leadT1ad

খুলনায় মসজিদে ঢুকে কমিটির সেক্রেটারিসহ দুজনকে গুলি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
খুলনা

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১৩: ০৯
খুলনা নগরীর একটি মসজিদে ঢুকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। সিসি ফুটেজ থেকে নেওয়া ছবি

খুলনা নগরীতে মসজিদের ভেতর দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি। রোববার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নগরের দৌলতপুরের পশ্চিম কাশিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে ফজরের নামাজের সময় এই ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন, মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি উত্তর কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা লোকমান হাকিম (৪৫) এবং একই এলাকার আলম মন্ডল (৫৫)।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ফজরের নামাজ আদায়ের সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত মসজিদে ঢুকে লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। গুলিটি তার মাথায় লেগেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ওই সময় পাশে থাকা আলম মন্ডলের মাথা, গলার বাম পাশ ও ডান হাতের বাহুতে গুলি লেগেছে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পাঁচ মাসে ১৭ হত্যাকাণ্ড

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পাঁচ মাসে খুলনা নগরে ১৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ বলছে, খুলনায় অপরাধের বেশিরভাগ ঘটনায় ঘুরে ফিরে ৯টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম এসেছে। এসব হত্যাকাণ্ডে আসামি গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিকভাবে পুলিশের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, অস্ত্র ও মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পারস্পরিক বিরোধ ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে খুনের ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে গ্রেপ্তার ও মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের কথা জানানো হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধের নেপথ্যের ব্যক্তিরা ধরা পড়ছে না। কেউ ধরা পড়লেও জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধজগতে সক্রিয় হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করতেও ভয় পায়।

খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, শহরে খুনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা দেখা গেছে। এসব ঘটনায় খবর পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিদের কারও কারও সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলেও জানান তিনি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত