উচ্ছেদচেষ্টা: ভূমিমন্ত্রীর বাসার সামনে ভূমিহীনদের অনশন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

অনশনে বসা ভূমিহীন মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। ছবি: স্ট্রিম

উচ্ছেদের মুখে পড়ায় রাজশাহী নগরের পাঁচটি মহল্লার ভূমিহীন মানুষ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর বাসার সামনে প্রায় এক ঘণ্টা অনশন করেছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় নগরের পদ্মা আবাসিক এলাকায় ভূমিমন্ত্রীর বাসার সামনে বসে পড়েন তারা। পরে বেলা ১১টার দিকে পানি পান করিয়ে তাদের অনশন ভাঙান মন্ত্রী।

রাজশাহী নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়া, বড়বনগ্রাম, চকপাড়া, ভাড়ালিপাড়া ও পাবনাপাড়া মহল্লা প্রায় সাত শতাধিক পরিবারে পাঁচ হাজার মানুষের বাস। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ভূমিহীন এসব মানুষ সেখানে বসবাস করছেন। এখন কয়েকজন ব্যক্তি এসব জমির মালিকানা দাবি করছেন। কিছু জমির ব্যাপারে আদালত তাদের পক্ষে রায় দিলেও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। পরে এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হয়। এমতাবস্তায় এলাকার বাসিন্দারা রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর বাসার সামনে গিয়ে অনশন করেন।

মাত্র চার ঘণ্টার নোটিশে দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি থেকে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের চেষ্টাকে ‘অন্যায় ও চক্রান্তমূলক’ বলে আখ্যায়িত করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। একইসঙ্গে ৪০-৪৫ বছর ধরে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে খাসজমি বন্দোবস্ত করার আশ্বাস দেন তিনি।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, উচ্ছেদ করতে হলে অন্তত ছয়-সাত দিন সময় দিতে হবে। তা না করে হঠাৎ করে ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়াটা অন্যায় মনে করি। অতীতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার ব্যর্থতার কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় লিটন (সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন), শাহু (সাবেক কাউন্সিলর) ও সাচ্চুর (জমির মালিক দাবিদার) মতো ভূমিদস্যুরা জনগণের এই সম্পদ দখলের চেষ্টা করেছে। ৭০ বছর আগের মালিকানা দাবি দেখিয়ে অর্পিত সম্পত্তি দখল করার কোনো সুযোগ নেই।

এসময় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিরোধে আইনি লড়াই জোরদারের আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় আইনজীবীদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠনের পরামর্শ দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকা খাসজমি যাতে প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বণ্টন করা হয়, সে বিষয়ে সরকার আন্তরিক। প্রয়োজনে প্রতিটি পরিবারকে এক থেকে দুই কাঠা জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জমির মালিকানা দাবি করা একজন নগরের ষষ্ঠীতলার বাসিন্দা আজমল হক সাচ্চু। তিনি মামলার বাদীদেরও একজন। তার দাবি, ওইসব এলাকায় তাদের মোট ৭৬ বিঘা জমি রয়েছে। এর মধ্যে ২০ বিঘার মতো নিজেদের দখলে আছে। ১৭ বিঘা জমি অর্পিত সম্পত্তি হয়ে যায়। সেখানে লোকজন বাড়ি নির্মাণের নামে আরও প্রায় ৪০ বিঘা জমি দখল করে নেয়। জমি উদ্ধারে আদালতে মামলা করলে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন।

সম্পর্কিত