স্ট্রিম সংবাদদাতা

পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গেই গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন। এতে অন্তত ৬০টি পয়েন্টে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনকবলিত মানুষের অভিযোগ, প্রশাসনের আশ্বাস মিললেও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা এখনও দৃশ্যমান নয়।
গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা দুইটা পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৪৮ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৮৬ সেন্টিমিটার ও গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া নদীর পানি চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ১৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলমান বন্যার মওসুমে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র ভাঙনে নদীঘেঁষা বসতভিটা, গাছপালা, বাঁশঝাড় ও আবাদি জমিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে জমি। অনেকেই গাছ কেটে এবং ঘরবাড়ি সরিয়ে যা সম্ভব রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। কেউ ঘর খুলে নিরাপদ স্থানে নিচ্ছেন। অন্যদিকে বন্যার পানি দীর্ঘ মেয়াদ হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের অসংখ্যা ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন শঙ্কায় রয়েছে হাজার একর ফসলি জমিসহ বেশকিছু সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা।
জেলার ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ রসুলপুর এলাকাসহ জেলার অন্তত আরও ১০টি পয়েন্টে নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ভাঙনে মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে মানুষের বসতভিটা ও ফসলি জমি। ভাঙনের খবরে জেলার সংশ্লিষ্ট ও শীর্ষ কর্তারা পরিদর্শনে গেলেও কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকছে তাদের উদ্যোগ। ফলে চাপা ক্ষোভ, আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের। দক্ষিণ রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, গত ১০ থেকে ১২ দিনে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চোখের সামনে তাদের সব শেষ হচ্ছে। প্রথম দিকে আবাদি জমি ভাঙলেও এখন বসতভিটা, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও বাঁশঝাড়ও নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপসিয়া ইউনিয়নের লাল চামার কেরানীর চর এলাকায় অব্যহত ভাঙনে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। ১০০-এর বেশি বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শিকার হয়েছে কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর এলাকা।
ফুলছড়ির রসূলপুর গ্রামের কৃষক সাহেব উদ্দিন বলেন, ১০ থেকে ১৫ দিনের থেমে থেমে ভাঙনে এখানকার একটি পয়েন্টেই ২০-৩০ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যেখানে বেশিরভাগই ষোলআনা ফসল ফলতো। এখনও যদি ভাঙন ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তারপরও আশপাশের পরিবারগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব।
নদী ভাঙনের মুখে পড়া বাসিন্দা নুরী আকতার বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে এখানে একটু একটু করে নদী ভাঙছে। গত এক সপ্তাহ থেকে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কেউ কোনো কিছুই রক্ষা করতে পারেনি। গাছগাছালি, বাঁশঝাড় সবকিছু নদীতে নিমিষেই তলিয়ে গেছে। এখন শুধু বাড়ি-ঘর কয়েকটা আছে। দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলানো জরুরি। নয়তো আমাদের ঠাঁইটুকু ভেঙে গেলে আমাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হবে।
কৃষক চান্দু মিয়া বলেন, হঠাৎ করে সকালে ভাঙনে আমার বড় বড় আম গাছ, জাম, মেহগনি, জাম্বুড়া, আতাফলের গাছ ও বাঁশঝাড় সব কিছুই নদীর মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। আতঙ্কে ঘর খুলতেছি অন্য কোথাও যেতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিন আগে ভাঙনের খবরে স্থানটিতে জেলা প্রশাসক-ইউএনও, চেয়ারম্যান ও সরকারি লোক পরিদর্শন করে গেলেও ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এখনো চোখে পড়েনি। ফলে তাদের অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তাদের দাবি, এখনই যদি জিও ব্যাগ বা ব্লক ডাম্পিং করা যায়, তাহলেও ওই এলাকার ভাঙনের মুখে পড়া পরিবারগুলো বিলীনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, শুকনা মৌসুমে স্থানটির (দক্ষিণ রসুলপুর) খুব নিকট থেকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে নিরীহ এই মানুষগুলোকে। তাদের দাবি, বালু তুলতে বাধা-নিষেধ এমনকি অনুরোধ করতে গেলেও বাড়ি-ঘর ভাঙচুরসহ জীবননাশের হুমকি রয়েছে তাদের।
গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পুঠিমারি গ্রামের আলেফা বেওয়া বলেন, প্রত্যক বছর নদী ভাঙে, মোর জিও কোনা ছাড়া আর কিছুই না নাই বাবা।
কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, এবার নদীত পানি একবার কমে, আরেকবার বাড়ে। বন্যার পানি দীর্ঘ পাটসহ বোরো ধানের বীজ তলা নষ্ট হয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধির প্রভাবে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় ভাঙনে নদী তীরবর্তী অন্তত আট শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। ভাঙন এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়তই নতুন করে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ভিটেমাটি, ফসলের জমি।
ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ রসুলপুর ছাড়াও ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি ও কাউয়াবাদা, উড়িয়া ইউনিয়নের ভুসির ভিটা, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লালচামার ও কেরানীর চর, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী এবং সদর ও সাঘাটা উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
গাইবান্ধার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ- পরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্ষার চলমান মৌসুমে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির প্রভাবে জেলায় প্রায় ৯০০ বিঘা জমির ফসল পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে পাট ৩০ হেক্টর, আউশ ৪৫ হেক্টর, তিল ২৫ হেক্টর, শাকসবজি ১০ হেক্টর ও আমন বীজতলা ৮.০২ হেক্টর। এসব আক্রান্ত ফসলের বেশিরভাগই সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এবার বন্যার পানি দীর্ঘ মেয়াদি হ্রাস- বৃদ্ধির কারনে নদী বেশী ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেসব এলাকায় নদী বেশী ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেসব এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গেই গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন। এতে অন্তত ৬০টি পয়েন্টে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনকবলিত মানুষের অভিযোগ, প্রশাসনের আশ্বাস মিললেও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা এখনও দৃশ্যমান নয়।
গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা দুইটা পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৪৮ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৮৬ সেন্টিমিটার ও গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া নদীর পানি চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ১৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলমান বন্যার মওসুমে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র ভাঙনে নদীঘেঁষা বসতভিটা, গাছপালা, বাঁশঝাড় ও আবাদি জমিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে জমি। অনেকেই গাছ কেটে এবং ঘরবাড়ি সরিয়ে যা সম্ভব রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। কেউ ঘর খুলে নিরাপদ স্থানে নিচ্ছেন। অন্যদিকে বন্যার পানি দীর্ঘ মেয়াদ হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের অসংখ্যা ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন শঙ্কায় রয়েছে হাজার একর ফসলি জমিসহ বেশকিছু সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা।
জেলার ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ রসুলপুর এলাকাসহ জেলার অন্তত আরও ১০টি পয়েন্টে নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ভাঙনে মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে মানুষের বসতভিটা ও ফসলি জমি। ভাঙনের খবরে জেলার সংশ্লিষ্ট ও শীর্ষ কর্তারা পরিদর্শনে গেলেও কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকছে তাদের উদ্যোগ। ফলে চাপা ক্ষোভ, আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের। দক্ষিণ রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, গত ১০ থেকে ১২ দিনে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চোখের সামনে তাদের সব শেষ হচ্ছে। প্রথম দিকে আবাদি জমি ভাঙলেও এখন বসতভিটা, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও বাঁশঝাড়ও নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপসিয়া ইউনিয়নের লাল চামার কেরানীর চর এলাকায় অব্যহত ভাঙনে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। ১০০-এর বেশি বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শিকার হয়েছে কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর এলাকা।
ফুলছড়ির রসূলপুর গ্রামের কৃষক সাহেব উদ্দিন বলেন, ১০ থেকে ১৫ দিনের থেমে থেমে ভাঙনে এখানকার একটি পয়েন্টেই ২০-৩০ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যেখানে বেশিরভাগই ষোলআনা ফসল ফলতো। এখনও যদি ভাঙন ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তারপরও আশপাশের পরিবারগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব।
