ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড

পদদলিতে মৃত্যু হয়নি জানাল প্রশাসন, ভিন্ন দাবি আত্মীয়দের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ময়মনসিংহ

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সংবাদিকদের ব্রিফ করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির। সংগৃহীত ছবি
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সংবাদিকদের ব্রিফ করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির। সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও তাঁদের কেউ পদদলিত হয়ে মারা যায়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে হুড়োহুড়িতে আহত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছেন স্বজনেরা।

মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন, অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির। হাসপাতাল পরিদর্শন ও মিটিং শেষে সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির।

তবে ওই দুজনের পরিবারের সদস্যদের দাবি, আগুন লাগের পর সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হুড়োহুড়িতে আহত হয়ে মারা গেছেন তারাকান্দার বালিখা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী কুলসুম আক্তার (৩৫) এবং ফুলবাড়িয়ার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামের শাহাজাহান মনির (৪৫)।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘পদদলিত হয়ে ছয়জন মারা গেছেন-এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। আমরা ফায়ার সার্ভিস, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও অন্য কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের রেজিস্ট্রারও যাচাই করেছি। পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

পাঁচজনের মৃত্যুর একটি তালিকার বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, এর মধ্যে একজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি চারজনের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন। অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ চিকিৎসকেরা এখনো স্পষ্টভাবে জানাতে পারেননি। এ বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, মৃত ব্যক্তিদের তালিকায় এমন একজনের নাম রয়েছে, যিনি এখনো জীবিত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তারাকান্দার কুলসুম আক্তারের ননদ নাজমা আক্তার বলেন, কুলসুম ১২ দিন ধরে তার জন্ডিসে আক্রান্ত ১২ বছর বয়সী ছেলে স্বাধীনকে নিয়ে হাসপাতালের ৩১ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ছিলেন। কুলসুমের সঙ্গে তার মেয়ে মিমও ছিলেন।

নাজমা বলেন, আগুন লাগার পর হাসপাতালের ভেতরে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করলে কুলসুম তার ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। মিম আগে বের হয়ে যান। পরে তিনি ফিরে এসে দেখেন, লোকজন তাঁর ভাই স্বাধীনকে টেনে বের করছেন; কিন্তু মাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নাজমার ভাষ্য, পরে কুলসুমকে উদ্ধার করে অক্সিজেন দেওয়া হয়। তখনো তার নিশ্বাস ছিল। খবর পেয়ে নাজমা হাসপাতালে আসার পথে ছিলেন। এর মধ্যেই কুলসুমের মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে শাহাজাহান মনিরের ছেলে পলাশ মোল্লা বলেন, আগুন লাগার সময় তার বাবা, মা হারিসা আক্তার ও খালা জাহানারা আক্তার একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন। এ সময় পেছন থেকে লোকজনের ধাক্কায় তারা পড়ে যান। পরে তার মা ও খালাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুজনই বর্তমানে হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

পলাশ বলেন, তিনি তখন হাসপাতালে ছিলেন না। পরে এসে মায়ের কাছে যান। তার বাবার মরদেহ এরই মধ্যে স্বজনেরা বাড়িতে নিয়ে গেছেন বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অনেকে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে আহত হন। এরপর পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত