রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশ করার লক্ষ্য: রাশেদ তিতুমীর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৩৪
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। স্ট্রিম ছবি

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য সরকারের। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬’-এ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ১৫ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ, করের পরিধি বৃদ্ধি এবং আইনি সংস্কারের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন হবে।

উপদেষ্টা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বর্তমান সরকারকে উত্তরাধিকার সূত্রে ভঙ্গুর অর্থনীতি, ঋণের বোঝা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দা মোকাবিলা করতে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার।

রাজস্ব খাতকে যুগোপযোগী করতে সরকারের গৃহীত ৩টি কৌশল তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, প্রথমত আন্তর্জাতিক চর্চা ও দেশীয় বাস্তবতার আলোকে কাস্টমস প্রশাসনে এসাইকুডা ওয়ার্ল্ড, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো ও বন্ড ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আয়করের ক্ষেত্রে ই-টিন, ই-রিটার্ন, ই-টিডিএস ও ইএফডিএমএস ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। কর কর্মকর্তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ বন্ধে অনলাইনভিত্তিক অটোমেটেড পদ্ধতিতে অডিট ও বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, গত মার্চে গঠিত ৩টি বিশেষ টাস্কফোর্সের ফলে রাজস্ব আদায়ে ১২.০৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এর ফলে এনবিআর প্রথমবারের মতো ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি রাজস্বের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তৃতীয়ত, ‘রিকভারি, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর এক্সিলারেশন’ বা ‘৩-আর’ কৌশলে স্বল্পমেয়াদে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ১৫ শতাংশ রাজস্বে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

রাশেদ তিতুমীর বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে, ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে এবং ৩ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাস্তবায়নে এনবিআরের রাজস্ব আহরণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি জানান, বিদ্যমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে উপজেলা পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে নতুন করদাতাদের আওতাভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ তৃণমূল পর্যায়ে কর সচেতনতার প্রচারের মাধ্যমে সর্বজনীন কর সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশ করার লক্ষ্য: রাশেদ তিতুমীর