নদী ভাঙনের মুখে পড়া বাসিন্দা নুরী আকতার বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে এখানে একটু একটু করে নদী ভাঙছে। গত এক সপ্তাহ থেকে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কেউ কোনো কিছুই রক্ষা করতে পারেনি। গাছগাছালি, বাঁশঝাড় সবকিছু নদীতে নিমিষেই তলিয়ে গেছে। এখন শুধু বাড়ি-ঘর কয়েকটা আছে। দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলানো জরুরি। নয়তো আমাদের ঠাঁইটুকু ভেঙে গেলে আমাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হবে।
কৃষক চান্দু মিয়া বলেন, হঠাৎ করে সকালে ভাঙনে আমার বড় বড় আম গাছ, জাম, মেহগনি, জাম্বুড়া, আতাফলের গাছ ও বাঁশঝাড় সব কিছুই নদীর মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। আতঙ্কে ঘর খুলতেছি অন্য কোথাও যেতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিন আগে ভাঙনের খবরে স্থানটিতে জেলা প্রশাসক-ইউএনও, চেয়ারম্যান ও সরকারি লোক পরিদর্শন করে গেলেও ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এখনো চোখে পড়েনি। ফলে তাদের অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তাদের দাবি, এখনই যদি জিও ব্যাগ বা ব্লক ডাম্পিং করা যায়, তাহলেও ওই এলাকার ভাঙনের মুখে পড়া পরিবারগুলো বিলীনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, শুকনা মৌসুমে স্থানটির (দক্ষিণ রসুলপুর) খুব নিকট থেকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে নিরীহ এই মানুষগুলোকে। তাদের দাবি, বালু তুলতে বাধা-নিষেধ এমনকি অনুরোধ করতে গেলেও বাড়ি-ঘর ভাঙচুরসহ জীবননাশের হুমকি রয়েছে তাদের।
গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পুঠিমারি গ্রামের আলেফা বেওয়া বলেন, প্রত্যক বছর নদী ভাঙে, মোর জিও কোনা ছাড়া আর কিছুই না নাই বাবা।
কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, এবার নদীত পানি একবার কমে, আরেকবার বাড়ে। বন্যার পানি দীর্ঘ পাটসহ বোরো ধানের বীজ তলা নষ্ট হয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধির প্রভাবে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় ভাঙনে নদী তীরবর্তী অন্তত আট শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। ভাঙন এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়তই নতুন করে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ভিটেমাটি, ফসলের জমি।
ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ রসুলপুর ছাড়াও ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি ও কাউয়াবাদা, উড়িয়া ইউনিয়নের ভুসির ভিটা, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লালচামার ও কেরানীর চর, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী এবং সদর ও সাঘাটা উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
গাইবান্ধার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ- পরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্ষার চলমান মৌসুমে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির প্রভাবে জেলায় প্রায় ৯০০ বিঘা জমির ফসল পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে পাট ৩০ হেক্টর, আউশ ৪৫ হেক্টর, তিল ২৫ হেক্টর, শাকসবজি ১০ হেক্টর ও আমন বীজতলা ৮.০২ হেক্টর। এসব আক্রান্ত ফসলের বেশিরভাগই সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এবার বন্যার পানি দীর্ঘ মেয়াদি হ্রাস- বৃদ্ধির কারনে নদী বেশী ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেসব এলাকায় নদী বেশী ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেসব এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
.png)

টানা দুই বছর বন্ধ থাকার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত হবে এ প্রতিযোগিতা। তবে এবার বাইচকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের নৌকায় উচ্চশব্দে সাউন্ড সিস্টেম বাজানো ও ‘নাচানাচি’ নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।
৪৪ মিনিট আগে
‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। খসড়াটির মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স রহিত করা হয়েছে এবং বিদ্যমান আইনে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে-d34011-256x144.webp)
রংপুরে চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার এক আসামির সঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর পরনের শার্টের মিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা উঠেছে। তবে দুই শার্ট এক নয় বলে দাবি করেছেন ডিবি প্রধান।
১ ঘণ্টা আগে
ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে নেত্রকোনার মদনে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের পিতৃত্ব প্রমাণিত হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে