জানুয়ারি থেকে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইটের সম্ভাবনা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ১৭
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

আগামী বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করতে পারলে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে।

বিমানমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে উড়োজাহাজের সংকট রয়েছে। এই কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে বিদ্যমান ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো যাচ্ছে না।

মিল্লাত বলেন, সংকট কাটাতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই বিষয়ে চুক্তি সই করে পরের বছর থেকে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করা।

তিনি বলেন, আমরা অনেকগুলো নতুন ফ্লাইট শুরু করেছি। ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক ও সিডনির ফ্লাইট চালু করতে চাই। পাশাপাশি যেসব গন্তব্যে আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ আছে কিন্তু উড়োজাহাজের অভাবে ব্যবহার করতে পারছি না, সেসব রুটেও ফ্লাইট বাড়ানো হবে।

মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় পাঁচটি গন্তব্যে প্রতিদিন কয়েকটি করে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ পাওয়া গেলে এসব গন্তব্যে ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ বা তিনগুণ করার সুযোগ রয়েছে।

বিমানবহর সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় নতুন উড়োজাহাজ ২০৩১ সাল থেকে দেশে আসবে। তবে তার আগ পর্যন্ত যাত্রীসেবা সচল রাখা ও ফ্লাইট সম্প্রসারণের জন্য লিজে উড়োজাহাজ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। আগামী সপ্তাহে তিনি এই বিষয়ে বসবেন বলেও জানান মিল্লাত।

সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ছবি: পিআইডি
সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ছবি: পিআইডি

প্রথম দিন নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নতুন নেতৃত্বে আমরা টিম তৈরির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। রদবদল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কাজের সুবিধার্থে আমি পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে একদিন সিভিল এভিয়েশন বা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে অফিস করতে চাই। মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন সংস্থার সমন্বয়হীনতা দূর করা হবে আমার প্রথম কাজ।’

কর্মকর্তাগণের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কার রয়েছে, তেমনি খারাপ কাজের জন্য তিরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। আর যারা কাজ করতে পারবেন না, তাদের সম্মানের সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দিয়ে নতুন লোক আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের কাজকে আরও গতিশীল করতে গতানুগতিক আমলাতন্ত্রের বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে। উদ্ভাবনী পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

পরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সংক্রান্ত সাংবাদিকের প্রশ্নে মিল্লাত বলেন, ‘তৃতীয় টার্মিনালের কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী ২৫ আগস্ট জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র জমা দেবে। এরপর বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি চুক্তি সই করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’

তিনি বলেন, ‘চুক্তি সইয়ের পর হাতে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় থাকবে। এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে সম্ভব হলে আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে সময় আরও এক-দুই মাস বাড়ানো হতে পারে। আপাতত ১৬ ডিসেম্বর সফট ওপেনিংয়ের লক্ষ্য ধরে কাজ চলছে।’

প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে স্বাগত জানান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ছবি: পিআইডি
প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে স্বাগত জানান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ছবি: পিআইডি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী হয়রানি বন্ধে নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছুটা সফলতাও এসেছে। তবে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হয়নি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। সেখানে ইউরেনিয়াম পরিবহনের প্রয়োজন হয়। সড়কপথে ইউরেনিয়াম পরিবহনের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটলে বিকিরণজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই কারণে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে সরকার।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর বর্তমানে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণ করে সেখানে অভ্যন্তরীণ কয়েকটি ফ্লাইট চালুর চেষ্টা করা হবে। এতে সেখানে কর্মরত বিদেশিরাও সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। পাশাপাশি ইউরেনিয়াম পরিবহনের ক্ষেত্রেও বিমানবন্দরটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত