জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরদিন বিস্ফোরণে দগ্ধ এক পরিবারে ৪ জন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কুমিল্লা

দাউদকান্দিতে বিস্ফোরণের পর ঘরের ভেতর পরিণত হয় ধ্বংস স্তূপে। সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরদিনই একটি ভবনের রান্নাঘরে বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণে কক্ষের জানালা ও দেয়াল বিধ্বস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে উপজেলার বলদাখাল এলাকায় পিয়ার হোসেনের ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা ওই ভবনের নিচতলা ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।

দুর্ঘটনায় দগ্ধরা হলেন মনোয়ারা বেগম (৬০), ছেলে জিয়াউল হক (৩৭), তাঁর স্ত্রী উম্মে হুমায়রা (৩০) ও তাঁদের ছেলে হুররাম (২)। আহত অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পিয়ার হোসেনের ওই ভবনে অভিযান চালিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানির প্রকৌশলী অম্লান কুমার দত্ত বলেন, ‘আমরা বিস্ফোরণের উৎসস্থল সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত না হলেও এটা নিশ্চিত, এখানে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ছিল। সংযোগটি গতকাল বিচ্ছিন্ন করার পরও অবৈধভাবে সেখানে রাইজার তোলা হয়। আমাদের ধারণা, সেখান থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।’

প্রকৌশলী অম্লান কুমার দত্ত বলেন, ভবন মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাব-অফিসার মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘লাইনের গ্যাস লিকেজ হয়ে ঘর ভর্তি হয়ে যায়। ভোররাতে যখন চুলায় আগুন ধরানোর চেষ্টা করা হয়, তখন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। এ ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন।’ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বলেন, আহতদের মধ্যে মনোয়ারা বেগমের শরীরের দুই শতাংশ, জিয়াউল হকের শরীরের ৫৪ শতাংশ, উম্মে হুমায়রা শরীরের ৬৫ শতাংশ ও শিশু হুররামের শরীরে ৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। জিয়াউল ও হুমায়রার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে বিস্ফোরণের ওই রান্না ঘরের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, ওই বাসার রান্না ঘরে একটি সিলিন্ডার অক্ষত অবস্থায় পড়ে আছে। এ প্রসঙ্গে ওই এলাকার কয়েকজন জানান, গ্যাস কর্তৃপক্ষের অভিযান এড়ানোর জন্য কৌশল হিসেবে বাসায় খালি সিলিন্ডার রেখে দেন বাড়িওয়ালারা।

দুর্ঘটনা কবলিত ভবনের আশপাশের বাসিন্দাসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওই বাসায় গ্যাসের দুটি অবৈধ সংযোগ রয়েছে। এর যেকোনো একটি থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ভবন মালিক পিয়ার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এখানে গ্যাস সংযোগ ছিল না। ওই ঘরে সিলিন্ডারও অক্ষত। অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ থেকে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।’

দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, ‘বিস্ফোরণটি কীসের, তা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। বিশেষজ্ঞ টিম এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত