র‍্যাবের জন্য নতুন আইন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) আগের মতো আর ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আইনি কাঠামোয় চলবে না। এই বাহিনীর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সরকার।

আজ সোমবার (১৮ মে) র‍্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় র‍্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এসেছিল। তবে গুটিকয়েক কর্মকর্তার অপকর্মের দায় পুরো বাহিনী নিতে পারে না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দোষী কর্মকর্তাদের নিজস্ব আইনে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রয়োজনে র‍্যাবকে পুনর্গঠন বা নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করানোর বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

র‍্যাবের জনবল ও আইনি কাঠামোর তথ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই এলিট ফোর্সের ৪৪ শতাংশ সদস্য পুলিশ থেকে এবং ৪২ শতাংশ সশস্ত্র বাহিনী থেকে এসেছেন। বাকি সদস্যরা এসেছেন আনসার ও ভিডিপি থেকে। মানবাধিকারকে সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, 'আমরা একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। যে আইনের অধীনে এলিট ফোর্স হিসেবে একটি বাহিনী থাকবে। র‍্যাবের নাম থাকবে, না পরিবর্তন করব, অথবা নতুন এলিট ফোর্স গঠন করব কি না; সেটা ভাবনার বিষয়, সরকার বিবেচনা করছে।'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নতুন আইনের মূল লক্ষ্য হবে প্রতিটি বাহিনীর ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। নতুন আইনে বাহিনীর কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া থাকবে, যা দেশে আইনের শাসন এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

র‍্যাবের ওপর আমেরিকার দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পতিত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদী সরকার তাদের একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের বাসনা থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করেছিল। আমেরিকা যখন র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, সেই সময় র‍্যাব রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। বিগত শাসনামলে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব কিংবা বিজিবি—এমন কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ছিল না যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের আইনি কাঠামো অপরাধ শেখায় না। কিছু কর্মকর্তার অতি-উৎসাহী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় পুরো বাহিনীর ওপর বর্তাতে পারে না। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'যদি কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী বিপদগ্রস্ত হন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মকর্তাদের নিজস্ব বাহিনীর আইনে জবাবদিহি এবং বিচারের মুখোমুখি করার জন্য ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।'

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত