সমালোচনার মুখে ‘ভুলে’ পাঠানো বলে নির্দেশনা সরাল অ্যাটকো

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোর লোগো

‘দাসপ্রথা ২.০, ওয়েলকাম!’– সাংবাদিক হোসাইন তওফিক ইফতেখারের পোস্ট। ফেসবুকে তিনি অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) রোববারের এক নির্দেশনাকে কটাক্ষ করেছেন।

অ্যাটকোর নির্দেশনায় ছিল– সংবাদকর্মীরা অন্য কোথাও চাকরিতে যেতে চাইলে আগের মালিকের কাছ থেকে ‘অনুমতিপত্র’ নেওয়া বাধ্যতামূলক।

তওফিকের মতো সাংবাদিকরা অ্যাটকোর এই নির্দেশনার কড়া সমালোচনা করেছেন। পরে সোমবার (১৮ মে) নির্দেশনা প্রত্যাহার করেছে অ্যাটকো। সংগঠনের সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালামের সই করা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে আগের নির্দেশনাটি ‘ভুলবশত’ পাঠানো হয়েছিল উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, গতকাল (রোববার) অ্যাটকোর পক্ষ থেকে ভুলবশত যেই অনাপত্তিপত্রবিষয়ক জরুরি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে, তা প্রত্যাহার করা হল।’ একইসঙ্গে এই বিষয়ে আর কোনো জটিলতা বা প্রতিবন্ধকতা যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে অ্যাটকো।

যে নির্দেশনায় বিক্ষুব্ধ সাংবাদিক সমাজ

রোববার অ্যাটকোর এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের আগে অবশ্যই বর্তমান কোম্পানি থেকে এনওসি বা ছাড়পত্র নিতে হবে। এতে অনাপত্তিপত্র ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও ছিল।

মালিকপক্ষের এই নির্দেশনার পরপরই প্রতিবাদ ও ক্ষোভ দেখায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন। সোমবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কর্মরত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশি জার্নালিস্টস ইন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া (বিজেআইএম) বিবৃতিতে বলেছে, সাংবাদিকতা কোনো দাসত্বমূলক পেশা নয়। গণমাধ্যমকর্মীদের কর্মস্থল পরিবর্তন, ভালো সুযোগ অনুসন্ধান, ন্যায্য কর্মপরিবেশ ও বেতন নিয়ে আলোচনা এবং প্রতিশোধ বা প্রাতিষ্ঠানিক কালো তালিকার আশঙ্কা ছাড়াই কাজ করার স্বাধীনতা থাকতে হবে।

এই ধরনের বিধিনিষেধ স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যমের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং তা পেশাগত ভবিষ্যত ক্ষতিগ্রস্ত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে পারে বলেও উদ্বেগ জানায় সংগঠনটি।

সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম (এসআরএফ) বিবৃতিতে অ্যাটকোর আগের নির্দেশনাকে দেশের প্রচলিত শ্রম আইন ও সংবিধান পরিপন্থী উল্লেখ করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল।

সাংবাদিকদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখেই শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে অ্যাটকো।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত