সংসদে ত্রাণমন্ত্রী

বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধে বাজবে সাইরেন, নির্মাণ হবে আশ্রয়কেন্দ্র

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ০৩
সংসদে কথা বলছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। সংগৃহীত ছবি

বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধে সরকার সাইরেন স্থাপন, আধুনিক বজ্রপাত নিরোধক টাওয়ার নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা এবং হাওড় অঞ্চলে বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পদক্ষেপ নিচ্ছে। জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এ তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্যমতে সুনামগঞ্জসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিশ্বের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা। সেখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৫টিরও বেশি বজ্রপাত ঘটে। সম্প্রতি দেশে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে চারজন তার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা। বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করা হলেও এখনো পর্যাপ্ত তালগাছ রোপণ বা নিরোধকব্যবস্থা দৃশ্যমান নয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, সরকার বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি, বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। মেঘ জমলে কৃষকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য হাওড় অঞ্চলে সাইরেন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পূর্বে টিআর (গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচী) প্রকল্পের আওতায় কিছু বজ্রপাত নিরোধকব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না। এখন আরও শক্তিশালী ও আধুনিক নিরোধক দণ্ড বা টাওয়ার স্থাপনের জন্য গবেষণা চলছে।

আসাদুল হাবিব দুলু জানান, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী বজ্রপাতে কোনো ব্যক্তি নিহত হওয়ার পাশাপাশি কোনো কৃষকের গবাদিপশু মারা গেলেও সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের আদলে হাওড় অঞ্চলেও মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান বলেন, তার এলাকায় বজ্রপাতে একই পরিবারের তিনজন গেছে। এ ছাড়া সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙ্গা এলাকায় আকস্মিক টর্নেডোয় ৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সম্পর্কিত