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরপরাধ কেউ যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজর রাখছি।
.png)

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও সন্ত্রাস, হল দখল ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
২১ মিনিট আগে
জুলাই সনদ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। জাতীয় সংসদে একটি সংশোধনী প্রস্তাব এনে জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
৪৪ মিনিট আগে
সাভারে যানজটে আটকা পড়ে সড়কেই জন্ম নেওয়া নবজাতক শিশুটির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিইউতে শিশুটির মৃত্যু হয়।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর চকবাজারে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শাখা ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে