স্ট্রিম সম্পাদকীয়

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় যেসব ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছেই প্রধান সমস্যা বলে বিবেচিত। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে দলটির সরকার গঠনের সময়ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় করে আনা ও জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণ মূল চ্যালেঞ্জ বলে বর্ণিত হয়েছিল।
সার নিয়ে সংকট ছিল না বলে এটি অবশ্য আলোচনায় ছিল না। বিএনপি সরকার তখন বরং কৃষকদের ব্যাংকঋণ মওকুফ ও ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষকের অতুলনীয় ভূমিকার জন্য তাদেরকে ন্যায়সঙ্গত সহায়তা জোগানোটা যে কোনো দায়িত্বশীল সরকারের কাছেই প্রত্যাশিত। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও এই অঙ্গীকার করা হয়েছিল। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সার বিতরণে কৃষকদের সমস্যা মোকাবিলার প্রসঙ্গটি আলোচিত হওয়ায় সেটাকে মানুষ ইতিবাচকভাবে নেবে। দেশের একটি স্থানে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বলে দেয়, সারা দেশে না হলেও কিছু স্থানে অন্তত এ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমেও সার প্রাপ্তিতে সমস্যা এবং এ জন্য কৃষকদের অতিরিক্ত দাম দিতে বাধ্য হওয়ার মতো পরিস্থিতির খবর আসছে। ভরা আমন মৌসুমে দেশের এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলেও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেটা উদ্বেগজনক। সারের মজুতে কোনো ঘাটতি নেই এবং আমদানি প্রক্রিয়াও চলমান বলে ব্যাখ্যা দেওয়াটাই এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। সার বিতরণে অনিয়ম হয়ে থাকলে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতিটি কৃষকের অনুকূলে আনতে হবে। সরকার পরিবর্তনের সুবাদে কোনো মহল এর সুবিধা নিতে চাইলে তাদের মুখের দিকে না তাকিয়ে ব্যবস্থা নেওয়াটাই কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। আমরা আশা করব, বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে ইস্যুটি আলোচিত হওয়ায় সার সংকট মোকাবিলার কাজে দ্রুত অগ্রগতি হবে।
নির্বাচিত সরকার আসার পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে অবনতির ধারা চলছে বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। কেবল তথ্য-পরিসংখ্যান নয়; মানুষের নিরাপত্তাবোধের ঘাটতিও সেটা বলে দিচ্ছে। বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানা গেল, তাতে এটিও রয়েছে—ক্ষমতাসীন দলের একশ্রেণির লোকও কোথাও কোথাও ‘মবে’ জড়িত বলে প্রতীয়মান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সে ক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় না দিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটাই হওয়া উচিত আইনের শাসনে বিশ্বাসী যে কোনো সরকারের অবস্থান। ক্ষমতাসীন দলের নামে অপকর্ম করা লোকজনকে শায়েস্তা করা হলে এর বাইরে থাকা সন্ত্রাসীদের দমন করাটা সহজ হয়ে যায়। যেকোনো রাজনৈতিক ব্যানারেই হোক—মব আর চলতে দেওয়া যাবে না। এরই মধ্যে সমাজ ও অর্থনীতিতে এটা সৃষ্টি করেছে গভীর ক্ষত, যার উপশম বরং প্রয়োজন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিএনপি সরকার একের পর এক জ্বালানিসংক্রান্ত যে সমস্যা মোকাবিলা করছে, তার দায় অবশ্য বর্তমান সরকারের নয়। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ শাসনামলে জ্বালানি খাতে অনুসৃত আমদানিনির্ভর কাঠামোটি দ্রুত বদলানোও সম্ভব নয়। ইরান যুদ্ধ আবার এতে সৃষ্টি করেছে নেতিবাচক অভিঘাত। সরকার অর্থ সংকটে থাকাতেও বাড়তি এ সমস্যা সহজে মোকাবিলা করা যাচ্ছে না। বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে কেউ দ্বিমত করবে না। জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর ইস্যুতে অপপ্রচারের সদুত্তর দেওয়ার ওপর সেখানে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে জোর দিয়েছেন, তারও প্রয়োজন নিশ্চয় রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আলোচ্য বিষয়গুলোয় যত দ্রুত সম্ভব দৃশ্যমান উন্নতি আনা এবং সরকার যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম, জনমনে সেই আস্থা জাগিয়ে তোলা। মেয়াদের ছয় মাস ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত বলেও মানুষ তার জীবনের প্রধান ক্ষেত্রগুলোয় সরকারের ‘পারফরম্যান্স’ মূল্যায়নে এখন কঠোর হবে। মন্ত্রিসভায় কিছু রদবদল হওয়ার পর সরকারের কাছে প্রত্যাশাও বাড়বে। দায়িত্বটা অবশ্য কেবল মন্ত্রীদের নয়। প্রশাসনকেও সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করতে হবে। জাতীয় সংসদেও হতে হবে এর জবাবদিহি। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় জনজীবনের প্রধান সমস্যাগুলো আলোচিত হওয়ার ঘটনাটিও সেই প্রক্রিয়ার অংশ বলে বিবেচিত হবে।

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় যেসব ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছেই প্রধান সমস্যা বলে বিবেচিত। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে দলটির সরকার গঠনের সময়ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় করে আনা ও জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণ মূল চ্যালেঞ্জ বলে বর্ণিত হয়েছিল।
সার নিয়ে সংকট ছিল না বলে এটি অবশ্য আলোচনায় ছিল না। বিএনপি সরকার তখন বরং কৃষকদের ব্যাংকঋণ মওকুফ ও ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষকের অতুলনীয় ভূমিকার জন্য তাদেরকে ন্যায়সঙ্গত সহায়তা জোগানোটা যে কোনো দায়িত্বশীল সরকারের কাছেই প্রত্যাশিত। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও এই অঙ্গীকার করা হয়েছিল। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সার বিতরণে কৃষকদের সমস্যা মোকাবিলার প্রসঙ্গটি আলোচিত হওয়ায় সেটাকে মানুষ ইতিবাচকভাবে নেবে। দেশের একটি স্থানে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বলে দেয়, সারা দেশে না হলেও কিছু স্থানে অন্তত এ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমেও সার প্রাপ্তিতে সমস্যা এবং এ জন্য কৃষকদের অতিরিক্ত দাম দিতে বাধ্য হওয়ার মতো পরিস্থিতির খবর আসছে। ভরা আমন মৌসুমে দেশের এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলেও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেটা উদ্বেগজনক। সারের মজুতে কোনো ঘাটতি নেই এবং আমদানি প্রক্রিয়াও চলমান বলে ব্যাখ্যা দেওয়াটাই এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। সার বিতরণে অনিয়ম হয়ে থাকলে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতিটি কৃষকের অনুকূলে আনতে হবে। সরকার পরিবর্তনের সুবাদে কোনো মহল এর সুবিধা নিতে চাইলে তাদের মুখের দিকে না তাকিয়ে ব্যবস্থা নেওয়াটাই কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। আমরা আশা করব, বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে ইস্যুটি আলোচিত হওয়ায় সার সংকট মোকাবিলার কাজে দ্রুত অগ্রগতি হবে।
