পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দিল্লিতে দম্পতি গ্রেপ্তার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৫২
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই দম্পতিকে আটক করে। সংগৃহীত ছবি
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই দম্পতিকে আটক করে। সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দিল্লিতে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দিল্লি পুলিশের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ সাহিল ও তার স্ত্রী সামিরা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছে ভারতের সিমকার্ড পাচার করেছিলেন। যেগুলোর মাধ্যমে হোয়াটঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে ভারতের গোপনীয় তথ্য হাতে পায় আইএসআই। খবর হিন্দুস্তান টাইমস

তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে ৮টি সিমকার্ড দুবাই হয়ে পাকিস্তানে পাচার করা হয়। এ জন্য আইএসআই সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল এই দম্পতিকে। তাদের পাচার করা সিমকার্ডগুলো দিয়ে পাকিস্তান থেকে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। এসব অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতেন আইএসআইয়ের এজেন্টরা। তারা ভারতীয় মোবাইল নম্বরে খোলা অ্যাকাউন্ট দিয়ে ভারতের বিভিন্ন লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এমনকি এসব অ্যাকাউন্ট ভারতীয় বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও যুক্ত হয়েছিল। এর মাধ্যমে পাকিস্তানি গোয়েন্দারা ভারতের স্পর্শকাতর ও গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে নিয়েছিল।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সাহিল ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট। তিনি একজন আইনজীবীর সঙ্গে কাজ করতেন। তবে ২০২২ সালের জুনে তিনি সেই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে বেকার ছিলেন। অন্যদিকে অনলাইনে বিএ পাস করা সামিরা একটি কল সেন্টারে কাজ করতেন। তাদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এগুলোতে তাদের সঙ্গে আইএসআই নেটওয়ার্ক রক্ষাকারীদের ‘দুরভিসন্ধিমূলক’ চ্যাটের প্রমাণ রয়েছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, সাহিল তার বন্ধু (পরবর্তীতে স্ত্রী) সামিরার মাধ্যমে ইনস্টাগ্রামে এক পাকিস্তানি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যিনি পরবর্তীতে এই দম্পতিকে পাকিস্তানি এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ওই কর্মকর্তা টাকার লোভ দেখিয়ে ধীরে ধীরে সাহিল ও সামিরাকে তাদের জালে ফেলে এবং গুপ্তচরবৃত্তি ও মাঠপর্যায়ের কাজের জন্য দিল্লিতে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়াসহ নতুন লোক নিয়োগের কাজে নামায়।

পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (স্পেশাল সেল) নারা চৈতন্য জানিয়েছেন, এই দম্পতিকে ভারতে লোক নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাদের কাজ ছিল বিভিন্ন সেনা ছাউনিতে নজরদারি চালানো এবং যেসব ভারতীয় সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে বিচার (কোর্ট-মার্শাল) চলছে, তাদের তথ্য গোপনে পাচার করা।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে, সাহিল ও সামিরাকে শনাক্তের পর গ্রেপ্তার করা হয়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত