ভোগান্তি বাড়িয়ে কর্মবিরতি প্রত্যাহার রামেক ইন্টার্নদের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ১০
চার দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। স্ট্রিম ছবি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জের কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

রোগীর স্বজনের সঙ্গে অনাকাঙ্খিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার সকাল ৯টায় কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তাদের কর্মসূচির কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা জানান, ওয়ার্ডে মিড লেভেলের চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ চার দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন। কর্তৃপক্ষ দাবির ব্যাপারে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়ায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করছেন।

তাদের দাবি, যে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্খিত ঘটনা, তার চিকিৎসায় কোনো অবহেলা তারা করেননি। ওই রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। এ জন্য আইসিইউতে সিরিয়াল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অপেক্ষমান আরও রোগী থাকায় শয্যা পাওয়া যায়নি। ওই রোগী যখন মারা যান, তখন কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক আরও দুজন মুমুর্ষু রোগী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস। তিনি বলেন, ধারণক্ষমতার অনেক রোগী এখানে ভর্তি থাকেন। তাদের জন্য মাত্র ২৬২ ইন্টার্ন চিকিৎসক। তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তাই তাদের সহযোগিতার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গত সোমবার রাতে হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুলিয়ারা বেগম (৫০) মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর দুই ছেলে– সেনাসদস্য সোহেল আলী (২৯) ও বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী জয় আলী (২৪) অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের অবহেলায় তাদের মায়ের মৃত্যু হয়েছে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে দুই ভাই তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। অবশ্য হাসপাতালের কর্মীরাও দুজনকে মারধর করে। পরে পুলিশে দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা করে। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জয়কে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আর নিজস্ব আইনে বিচারের জন্য সোহেলকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

সেনা হেফাজত থেকে গতকাল মঙ্গলবার মায়ের জানাজায় অংশ নেন সোহেল। আর জয় আদালত থেকে জামিন নিয়ে জানাজায় অংশ নেন। তাদের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ধর্মহাটা গ্রামে।

সম্পর্কিত