নির্বাচিত সরকার আসার পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে অবনতির ধারা চলছে বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। কেবল তথ্য-পরিসংখ্যান নয়; মানুষের নিরাপত্তাবোধের ঘাটতিও সেটা বলে দিচ্ছে। বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানা গেল, তাতে এটিও রয়েছে—ক্ষমতাসীন দলের একশ্রেণির লোকও কোথাও কোথাও ‘মবে’ জড়িত বলে প্রতীয়মান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সে ক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় না দিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটাই হওয়া উচিত আইনের শাসনে বিশ্বাসী যে কোনো সরকারের অবস্থান। ক্ষমতাসীন দলের নামে অপকর্ম করা লোকজনকে শায়েস্তা করা হলে এর বাইরে থাকা সন্ত্রাসীদের দমন করাটা সহজ হয়ে যায়। যেকোনো রাজনৈতিক ব্যানারেই হোক—মব আর চলতে দেওয়া যাবে না। এরই মধ্যে সমাজ ও অর্থনীতিতে এটা সৃষ্টি করেছে গভীর ক্ষত, যার উপশম বরং প্রয়োজন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিএনপি সরকার একের পর এক জ্বালানিসংক্রান্ত যে সমস্যা মোকাবিলা করছে, তার দায় অবশ্য বর্তমান সরকারের নয়। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ শাসনামলে জ্বালানি খাতে অনুসৃত আমদানিনির্ভর কাঠামোটি দ্রুত বদলানোও সম্ভব নয়। ইরান যুদ্ধ আবার এতে সৃষ্টি করেছে নেতিবাচক অভিঘাত। সরকার অর্থ সংকটে থাকাতেও বাড়তি এ সমস্যা সহজে মোকাবিলা করা যাচ্ছে না। বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে কেউ দ্বিমত করবে না। জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর ইস্যুতে অপপ্রচারের সদুত্তর দেওয়ার ওপর সেখানে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে জোর দিয়েছেন, তারও প্রয়োজন নিশ্চয় রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আলোচ্য বিষয়গুলোয় যত দ্রুত সম্ভব দৃশ্যমান উন্নতি আনা এবং সরকার যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম, জনমনে সেই আস্থা জাগিয়ে তোলা। মেয়াদের ছয় মাস ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত বলেও মানুষ তার জীবনের প্রধান ক্ষেত্রগুলোয় সরকারের ‘পারফরম্যান্স’ মূল্যায়নে এখন কঠোর হবে। মন্ত্রিসভায় কিছু রদবদল হওয়ার পর সরকারের কাছে প্রত্যাশাও বাড়বে। দায়িত্বটা অবশ্য কেবল মন্ত্রীদের নয়। প্রশাসনকেও সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করতে হবে। জাতীয় সংসদেও হতে হবে এর জবাবদিহি। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় জনজীবনের প্রধান সমস্যাগুলো আলোচিত হওয়ার ঘটনাটিও সেই প্রক্রিয়ার অংশ বলে বিবেচিত হবে।
.png)

সম্প্রতি দেশে প্রসাধনসামগ্রী, তেল বা দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করলে এই আলোচনা খুবই জরুরি। ঠিক একইভাবে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মিশে থাকা আরও একধরনের ভয়ংকর রাসায়নিক সম্পর্কে পাঠকদের জানাতে ও সচেতন করতেই আমার এই লেখা।
১৩ ঘণ্টা আগে
আকস্মিক প্রলয়ঙ্করী বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে নেপালের অনেক জনপদ, বহু স্থাপনা। সংলগ্ন চীন সীমান্তেও ধস নেমেছে। এ সম্পাদকীয় লেখার সময় পর্যন্ত নিহত দেড় শতাধিক মানুষ। নিখোঁজ প্রায় তেরো শতাধিক, যাদের মধ্যে সাত শতাধিক বিদেশি পর্যটক। বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ ও সড়ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন।
২৭ আগস্ট ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে আজ। আইন প্রণয়নমূলক কাজের পাশাপাশি এই অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন করা। নতুন সংসদের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করবে এসব কমিটি কতটা স্বাধীন, সক্রিয় ও কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম তার ওপর।
২৭ আগস্ট ২০২৬
পৃথিবীর ৬০ ভাগেরও বেশি কৃষি জমি কীটনাশক দূষণের ঝুঁকিতে এবং ৩০ ভাগেরও বেশি জমি উচ্চ ঝুঁকিতে। এইসব কীটনাশক ব্যবহারের নীতিমালা থাকলেও অধিকাংশ কৃষক তা জানে না এবং মানে না।
২৭ আগস্ট ২০২৬