বেড়েছে সাফল্য, রয়ে গেছে নেতিবাচকতাও

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

স্ট্রিম গ্রাফিক

বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকার গত ছয় মাসে ফ্যামিলি কার্ডের মতো বেশ কিছু সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়েছে। অধ্যাপক ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ ছয় মাসের সঙ্গে বিএনপি সরকারের শুরুর ছয় মাসের তুলনা টানলে দেখা যায়, নির্বাচিত সরকার আসার পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও প্রবাসী আয়ে অর্থনীতি ‘উল্লেখযোগ্য’ শক্তিশালী হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী আমলের ‘মব ভায়োলেন্সের’ মতো আইনশৃঙ্খলা সংকটে লাগাম টানা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ: স্থিতিশীলতা থেকে সম্প্রসারণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬-এর জানুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে রিজার্ভ স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছায়। ওই সময় মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (গ্রস রিজার্ভ) ছিল ৩৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত রিজার্ভ (নেট রিজার্ভ) দাঁড়িয়েছিল ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে।

বিএনপি সরকারের ছয় মাসে এই অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণত বিদেশে টাকা পাচারের প্রবণতা দেখা যায়। বাংলাদেশে তেমন ঘটনা ঘটেনি। উল্টো রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের জুলাইয়ের প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। নেট রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে। ক্ষমতা হস্তান্তরের পর নেট রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার।

প্রবাসী আয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবাসী আয়সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মাসগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ নির্দিষ্ট সীমায় আটকে ছিল। ২০২৬-এর জানুয়ারিতে এসেছিল ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩ দশমিক শূন্য ১ বিলিয়ন ডলার।

বিএনপি সরকারের প্রথম মাসেই এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্চের অর্থনৈতিক বুলেটিন অনুযায়ী, এক মাসে এত রেমিট্যান্স আসার ঘটনা দেশে আগে কখনো ঘটেনি।

জুলাইয়ে এসে মাসিক রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে। বিদায়ী অর্থবছরে মোট বৈদেশিক অর্থ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

সংকটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

অর্থনীতির খাতায় উন্নতি দেখালেও জননিরাপত্তার পরিসংখ্যান সেই পুরোনো ধারায় আটকে আছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ২০২৫ সালের মানবাধিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছর গণপিটুনিতে অন্তত ১৯৭ জনের মৃত্যু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদে গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৯৩। এই সংখ্যা ২০২৪ সালের ১২৮ জনের তুলনায় অনেক বেশি। তবে ২০২৪ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ৩৮ জন।

মব ভায়োলেন্স নতুন সরকারের আমলে কমলেও বন্ধ হয়নি। চুরি, ধর্ম অবমাননা বা রাজনৈতিক পরিচয়ের সন্দেহে সাধারণ মানুষের ওপর ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতার’ হামলার ঘটনাও ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী শুধু ২০২৬ সালের জুনেই গণপিটুনিতে ৩১ জন নিহত হয়েছেন।

এই সামাজিক সহিংসতা বন্ধ করা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

অবকাঠামো উন্নয়ন: খাল খননে উদ্যোগ

কাগজে-কলমে অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল সাহাপাড়া খাল খনন করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্প সরাসরি সরকারপ্রধানের নির্দেশে শুরু হয়েছে এবং বড় ধরনের অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে।

গত মে মাসে একনেক সভায় ৩৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ অনুমোদন হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সরাসরি তুলনা করার মতো এমন কোনো বড় অবকাঠামো প্রকল্প ছিল না। এই উদ্যোগগুলোকে আগের কাজের সঙ্গে তুলনা না করে, নতুন সরকারের কাজের বিশেষ নমুনা হিসেবেই দেখতে হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

বেড়েছে সাফল্য, রয়ে গেছে নেতিবাচকতাও