৮ জুলাইকে ‘নিরাপদ নৌ দিবস’ ঘোষণার দাবি

আড়াই লাখ নৌযানের মধ্যে নিবন্ধিত মাত্র ২০ হাজার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

৮ জুলাইকে ‘নিরাপদ নৌ দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে ‘নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলন’। স্ট্রিম গ্রাফিক

দেশের নৌযান চলাচলের উপযোগী নৌপথ সংকুচিত হয়ে বর্ষায় ৬ হাজার এবং শুষ্ক মৌসুমে মাত্র ৪ হাজার কিলোমিটারে এসে দাঁড়িয়েছে। এই সংকুচিত নৌপথে চলাচল করছে প্রায় আড়াই লাখ ইঞ্জিনচালিত নৌযান, যার মধ্যে নিবন্ধিত মাত্র ২০ হাজার। নৌখাতের এই চরম অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও দীর্ঘদিনের বাজেট বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে ৮ জুলাইকে জাতীয়ভাবে ‘নিরাপদ নৌ দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে ‘নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলন’।

২০০৩ সালের ৮ জুলাই চাঁদপুরে এমভি নাসরিন-১ লঞ্চ ডুবে প্রায় ৮০০ যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনা স্মরণ করে নৌপথের অধিকার আদায়ে এ দাবি তুলেছে তারা। এ উপলক্ষে ‘এমভি নাসরিন দুর্ঘটনার ২৩ বছর: ৮ জুলাই নিরাপদ নৌ দিবস হিসেবে জাতীয় ঘোষণা চাই’ শীর্ষক এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে সদ্য সমাপ্ত নৌযান শুমারির প্রাথমিক তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, দেশে ইঞ্জিনচালিত নৌযান রয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬০টি। অথচ নৌপরিবহন অধিদপ্তরের হিসাবে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত নৌযান মাত্র ২০ হাজার ৫৫২টি।

২ গুণ বেশি এই অনিবন্ধিত নৌযানগুলো সরকারি তদারকির বাইরে অবাধে চলাচল করায় নৌপথে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি ও দুর্ঘটনা বাড়ছে, সরকারও হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব বলে উল্লেখ করেন নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিনুর রসূল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী হওয়া সত্ত্বেও নৌখাতে বাজেট বরাদ্দ নামমাত্র (৩-৬ শতাংশ)। ষাটের দশকে নেদারল্যান্ডসের একটি জরিপ অনুযায়ী, দেশে চলাচল উপযোগী নৌপথ ছিল প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার। ড্রেজিংয়ের অভাব ও নাব্যতা সংকটে আশির দশকের শেষভাগে তা ৬ হাজারে নেমে আসে। ক্রমাগত দখল-দূষণে বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে তা ৪ হাজার কিলোমিটারে ঠেকেছে।

নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্যসচিব আমিনুর রসূল স্ট্রিমকে বলেন, ‘উন্নত যাতায়াতের নামে সড়কপথকে অধিক মনোযোগ দিতে গিয়ে নৌপথ চরমভাবে উপেক্ষিত। ফিটনেসবিহীন নৌযানের কারণে নিরাপত্তা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে।’ তিনি বলেন, এমভি নাসরিন দুর্ঘটনার দুই দশক পেরোলেও মন্ত্রণালয়ের আপিলের কারণে নিহতদের পরিবার আজও ক্ষতিপূরণ পায়নি।

এ বিষয়ে নৌখাত জাতীয় রক্ষা আন্দোলনের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘নৌখাত পুরোপুরি অবহেলিত একটি খাত। এখানে তথ্যের ও জ্ঞানের ঘাটতি চরম পর্যায়ে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুলসংখ্যক নৌযানের কোনো আইনি কাঠামো নেই। নদীকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র উপায় হচ্ছে নদীর অর্থনৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা; কেবল আবেগ দিয়ে নদী বাঁচবে না। প্রতিদিন সদরঘাট থেকে অন্তত এক লাখ যাত্রী নৌপথে যাতায়াত করেন। সড়কপথে সমপরিমাণ যাত্রী পরিবহনে যে পরিমাণ ডিজেল পোড়াতে হয়, তা পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করে। নৌপরিবহন পরিবেশগতভাবে অনেক বেশি টেকসই হওয়া সত্ত্বেও খাতটি উপেক্ষিত।’

প্রতিবেদনে সন্দ্বীপ ও হাতিয়াকে উপকূলীয় নৌবন্দর ঘোষণার উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হলেও সেখানে নিরাপদ ফেরি ও ড্রেজিং না থাকায় যাতায়াত এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের চার বছর পরও সেখানে ‘নৌ ফায়ার স্টেশন’ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে হাইকোর্টের ২০১১ সালের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, অনিবন্ধিত নৌযানগুলোকে অবিলম্বে নিবন্ধনের আওতায় আনা, ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা সংকট দূর করা এবং নৌপথে পুলিশ ফাঁড়ি ও মেরিন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট স্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত